
সৈয়দ মুজতবা আলী বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “দুনিয়াটা মস্ত বড়, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের লাল ইটের মায়া না কাটালে জীবনটাই বৃথা!” ১৯২১ সালের ১ জুলাই শাহবাগের ৬০০ একর জমির ওপর যখন এই বিদ্যাপীঠ যাত্রা শুরু করে, তখন শিক্ষক ছিলেন মাত্র ৬০ জন আর ছাত্র ৮৭৭ জন। সেই ছোট্ট চারাগাছটিই আজ ৩৮,০০০ শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখর এক বিশাল মহীরুহ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই আঙিনা কেবল বই-খাতার ধুলোয় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জন্ম দিয়েছে অজস্র ঐতিহাসিক ঘটনার। ১৩টি ফ্যাকাল্টি আর ৮৩টি বিভাগের এই চত্বরটি যে কেন ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ হিসেবে দুনিয়া কাঁপিয়েছে, তা এর রাজকীয় স্থাপত্য আর তারুণ্যের উন্মত্ততা না দেখলে বোঝা দায়।
আপনি যদি স্রেফ স্থাপত্যের নেশায় ঘোরেন কিংবা ইতিহাসের গন্ধ শুঁকতে ভালোবাসেন, তবে কার্জন হল থেকে রাজু ভাস্কর্য—প্রতিটি মোড় আপনাকে নতুন কোনো গল্প শোনাবে। চলুন, এক চক্কর ঘুরে আসা যাক বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড থেকে।
কী দেখবেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণা ইতিহাসের সাক্ষী। স্থাপত্যের বিস্ময় দেখতে চাইলে চলে যান লাল ইটের ‘কার্জন হল’ কিংবা ‘সিনেট ভবনে’। শিল্পের ছোঁয়া পাবেন ‘চারুকলা ইনস্টিটিউট’ আর ‘অপরাজেয় বাংলা’র সামনে। ইতিহাসের গম্ভীর উপস্থিতি টের পাবেন ‘তিন নেতার মাজার’, ‘শহীদ মিনার’ আর ‘রাজু ভাস্কর্য’ চত্বরে। এছাড়া রয়েছে ‘কলা ভবন’, ‘কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি’, ‘বকুল তলা’, ‘কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর। আড্ডার প্রাণকেন্দ্র ‘টিএসসি’, ‘ডাকসু ভবন’, ‘মধুর ক্যান্টিন’, ‘হাকিম চত্বর’ আর ‘দোয়েল চত্বর’ মিস করা একদম চলবে না। অবসরে ঘুরে দেখতে পারেন ‘বাংলা একাডেমি’ কিংবা ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র তোড়ন’। এছাড়া অসংখ্য পুকুর, ফুলের বাগান আর সুউচ্চ দালানের মায়াবী পরিবেশ তো আছেই।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত (যেমন: উত্তরা, মিরপুর বা মতিঝিল) থেকে শাহবাগ বা নীলক্ষেতগামী যেকোনো বাসে উঠে পড়ুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও সহজে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যায়।
ক্যাম্পাসের ভেতরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য রিকশা সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম।
কোথায় খাবেন
ক্যাম্পাসে খাবারের বৈচিত্র্য আর স্বাদের কোনো তুলনা নেই। মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, ডাকসু বা হাকিম চত্বর এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে কম খরচে সেরা খাবারের খোঁজ পাবেন।
স্ন্যাকস: লাল চা, সমুচা, চপ, সিঙ্গারা, চিকেন প্যাটিস।
দুপুরের খাবার: ভাত, ডাল, আলুভর্তা এবং মুরগির মাংসের তরকারি।
স্পেশাল: মুরগি ও ডিম খিচুড়ি এবং জিভে জল আনা তেহারি।
ভ্রমণ টিপস
কার্জন হল বা লাইব্রেরি এলাকায় ঘোরার সময় শান্ত থাকুন যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে।
পরিবহন টিপস: ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা ভ্রমণ সবথেকে আরামদায়ক, তবে হেঁটে ঘুরলে প্রতিটি স্থাপত্য খুঁটিয়ে দেখা যায়। খাবার টিপস: মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহাসিক পরিবেশে চা-সিঙ্গারা খাওয়ার অভিজ্ঞতা মিস করবেন না।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই রাজধানী ঢাকার শাহবাগে প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পাসের ভেতর বিখ্যাত স্থাপত্যগুলো কী কী?
কার্জন হল, অপরাজেয় বাংলা, রাজু ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং তিন নেতার মাজার এখানকার অন্যতম প্রধান স্থাপত্য নিদর্শন।
বর্তমানে এখানে কতজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন?
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৮,০০০ শিক্ষার্থী এবং ১,৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide