
সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষায় বলতে গেলে, ইতিহাসের মায়া বড় অদ্ভুত! খোদ ঢাকা শহরের নাগালেই যে তুরাগ নদীর তীরে বিরুলিয়া নামের একখানা গ্রাম দশ-দশটি ঐতিহাসিক স্থাপনা বুক আগলে বসে আছে, তা ক’জনই বা জানে? সেই গ্রামের শেষ প্রান্তে গেলেই দেখা মিলবে জমিদার রজনীকান্ত ঘোষের বাড়ির, যাকে লোকে আজ বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি বলেই চেনে।
শুনে অবাক হবেন, এই বাড়িটি রজনীকান্ত ঘোষ আজ থেকে বহু বছর আগে জমিদার নলিনী মোহন সাহার কাছ থেকে ঠিক ৮৯৬০ টাকা ৪ আনায় কিনে নিয়েছিলেন। এখনকার দিনে তো ঐ টাকায় একখানা ভালো স্মার্টফোনও জোটে না, অথচ তখন পুরো একখানা রাজপ্রাসাদ হয়ে গেল!
বাড়ির সদরঘর থেকে শুরু করে ঘোড়াশালা—সবই আজ ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, অনেক জমিদার বাড়ি যেখানে আজ ধ্বংসস্তূপ বা সরকারি গুদাম, সেখানে এই বাড়িতে এখনো রজনীকান্ত ঘোষের বংশধররা বাস করছেন। ঢাকার ঘিঞ্জি শহর থেকে ক্ষণিক মুক্তি পেতে আর ইতিহাসের গন্ধ শুঁকতে বিরুলিয়ার এই জমিদার বাড়ি হতে পারে আপনার সেরা আস্তানা।
কী দেখবেন
বিরুলিয়া গ্রামটি মূলত তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত এবং এখানে দশটিরও বেশি প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। তবে মূল আকর্ষণ হলো রজনীকান্ত ঘোষের জমিদার বাড়িটি। এই সুবিশাল বাড়িতে আপনি দেখতে পাবেন সেই আমলের সদরঘর, বিশ্রামঘর, বিচারঘর, পেয়াদাঘর এবং ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াশালা। যদিও রজনীকান্ত ঘোষের অনেক সম্পত্তি হাতছাড়া হয়েছে, কিন্তু এই বাড়িটি এখনো বেদখল হয়নি। বর্তমানে তাঁর বংশধররা এখানে বসবাস করছেন, তাই বাড়িটির বিভিন্ন ঘর এখন ভিন্ন ভিন্ন পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে প্রাচীন স্থাপত্যের এই মেলবন্ধন আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে মিরপুর ১ নম্বর সেক্টরে চলে আসুন।
মিরপুর ১ থেকে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, কিরণমালা পরিবহন বা শতাব্দী পরিবহণের বাসে উঠে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজে নামুন। বিকল্প হিসেবে লেগুনাও ব্যবহার করতে পারেন।
বিরুলিয়া ব্রিজ থেকে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলেই গ্রামের ভেতর দিয়ে জমিদার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।
উত্তরা বা আব্দুল্লাহপুর দিক থেকে আসতে চাইলে আশুলিয়া হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে মিরপুর ১ গামী যেকোনো গাড়িতে উঠে বিরুলিয়া ব্রিজে নামা যাবে।
ভ্রমণ টিপস
যেহেতু জমিদার বাড়িতে এখনো জমিদারের বংশধররা বসবাস করছেন, তাই ভেতরে প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে ভুলবেন না।
পরিবহন টিপস: মিরপুর ১ থেকে বাসে গেলে যাতায়াত খরচ যেমন সাশ্রয়ী হয়, তেমনি তুরাগ তীরের পরিবেশটাও উপভোগ করা যায়। ফটোগ্রাফি টিপস: বাড়ির ভেতরে কারো ব্যক্তিগত কাজে বিঘ্ন না ঘটিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করুন।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বিরুলিয়া জমিদার বাড়িটি রজনীকান্ত ঘোষ কত টাকায় কিনেছিলেন?
স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার রজনীকান্ত ঘোষ এই বাড়িটি জমিদার নলিনী মোহন সাহার কাছ থেকে ৮৯৬০ টাকা ৪ আনায় কিনেছিলেন।
জমিদার বাড়ির ভেতরে বর্তমানে কী কী স্থাপনা দেখার মতো আছে?
বাড়ির মূল কাঠামোর সাথে এখনো সদরঘর, বিশ্রামঘর, বিচারঘর, পেয়াদাঘর এবং ঘোড়াশালাগুলো টিকে আছে।
ঢাকার ভেতর থেকে বিরুলিয়া যাওয়ার সবথেকে সহজ উপায় কী?
সবথেকে সহজ উপায় হলো মিরপুর ১ থেকে আলিফ এন্টারপ্রাইজ বা শতাব্দী পরিবহণের বাসে সরাসরি বিরুলিয়া ব্রিজে যাওয়া এবং সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বাড়িতে পৌঁছানো।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide