
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “হে বৎস, নক্ষত্রপুঞ্জ দেখিতে যদি চন্দ্রমন্ডলে যাইতে না পারো, তবে বিজয় সরণির মোড়েই তশরিফ আনো!” আসলেই তো, অজানাকে জানার সেই চিরন্তন আদিখ্যেতা মেটাতে এর চেয়ে খাসা জায়গা আর দুটি নেই। ২০০৪ সাল থেকে ঢাকার ঠিক মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই মহাকাশ-বিস্ময়, যা আগে ‘ভাসানী নভোথিয়েটার’ নামেই পরিচিত ছিল।
এখানে পা রাখা মানেই সায়েন্স ফিকশনের ভেতরে ঢুকে পড়া। ১২০ ডিগ্রির বিশাল পর্দায় যখন অ্যাস্ট্রোভিশনের কারসাজি শুরু হয়, মনে হয় আপনি নিজেই বুঝি কোনো স্পেসশিপের সওয়ারি হয়ে গ্যালাক্সির ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সাথে যদি জোটে ৫-ডি মুভি থিয়েটার আর সিমুলেটর রাইড, তবে তো সোনায় সোহাগা!
কেবল সস্তা বিনোদন নয়, বরং বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি আর গ্রহ-নক্ষত্রের হালচাল বুঝতে আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্যই এ এক জবরদস্ত সওদা। ১৫০ সিটের মিলনায়তন থেকে শুরু করে কনফারেন্স রুম—সবই আছে এখানে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, মহাকাশে যাওয়ার এই ‘লোকাল বাস’ অর্থাৎ নভোথিয়েটার ভ্রমণের সাতকাহন।
কী দেখবেন
নভোথিয়েটারে গেলে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য! মূল আকর্ষণ হলো প্ল্যানেটেরিয়াম, যেখানে ১২০ ডিগ্রী কোণের বিশাল পর্দায় হাই-টেক প্রক্ষেপণ যন্ত্রের সাহায্যে স্কাইক্যান ভিডিও আর অ্যাস্ট্রোভিশন ছবি দেখানো হয়। মনে হবে আপনি সত্যিই মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া রয়েছে ৫-ডি মুভি থিয়েটার এবং ৫-ডি ইণ্টেরিয়েকটিভ এডুটেইনমেণ্ট সিমুলেটর। ছোট-বড় সবার রোমাঞ্চের জন্য আছে ৩০ আসনের রাইড সিমুলেটর, যেখানে রেসিং কার, অ্যাক্রোবেটিক এ্যারোপ্লেন, মনোরেল, স্পেস ক্র্যাপ্ট, এমনকি প্রাচীন পিরামিডের কোস্টারে চড়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। গ্যালারিতে গেলে দেখবেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি, ডিজিটাল সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস এবং সৌরজগতের চমৎকার প্রতিরূপ। আধুনিক সব সুবিধার জন্য আছে লিফট, র্যাম্প এবং পার্কিং ব্যবস্থা।
কীভাবে যাবেন
মেট্রো রেলে চড়ে ফার্মগেট স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে ৫-৭ মিনিট হাঁটা পথ অথবা রিকশায় বিজয় সরণি মোড়।
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বিজয় সরণি মুখী বাসে উঠে সরাসরি মোড়ে নামা যায়। ভাড়া এলাকাভেদে ২০-৬০ টাকা।
ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে চাইলে উবার বা পাঠাও অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি বিজয় সরণি মোড়ে চলে আসুন।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
প্ল্যানেটেরিয়ামের প্রদর্শনীতে ২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য কোনো খরচ নেই। বাকি সবার টিকেট মূল্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।
[TABLE]
সেবা/প্রদর্শনী|টিকেটের মূল্য (জনপ্রতি)|শর্তাবলী
প্ল্যানেটেরিয়াম প্রদর্শনী|১০০ টাকা|২ বছরের নিচে শিশুদের টিকেট লাগে না
ডিজিটাল ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস|১০০ টাকা|সবার জন্য প্রযোজ্য
৫ ডি মুভি থিয়েটার|৫০ টাকা|অতিরিক্ত ফি
৫ ডি ইণ্টেরিয়েকটিভ এডুটেইনমেণ্ট|৫০ টাকা|অতিরিক্ত ফি
রাইড সিমুলেটর|২০ টাকা|জনপ্রতি
প্রদর্শনীর সময়সূচি:
শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার: ১০:৩০ মি, ১২:০০ মি, ০২:০০ টা, ০৩:৩০ মি এবং ০৫:০০ টা।
শুক্রবার: ১০:০০ টা, ১১:৩০ মি, ০২:৩০ মি, ০৪:০০ টা এবং ০৫:৩০ মি।
বুধবার বন্ধ। সন্ধ্যা ৫টার প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে (মার্চ-অক্টোবর) হয়।
ভ্রমণ টিপস
টিকেট কাটার ঝামেলা এড়াতে যাওয়ার অন্তত ৩ দিন আগে অনলাইন বা টেলিটকের মাধ্যমে অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করুন।
টিকেট টিপস: আপনি চাইলে অনলাইনে (https://eticket.most.gov.bd) অথবা টেলিটক সিমের মাধ্যমে ৩ দিন আগেই অগ্রিম টিকেট কেটে রাখতে পারেন। সময় সচেতনতা: প্রদর্শনীর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানো ভালো। যোগাযোগ: যেকোনো প্রয়োজনে কল করতে পারেন +8802588852395 নম্বরে অথবা ইমেইল করতে পারেন bsmrnovotheatreraj@gmail.com ঠিকানায়।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
নভোথিয়েটার কবে বন্ধ থাকে?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রতি সপ্তাহের বুধবার বন্ধ থাকে। এছাড়া অন্য দিনগুলোতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রদর্শনী চলে।
বাচ্চাদের জন্য টিকেট কি বাধ্যতামূলক?
২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য কোনো টিকেটের প্রয়োজন নেই। তবে ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত মূল্যে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
সন্ধ্যার প্রদর্শনী কি সারা বছর হয়?
না, সন্ধ্যার প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন সময়ে অর্থাৎ মার্চ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চালু থাকে। শীতকালে সাধারণত বিকেলের শেষ প্রদর্শনী দিয়েই শেষ হয়।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide