
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “হে বঙ্গে, বৃক্ষ তলে বসিয়া যদি রোমাঞ্চ না পাইলে, তবে আর কি পাইলে!” ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের ষাইট্টা গ্রামে গেলে আপনার ঠিক এই অনুভূতিই হবে। সেখানে একটি বট আর একটি পাকুড় গাছ এমনভাবে মিতালি পাতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে, তাদের ডালপালা আর শিকড় ছড়াতে ছড়াতে এখন প্রায় ৫ বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে!
গল্পটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে, যখন দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষরা গাছ দুটি রোপণ করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস—বট হলো নারী আর পাকুড় হলো পুরুষ; তাই ঘটা করে সনাতন ধর্মানুসারে তাদের বিয়েও দেওয়া হয়েছে! কিন্তু সাবধান, এই গাছের ছায়ার নিচে আছে এক কালি মন্দির এবং এক গাদা গা ছমছমে লোককথা। শোনা যায়, মানত ছাড়া গাছের ডাল কাটলে নাকি রক্ষা নেই—অসুখ অবধারিত!
এমনকি রাস্তার প্রয়োজনেও কেউ এই গাছের গায়ে কুঠার চালানোর সাহস পায়নি; খোদ চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তা ঘুরিয়ে নিয়েছেন কিন্তু গাছের ডাল কাটেননি। ভৌতিক ভয় আর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের মিশেলে এই বিশালাকার বটগাছটি এখন পর্যটকদের জন্য এক পরম বিস্ময়।
কী দেখবেন
ষাইট্টা গ্রামের মূল আকর্ষণ হলো ৫০০ বছরের পুরনো পাশাপাশি অবস্থিত বট ও পাকুড় গাছ। গাছ দুটির বিস্তৃতি প্রায় ৫ বিঘা জমি জুড়ে। স্থানীয়রা গাছ দুটিকে দেবতা জ্ঞান করেন এবং এর নিচে একটি কালি মন্দির স্থাপন করেছেন। এখানে বট ও পাকুড়ের ‘বিয়ে’র এক অদ্ভুত ঐতিহ্য প্রচলিত আছে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এই বটগাছের নিচে বিশাল লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া গাছের ডাল কাটলে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং রাতের বেলা নানা অলৌকিক ঘটনার লোককথা এই স্থানটিকে রহস্যময় করে তুলেছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জগামী বাসে উঠে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা নামক স্থানে নামতে হবে।
ঢুলিভিটা থেকে অটোতে করে ভাড়ায় ধামরাই বাজার আসতে হবে।
ধামরাই বাজার থেকে সরাসরি যাদবপুর ইউনিয়নের ষাইট্টা গ্রামে যাওয়ার অটো ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।
বিকল্প উপায় হিসেবে গুলিস্তান থেকে সরাসরি ধামরাইগামী বাসে চড়ে ধামরাই নেমে রিকশা বা অটো নিতে পারেন। এছাড়া গাবতলী থেকে জনসেবা বা এস.বি. লিংক বাসে মহিষাশী বাজার এসে সেখান থেকে সিএনজিতে কুশুরা হয়ে অটোতে ষাইট্টা যাওয়া সম্ভব।
ভ্রমণ টিপস
পহেলা বৈশাখের দিন গেলে বটগাছ তলার বিশেষ উৎসব ও গ্রামীণ মেলার আমেজ পাওয়া যায়।
safety tip: স্থানীয়দের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গাছের ডালপালা কাটা বা ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।
transport tip: ধামরাই বাজার থেকে সরাসরি অটো পাওয়া সহজ, তাই এই রুটটি ব্যবহার করা সময় সাশ্রয়ী হতে পারে।
সতর্কতা
স্থানীয়রা রাতের বেলা এখানে ভৌতিক ঘটনার কথা বলেন, তাই একা বা রাতে সেখানে না যাওয়াই ভালো।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ষাইট্টা বটগাছটি কত বড় এবং এটি কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ষাইট্টা গ্রামে অবস্থিত এবং এর ডালপালা ও মূল প্রায় ৫ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত।
এই গাছ নিয়ে স্থানীয়দের বিশেষ বিশ্বাস কী?
স্থানীয়রা মনে করেন পাকুড় গাছটি পুরুষ এবং বটগাছটি নারী, তাই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বাস করা হয় যে গাছের ডাল কাটলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পুজো দেওয়া ছাড়া তা সারে না।
ষাইট্টা গ্রামে যাওয়ার সহজ উপায় কী?
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুলিস্তান বা গাবতলী থেকে বাসে ধামরাই এসে সেখান থেকে রিকশা বা অটো ভাড়া করে সরাসরি ষাইট্টা গ্রামে চলে যাওয়া।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide