
ভায়া, ভাবুন তো একবার, করাচির তপ্ত মরুর বুকে এক চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে পরম অবহেলায় পড়ে ছিলেন বাংলার এক সূর্যসন্তান। যাঁর ধমনীতে বইছিল স্বাধীনতার তীব্র নেশা, যিনি ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট আকাশপথে শত্রুবিমানের দখল নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রিয় স্বদেশের পানে। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে বিমানটি বিধ্বস্ত হলেও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সেই অসম সাহসিকতা আজও আমাদের রক্তে দোলা দেয়।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষায় বলতে গেলে, ‘স্বদেশী বীরের হাড় গোড় যখন বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকে, তখন স্বদেশের মাটিও তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠে।’ দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালে সেই তৃষ্ণা মেটে। পাকিস্তান থেকে তাঁর দেহাবশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফিরিয়ে এনে ঢাকার মিরপুরে সমাহিত করা হয়। আজ সেই বীরের সমাধির সামনে দাঁড়ালে অজান্তেই মাথা নুয়ে আসে শ্রদ্ধায়।
পুরান ঢাকার ‘মোবারক লজ’-এ ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মানো সেই ছেলেটি যে একদিন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর পদ ছেড়ে দেশের টানে প্রাণ দেবে, তা হয়তো ইতিহাস নিজেই লিখে রেখেছিল। মিরপুর ১-এর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গেলেই দেখা মিলবে ইতিহাসের সেই অমর মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়ের।
কী দেখবেন
মিরপুর ১-এর মাজার রোডে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধিটি অবস্থিত। এখানে এলে আপনি শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশে জাতির এই মহান বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। ২০০৬ সালের ২৫ জুন থেকে তিনি এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত। এছাড়া তাঁর জীবন ও কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে পারলে এই ভ্রমণটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। ১৯৪৩ সালে রিসালপুর থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন পাওয়া থেকে শুরু করে ১৯৭১-এ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সেই রোমহর্ষক কাহিনী স্মরণ করতে করতে সমাধি প্রাঙ্গণটি ঘুরে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে মিরপুর-১ গামী বাসে (যেমন: বিহঙ্গ, বিকল্প বা শিখর) উঠে পড়ুন।
বাস থেকে মিরপুর-১ এর মাজার রোড বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে।
মাজার রোড থেকে পায়ে হেঁটে অথবা রিকশায় করে সরাসরি শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পৌঁছাতে পারবেন, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি অবস্থিত।
নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে করে গেলে গাবতলী হয়ে মাজার রোড দিয়ে সরাসরি কবরস্থানে প্রবেশ করা যায়।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে কোথায় সমাহিত করা হয়েছে?
বর্তমানে তাঁর সমাধি ঢাকার মিরপুর ১-এর মাজার রোডে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রয়েছে। ২০০৬ সালে পাকিস্তান থেকে তাঁর দেহাবশেষ এনে এখানে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
তিনি কবে এবং কীভাবে শহীদ হন?
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তান থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করে বাংলাদেশে আসার পথে ভারতীয় সীমান্তের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। তাঁর মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে আধা মাইল দূরে পাওয়া গিয়েছিল।
তাঁর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে, যা বর্তমানে তাঁর সম্মানে ‘মতিনগর’ নামে পরিচিত।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide
