bangladesh · Editorial

বুড়িগঙ্গার প্রাণস্পন্দন: সদরঘাট নদী বন্দর ভ্রমণ গাইড ও ইতিহাস

ঢাকার ঐতিহ্যের সাক্ষী সদরঘাট। বুড়িগঙ্গার বুকে বিশাল সব লঞ্চ আর পুরান ঢাকার রাজকীয় খাবারের স্বাদ নিতে ঘুরে আসুন আজই। বিস্তারিত জানতে এখনই পড়ুন।

বুড়িগঙ্গার প্রাণস্পন্দন: সদরঘাট নদী বন্দর ভ্রমণ গাইড ও ইতিহাস

সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে বুড়িগঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে নির্ঘাত একটা আস্ত মহাকাব্য লিখে ফেলতেন! ঢাকার সদরঘাট মানে কেবল একটা লঞ্চ টার্মিনাল নয়, এ যেন এক জীবন্ত জাদুঘর। একপাশে হাজার বছরের ইতিহাসের ঘ্রাণ, অন্যপাশে বিশালকায় সব জলযানের গগনবিদারী সাইরেন—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড।

পদ্মা সেতু হওয়ার পর জৌলুশ কিছুটা কমলেও, সদরঘাটের সেই চিরচেনা হাঁকডাক আর ব্যস্ততা বিন্দুমাত্র কমেনি। নদীর ঘোলা জলের ওপর যখন সারি সারি চারতলা লঞ্চগুলো রাজকীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন মনে হয় যেন কোনো এক নৌ-রাজ্যের রাজধানীতে ঢুকে পড়েছি।

আপনি যদি পুরান ঢাকার অলিগলি আর বুড়িগঙ্গার হিমেল হাওয়ার ভক্ত হন, তবে সদরঘাট আপনার জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। চলুন, আজকের ডায়েরিতে ঝালিয়ে নিই সদরঘাটের নাড়িনক্ষত্র।

কী দেখবেন

সদরঘাটে গেলে আপনার চোখ সবার আগে আটকে যাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর সুন্দর সব নৌযান বা লঞ্চগুলোর ওপর। ঘাটে গেলে যখন-তখন এই দানবাকৃতি সুন্দরীদের দেখা মেলে। চাইলে ঘুরে ঘুরে লঞ্চের অন্দরমহলও দেখতে পারেন, যা এক ভিন্নরকম অভিজ্ঞতার জন্ম দেবে।

এছাড়া ছোট্ট ডিঙি নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ভ্রমণ করাটা এক আবশ্যিক কাজ। নদীর ওপার থেকে সদরঘাটের দৃশ্যটা দেখতে দারুণ লাগে। সদরঘাটের খুব কাছেই রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী আহসান মঞ্জিল, সময় হাতে থাকলে নবাবদের সেই রাজপ্রাসাদেও ঢুঁ মারতে পারেন। আশেপাশে আরও আছে বাহাদুর শাহ পার্ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্মেনিয়ান চার্চের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা।

কীভাবে যাবেন

পয়েন্ট এ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস বা বাসে করে প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আসতে হবে।

পয়েন্ট বি: সদরঘাট প্রবেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে বা পায়ে হেঁটে ৫-১০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন সদরঘাট।

বিকল্প পথ: গুলিস্তান হয়ে

গুলিস্তান মোড় থেকে সরাসরি রিকশা বা ঘোড়ার গাড়িতে করেও সদরঘাট আসা যায়। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি বা সিএনজিতে সরাসরি ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব।

কোথায় খাবেন

সদরঘাটের সামনেই সাধারণ মানের কিছু খাবারের দোকান আছে। তবে জুতসই খাবারের জন্য আপনাকে যেতে হবে লক্ষীবাজার, নারিন্দা বা নাজিরা বাজারে। জনসন রোডের বিখ্যাত হোটেল স্টার, বাংলাবাজারের নিউ ক্যাফে কর্ণার কিংবা ঐতিহ্যের আধার বিউটি বোর্ডিং পুরান ঢাকার খুবই পরিচিত জায়গা।

বাজেট নিয়ে চিন্তা না থাকলে আপনি যেতে পারেন Buriganga Riverview Restaurant-এ। এখান থেকে আয়েশ করে বসে বুড়িগঙ্গা আর সদরঘাটের অনবদ্য দৃশ্য উপভোগ করতে করতে ডিনার বা লাঞ্চ সেরে নিতে পারবেন।

ভ্রমণ টিপস

⭐ দরকারী টিপ

সদরঘাটের প্রকৃত রূপ দেখতে চাইলে এবং যানজট এড়াতে চাইলে খুব সকালে অথবা পড়ন্ত বিকেলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

যাতায়াত টিপ: পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় যানজট বেশি থাকে, তাই রিকশা বা পায়ে হাঁটা অনেক সময় দ্রুততর হয়। আশেপাশের স্পট: হাতে সময় থাকলে একদিনের প্ল্যানে সদরঘাটের সাথে লালবাগ কেল্লা, তারা মসজিদ আর আর্মেনিয়ান চার্চ ঘুরে দেখতে পারেন।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

সদরঘাট থেকে বর্তমানে কয়টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে?

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলাসহ প্রায় ৪৫টি পথে নিয়মিত লঞ্চ ও স্টিমার চলাচল করে।

সদরঘাটের ইতিহাস কত বছরের পুরনো?

ইতিহাসবিদদের মতে, সদরঘাটের বয়স প্রায় হাজার বছর। প্রাচীন জনপদ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ এই নদী বন্দরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল।

সদরঘাটের আশেপাশে দর্শনীয় কী কী আছে?

সদরঘাটের পাশেই রয়েছে আহসান মঞ্জিল, বাহাদুর শাহ পার্ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আর্মেনিয়ান চার্চ, তারা মসজিদ এবং লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.