
ভায়া, কাচঘেরা বাক্সে রাখা পুরনো আমলের মরিচা ধরা তলোয়ার দেখার দিন শেষ! আপনি যদি ভাবেন জাদুঘর মানেই ধুলোবালি মাখা একঘেয়ে ঘর, তবে বিজয় সরণির এই ১০ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আধুনিক স্থাপত্যটি আপনার সেই ধারণা নিমেষেই ভেঙে চুরমার করে দেবে। অটোমানদের সেই ঢাল-তলোয়ার থেকে শুরু করে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পলাশী যুদ্ধ, কিংবা আমাদের গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল—সবকিছু এখানে সাজানো হয়েছে প্রযুক্তির এমন কারিশমায় যে আপনার মনে হবে আপনি টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে ফিরে গিয়েছেন।
১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু হলেও ২০২২ সালের আধুনিকায়নের পর এটি এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বমানের। প্রবেশপথের ঝরনার জলকেলি আর বাইরের সবুজ উদ্যান পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই আপনার চোখে পড়বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী আর বিমান বাহিনীর জন্য আলাদা সব গ্যালারি। নিছক প্রদর্শনী নয়, বরং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম আর আমাদের সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্যের প্রতিটি বাঁক।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ঢঙে বলতে গেলে বলতে হয়, এ কেবল বন্দুক-কামানের মেলা নয়, এ হলো এক জ্যান্ত ইতিহাস। স্বাধীনতার আগের ও পরের সামরিক সাজ-সরঞ্জামগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে যে, বাচ্চা থেকে বুড়ো সবারই একবার সেখানে পা রাখলে তিন ঘণ্টা সময় যে কোন দিক দিয়ে উধাও হয়ে যাবে, টেরই পাবেন না!
কী দেখবেন
নভোথিয়েটারের ঠিক পাশেই ১০ একর জায়গায় বিস্তৃত এই জাদুঘরে রয়েছে মোট ছয়টি পৃথক অংশ। এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য নির্ধারিত গ্যালারিগুলোতে স্বাধীনতার আগের ও পরের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়েছে। প্রাচীন অটোমানদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের দুর্মূল্য সব স্মৃতিচিহ্ন এখানে সংরক্ষিত। এছাড়াও রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম ও অর্জনের বিশেষ উপস্থাপনা। জাদুঘর কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক স্থাপত্য, প্রবেশপথের চমৎকার ঝরনা এবং বাইরের মনোরম সবুজ উদ্যান এই স্থানটিকে ঢাকার অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি বা ট্যাক্সিতে করে বিজয় সরণি নভো থিয়েটারের পাশে চলে আসুন।
সবচেয়ে সহজে যেতে মেট্রো রেলে চড়ে বিজয় সরণি স্টেশনে নামুন, সেখান থেকে সামান্য পথ হাঁটলেই জাদুঘর।
ফার্মগেট, সংসদ ভবন বা চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় থাকলে রিকশা নিয়ে সরাসরি বা পায়ে হেঁটেও সামরিক জাদুঘরে পৌঁছানো সম্ভব।
কোথায় খাবেন
জাদুঘর কমপ্লেক্সের ভেতরেই রয়েছে ‘নীহারিকা রেস্টুরেন্ট’, যেখানে খাবারের মান বেশ উন্নত হলেও দাম কিছুটা চড়া। এছাড়া চটজলদি স্ন্যাকস ও কফির জন্য ভেতরে একটি সুন্দর কফি শপও রয়েছে। জাদুঘর এলাকার বাইরে খেতে চাইলে কাজী নজরুল রোডের পাশে অথবা সংসদ ভবন এভিনিউ রোডের ধারে অনেকগুলো ভালো মানের রেস্টুরেন্ট আপনার অপেক্ষায় আছে।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের প্রবেশের জন্য কোনো টিকেটের প্রয়োজন হয় না। টিকেট সরাসরি কাউন্টার ছাড়াও অনলাইনে bangladeshmilitarymuseum.org সাইট থেকে সংগ্রহ করা যায়।
| দর্শনার্থীর ধরণ | টিকেট মূল্য (টাকা) | সময়সূচি |
|---|---|---|
| দেশি সাধারণ দর্শনার্থী | ১৫০ | শনি, রবি, সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি: ১০:৩০ – ১৮:৩০ |
| সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থী | ৫০০ | শুক্রবার: ১৫:০০ – ১৯:৩০ |
| অন্যান্য বিদেশী দর্শনার্থী | ৮০০ | শনিবার: ১০:৩০ – ১৯:৩০ |
| ৫ বছরের নিচের শিশু | ফ্রি | বুধবার ও সরকারি ছুটি: বন্ধ |
ভ্রমণ টিপস
পুরো জাদুঘরটি ভালো করে ঘুরে দেখতে অন্তত ৩ ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে আসা ভালো।
transport tip: জ্যাম এড়াতে চাইলে মেট্রো রেলে বিজয় সরণি স্টেশনে নামা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। nearby attraction: হাতে বাড়তি সময় থাকলে খুব কাছেই থাকা নভোথিয়েটার, চন্দ্রিমা উদ্যান, বিমান বাহিনী জাদুঘর কিংবা সংসদ ভবন এলাকাটি ঘুরে নিতে পারেন। online tip: দীর্ঘ লাইন এড়াতে আগেভাগে অনলাইন থেকে টিকেট কেটে রাখা ভালো।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সামরিক জাদুঘর কি প্রতিদিন খোলা থাকে?
না, এটি সপ্তাহে প্রতি বুধবার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। সপ্তাহের বাকি ৬ দিন এটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকে।
শিশুদের জন্য প্রবেশের নিয়ম কী?
৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো প্রবেশ ফি বা টিকেটের প্রয়োজন হয় না। ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণ টিকেটের মূল্য প্রযোজ্য।
অনলাইনে টিকেট কেনার কোনো ব্যবস্থা আছে কি?
হ্যাঁ, আপনি চাইলে bangladeshmilitarymuseum.org/buy-ticket এই লিংকে ভিজিট করে অনলাইনেই আপনার টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide

