
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “দুনিয়াটা মস্ত বড়, কিন্তু তার আস্ত জ্ঞানটা যদি আগারগাঁওয়ের এক দালানে বন্দি থাকে, তবে কষ্ট করে অত দূরে যাওয়ার দরকার কী?” ১৯৬৫ সাল থেকে যাযাবরের মতো চামেলীবাগ আর ধানমন্ডি ঘুরে ১৯৮৭ সালে আগারগাঁও বিএনপি বাজারে থিতু হওয়া এই জাদুঘরটি এখন বিজ্ঞানের এক এলাহি কারবার। বছরে প্রায় দেড় লাখ আদম এখানে ভিড় জমান—কেউ ডাইনোসর দেখতে, কেউবা আবার আকাশের তারা গুনতে।
আপনি যদি ভাবেন বইয়ের পাতায় আটকে থাকা সেই নিরস পদার্থবিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞানের ফর্মুলাগুলোই এখানে আছে, তবে ভুল করবেন। এখানে খোদ বাংলাদেশের প্রথম আইবিএম কম্পিউটারটা ঝিমোচ্ছে, আর তার পাশেই সাজানো ভবিষ্যতের পৃথিবীর হাতছানি। ৭টি গ্যালারির অলিগলি পেরোলে আপনি শুধু শিখবেনই না, বরং বিজ্ঞানের জাদুতে রীতিমতো বুঁদ হয়ে থাকবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য এটা স্রেফ একটা জাদুঘর নয়, বরং হাতে-কলমে বিদ্যা জাহির করার এক বিশাল ময়দান। প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা—আজকালকার বাজারে একটা চা-সিঙাড়ার দামেও এর চেয়ে বেশি খরচ হয়। তবে শুধু ঢুকলেই তো হবে না, আকাশ দেখা আর ৪ডি মুভির খতিয়ানটাও জেনে রাখা ভালো।
কী দেখবেন
আগারগাঁওয়ের এই ৪ তলা ভবনের প্রতিটি কোণে বিস্ময় জমা। নিচতলায় পা রাখতেই দেখা পাবেন বিশাল এক ডাইনোসরের মূর্তি আর খুদেদের জন্য একটা ছোট্ট যুদ্ধ বিমান। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে সাতটি গ্যালারি। পদার্থবিজ্ঞান গ্যালারি আর জীববিজ্ঞান গ্যালারিতে বিজ্ঞানের গূঢ় রহস্য যেমন জানা যাবে, তেমনি পরমাণু কর্নারে আছে আণবিক শক্তির সুলুকসন্ধান। বিশেষ আকর্ষন হিসেবে শিল্পপ্রযুক্তি গ্যালারিতে পাবেন সেকালের প্রাচীন যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সব মেশিন, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম আইবিএম কম্পিউটারটি অন্যতম।
এছাড়া বিজ্ঞানীদের ব্যবহৃত জিনিসের সংগ্রহশালা তো আছেই। যারা একটু বিনোদন চান, তাদের জন্য আছে 4D/9D মুভি থিয়েটার, VR জোন আর টেলিস্কোপে আকাশ দেখার ব্যবস্থা। পাঠপিপাসুদের জন্য রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও কর্মশালা।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে চেপে সরাসরি আগারগাঁও স্টেশনে নামুন। স্টেশন থেকে রিকশায় অথবা ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই জাদুঘরে পৌঁছানো যাবে।
গুলিস্তান, মিরপুর বা উত্তরা—শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগারগাঁওগামী বাসে উঠে বিএনপি বাজার মোড়ে নামুন। ট্যাক্সি বা সিএনজিতে সরাসরি জাদুঘর গেটেই যাওয়া যায়।
শহরের ব্যস্ততা এড়াতে নিজস্ব গাড়ি বা বাইক নিয়ে আগারগাঁওয়ের প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারেন এই ঠিকানায়।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
জাদুঘরে প্রবেশের পাশাপাশি বিনোদনমূলক রাইড বা প্রদর্শনীগুলোর জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটির দিন এটি পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
| সেবা/প্যাকেজ | ফি (জনপ্রতি) | সময়কাল/বিস্তারিত |
|---|---|---|
| সাধারণ প্রবেশ টিকেট | ২০ টাকা | মূল ভবন ও গ্যালারি |
| 4D/9D মুভি | ৪০ টাকা | নির্ধারিত শো |
| VR মুভি | ২০ টাকা | ভার্চুয়াল রিয়েলিটি |
| টেলিস্কোপ (আকাশ পর্যবেক্ষণ) | ১০ টাকা | আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে |
গ্রীষ্মকালীন সময় (এপ্রিল-অক্টোবর):
রবি-বুধ: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা
শুক্রবার: বেলা ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭:০০
শনিবার: বেলা ১১:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০
শীতকালীন সময় (নভেম্বর-মার্চ):
রবি-বুধ: সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা
শুক্রবার: বেলা ৩:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০
শনিবার: বেলা ১০:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০
ভ্রমণ টিপস
লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে আগেই অনলাইন থেকে (https://eticket.most.gov.bd/) টিকেট কেটে রাখতে পারেন।
অ্যাক্টিভিটি টিপ: টেলিস্কোপে আকাশ দেখার পরিকল্পনা থাকলে পরিষ্কার আকাশে যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং সন্ধ্যার আগের শিফটগুলো বেছে নিন।
আশপাশের গন্তব্য: হাতে সময় থাকলে একই দিনে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর, নভোথিয়েটার কিংবা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন, কারণ এগুলো খুব কাছেই অবস্থিত।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কি প্রতিদিন খোলা থাকে?
না, এটি প্রতি বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো (রবি থেকে বুধবার সকাল ৯টা-৫টা) এবং শুক্র ও শনিবার নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকে।
জাদুঘরের টিকেট কি অনলাইনে কেনা যায়?
হ্যাঁ, আপনি https://eticket.most.gov.bd/ এই লিংকে গিয়ে অগ্রিম ই-টিকেট কাটতে পারবেন। তবে জাদুঘরের প্রবেশপথে অফলাইনেও টিকেট কাটার ব্যবস্থা আছে।
জাদুঘরে ৪ডি মুভি দেখার খরচ কত?
৪ডি বা ৯ডি মুভি দেখার জন্য জনপ্রতি টিকেটের দাম ৪০ টাকা। এছাড়া টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ দেখতে ১০ টাকা এবং ভিআর মুভির জন্য ২০ টাকা খরচ হবে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide
