bangladesh · Editorial

শহুরে ক্লান্তি দূর করতে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক: শ্যামপুর নদীর তীরের ভ্রমণ গাইড

ঢাকার শ্যামপুরে নদীর তীরে ২.৩ একর সবুজের সমারোহে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক। ২৪টিরও বেশি রাইড আর নদীর হিমেল হাওয়ায় সময় কাটাতে এখনই পড়ুন।

শহুরে ক্লান্তি দূর করতে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক: শ্যামপুর নদীর তীরের ভ্রমণ গাইড

সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে বুড়িগঙ্গার তীরের এই সবুজে ঘেরা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নির্ঘাত একটা আস্ত পালামৌ লিখে ফেলতেন! ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে বিআইডব্লিউটিএ যখন এই ২.৩ একরের বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কটি চালু করলো, তখন থেকেই এটি শ্যামপুরের বাসিন্দাদের জন্য এক পরম নিঃশ্বাসের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকে একে ‘শ্যামপুর ইকো পার্ক’ বা ‘বিআইডব্লিউটিএ ইকো পার্ক’ নামেও ডাকেন। কিন্তু নাম যা-ই হোক, নদীর তীরের এই খোলা হাওয়া আর সবুজের কারসাজি আপনাকে মুহূর্তেই যান্ত্রিক ঢাকার কথা ভুলিয়ে দেবে। ২৪টিরও অধিক রাইড আর ৯ ডি সিনেমার রোমাঞ্চ নিয়ে সাজানো এই পার্কটি পরিবার নিয়ে হুট করে ঘুরে আসার জন্য একদম জুতসই।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানেন? যারা ভোরবেলায় শরীরে একটু রোদ মাখতে বা ব্যায়াম করতে আসেন, তাদের জন্য কোনো প্রবেশ ফি লাগে না। বুড়িগঙ্গার জল হয়তো আগের মতো স্বচ্ছ নেই, কিন্তু এর তীরের হিমেল হাওয়া আর এই পার্কের শান্ত পরিবেশ এখনো মন ভালো করে দেওয়ার মতো রসদ জোগায়।

কী দেখবেন

২.৩ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে দেখার মতো আছে নদীর তীরের চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ। বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে হাঁটার জন্য রয়েছে দীর্ঘ রাস্তা, যেখানে নদীর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। রাইড প্রেমীদের জন্য আছে মেরী গো রাউন্ড, ক্যাপসুল, বুল ফাইট, স্ট্রাইকিং কার এবং ৯ ডি সিনেমা সহ ২৪টিরও বেশি আকর্ষণীয় রাইড। বাচ্চাদের জন্য এটি যেমন আনন্দের, বড়দের জন্যও বসার স্থান ও সবুজের মাঝে সময় কাটানো বেশ প্রশান্তিদায়ক। এছাড়া ক্ষুধা মেটানোর জন্য পার্কের ভেতরেই রয়েছে ফুড কোর্ট এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজস্ব নৌঘাট।

কীভাবে যাবেন

যাত্রাবাড়ি আগমন

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজস্ব গাড়ি বা পাবলিক বাসে করে প্রথমে যাত্রাবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছাতে হবে।

শ্যামপুর যাত্রা

যাত্রাবাড়ি থেকে অটোরিকশা বা বাসে চড়ে শ্যামপুর ইকো পার্কের দিকে রওনা দিতে হবে।

গন্তব্য

পার্কটি গেন্ডারিয়া থানা থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত; শ্যামপুর এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করলেই পার্কের গেটে নামিয়ে দেবে।

প্রবেশ ফি ও সময়সূচি

পার্কটি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা দর্শকদের জন্য খোলা থাকে। রাইড উপভোগ করার জন্য আলাদা খরচের প্রয়োজন হয়।

খাতবিবরণমূল্য (টাকা)
প্রবেশ ফিজনপ্রতি (সকাল ৮টার পর)৫০/-
মর্নিং ওয়াকভোরবেলা আগমনকারীদের জন্যবিনামূল্যে
রাইড ফিরাইড ভেদে খরচ৩০/- থেকে ১০০/-

সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।

ভ্রমণ টিপস

⭐ দরকারী টিপ

আপনি যদি ব্যায়াম বা মর্নিং ওয়াক করার উদ্দেশ্যে খুব ভোরে পার্কে যান, তবে কোনো প্রবেশ ফি ছাড়াই ঢুকতে পারবেন।

রাইড টিপ: বাচ্চাদের নিয়ে গেলে ৯ ডি সিনেমার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, এটি বেশ জনপ্রিয়। পরিবেশ টিপ: পার্কটি নদীর তীরে হওয়ায় বিকালের দিকে গেলে রোদের তীব্রতা কম থাকে এবং চমৎকার বাতাস উপভোগ করা যায়।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কটি কি প্রতিদিন খোলা থাকে?

হ্যাঁ, এটি সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

এই পার্কে কতগুলো রাইড আছে?

এই পার্কে মেরী গো রাউন্ড, বুল ফাইট এবং ৯ ডি সিনেমাসহ ২৪টিরও অধিক আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে।

পার্কের প্রবেশ মূল্য কত?

সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে ভোরে মর্নিং ওয়াক করতে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোনো ফি লাগে না।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.