
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেবের সেই সরস বর্ণনার ঢঙে যদি বলি—পুরান ঢাকার সরু গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন হুট করে বিশাল এক তোরণের সামনে দাঁড়াবেন, বুঝবেন ইতিহাসের এক পশলা সুবাস আপনার নাকে লাগছে। ১৭শ শতকে মোগল সম্রাট শাহজাহানের আমলে তৈরি এই হোসেনী দালান কেবল একটি ভবন নয়, এটি মূলত কারবালার প্রান্তরে শহীদ ইমাম হোসেনের স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল।
ভাবুন তো, আজ থেকে ৩০০ বছর আগে যখন পুরান ঢাকার এই নাজিমউদ্দিন রোড তৈরি হচ্ছিল, তখন থেকেই এই ইমামবাড়া দাঁড়িয়ে আছে তার আভিজাত্য নিয়ে। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে কবরস্থান, বাগান আর দিঘির যে শান্ত রূপ চোখে পড়বে, তা আপনাকে ঢাকার যান্ত্রিকতা ভুলিয়ে দিতে বাধ্য। এমনকি জাতীয় জাদুঘরেও এই দালানের একটি রুপার তৈরি রেপ্লিকা সযত্নে রাখা আছে, যা এর গুরুত্বের জানান দেয়।
বিশেষ করে মহরম মাসের প্রথম ১০ দিন এখানে যে সাজসাজ রব পড়ে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের সেই গম্ভীর আবহ আর উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে হোসেনী দালান যেন ইতিহাসের এক খোলা বই। চলুন, আজ এই মোগল স্থাপত্যের নাড়িনক্ষত্র জেনে নেওয়া যাক।
কী দেখবেন
হোসেনী দালানে প্রবেশের সময় প্রথমেই চোখে পড়বে বিশাল এক তোরণ। ভেতরে প্রবেশ করলেই শিয়া সম্প্রদায়ের একটি কবরস্থান, মূল ইমামবাড়া ভবন এবং চারদিকে ছড়ানো একটি মনোরম বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে। মূল ভবনের ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি টলটলে জলের দিঘি, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি বছর মহরম মাসের প্রথম ১০ দিন আশুরা উপলক্ষে এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এবং এখান থেকেই বিখ্যাত তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। ভবনটির স্থাপত্যশৈলীতে মোগল ঐতিহ্যের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে, যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা সিএনজিতে করে প্রথমে সায়দাবাদ অথবা গুলিস্থান বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে।
গুলিস্থান বা সায়দাবাদ থেকে সরাসরি একটি রিকশা নিয়ে চানখাঁরপুল এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
চানখাঁরপুল হয়ে নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত হোসেনী দালান বা ইমামবাড়ায় রিকশা আপনাকে সরাসরি নামিয়ে দেবে।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
হোসেনী দালান বা ইমামবাড়া পরিদর্শনের জন্য কোনো প্রবেশ ফি লাগে না। এটি প্রতিদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
| বার | সময়সূচি | প্রবেশ ফি |
|---|---|---|
| প্রতিদিন | সকাল ৭:০০ – রাত ১০:০০ | বিনামূল্যে |
ভ্রমণ টিপস
আশুরার সময় গেলে এখানকার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল আর উৎসবের বিশেষ রূপ দেখার সুযোগ মিলবে।
আশেপাশের স্পট: হাতে সময় থাকলে একদিনের প্ল্যানে হোসেনী দালানের সাথে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, সদরঘাট, রোজ প্যালেস এবং বিউটি বোর্ডিং ঘুরে দেখতে পারেন। পরিবেশ টিপ: এটি একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও স্মৃতিসৌধ, তাই ভেতরে প্রবেশের সময় শান্ত থাকা ও পরিবেশের গাম্ভীর্য বজায় রাখা জরুরি।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
হোসেনী দালানটি কবে এবং কার আমলে নির্মাণ করা হয়?
এটি আনুমানিক ১৭শ শতকে মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং স্থাপনাটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো।
এখান থেকে কি তাজিয়া মিছিল বের হয়?
হ্যাঁ, প্রতি বছর মহরম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে যে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের হয়, তা এই হোসেনী দালান থেকেই যাত্রা শুরু করে।
হোসেনী দালানে কি কোনো দিঘি আছে?
হ্যাঁ, হোসেনী দালানের মূল ভবনের ঠিক পেছনেই একটি বিশাল ও সুন্দর দিঘি রয়েছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide
