
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে নির্ঘাত বলতেন, “পকেটে রেস্তো থাক আর না থাক, টাকার ইতিহাসটা অন্তত জেনে রাখা ভালো!” ২০১৩ সালের ৫ই অক্টোবর যখন বাংলাদেশ ব্যাংক এই জাঁকজমকপূর্ণ জাদুঘরটি চালু করলো, তখন থেকেই এটি ঢাকার বুকে এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মিরপুর ২ নম্বর সেক্টরে পা রাখলে আপনি কেবল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামই দেখবেন না, বরং বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির দোতলায় পাবেন এই রত্নভাণ্ডার।
এখানে কড়ি দিয়ে কেনাকাটার আমল থেকে শুরু করে আধুনিক প্লাস্টিক নোট পর্যন্ত সবকিছুর মেলা বসেছে। দেয়ালজুড়ে সাজানো রঙ-বেরঙের নকশা করা মুদ্রাগুলো দেখলে আপনার মনে হবে আপনি যেন ইতিহাসের এক টাইম মেশিনে চড়ে বসেছেন। ১২০টি দেশের প্রায় ৩ হাজার মুদ্রার সংগ্রহ দেখে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য।
তবে সবচাইতে মজার ব্যাপার জানেন কী? মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে আপনি নিজেই এক লাখ টাকার মালিক হতে পারেন! না, সেই টাকা দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়া যাবে না ঠিকই, তবে বিনিময় অযোগ্য সেই স্মারক নোটে নিজের হাস্যোজ্জ্বল ছবি ছাপিয়ে ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখার আনন্দই আলাদা। চলুন, পকেটের এই বাসিন্দার বিবর্তন স্বচক্ষে দেখে আসি।
কী দেখবেন
টাকা জাদুঘরটি মূলত দুটি গ্যালারিতে বিভক্ত। প্রথম গ্যালারিতে আপনি পাবেন আমাদের এই উপমহাদেশের মুদ্রার আদি-অন্ত। গুপ্তযুগ ও তার পরবর্তী সময়ের মুদ্রা, হরিকেল রাজ্যের রৌপ্য মুদ্রা, এমনকি অতি প্রাচীনকালের সেই কড়িও এখানে সযত্নে রাখা আছে। প্রথম গ্যালারির শেষে ডিওরমার মাধ্যমে প্রাচীন বাংলার মুদ্রা বিনিময় ও সঞ্চয়ের চমৎকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্যালারিটি বিশ্ব ভ্রমণের মতো; এখানে বিশ্বের ১২০টি দেশের প্রায় ৩ হাজার পুরনো মুদ্রা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। মুদ্রার পাশাপাশি মুদ্রানির্মিত অলঙ্কার, কাঠের বাক্স, লোহার প্রাচীন সিন্দুক আর বিশাল লোহার ব্যাংক আপনাকে মোগল বা ব্রিটিশ আমলের আমেজ দেবে। এছাড়া আধুনিক বিনোদনের জন্য রয়েছে ডিজিটাল কিয়স্ক, থ্রিডি টিভি এবং স্যুভেনিয়ার শপ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস বা সিএনজিতে করে মিরপুর ২ নম্বর সেক্টরে আসতে হবে।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাছে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির গেট খুঁজে নিতে হবে।
ট্রেনিং একাডেমির ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলায় গেলেই পেয়ে যাবেন টাকা জাদুঘর।
মিরপুর ২ থেকে রিকশা বা পায়ে হেঁটে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
টাকা জাদুঘরে প্রবেশের জন্য আপনাকে কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না, এটি জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
| বার | সময়সূচি | প্রবেশ ফি |
|---|---|---|
| শনিবার থেকে বুধবার | সকাল ১১:০০ – বিকাল ৪:০০ | বিনামূল্যে |
| বৃহস্পতি ও শুক্রবার | সাপ্তাহিক ছুটি (বন্ধ) | – |
| সরকারি ছুটির দিন | বন্ধ থাকে | – |
ভ্রমণ টিপস
মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে নিজের ছবি সম্বলিত এক লাখ টাকার স্মারক নোটটি সংগ্রহ করতে একদম ভুলবেন না!
সময় সংক্রান্ত টিপ: বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে, তাই সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। প্রযুক্তি টিপ: জাদুঘরের ভেতরে থাকা ডিজিটাল কিয়স্ক এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে মুদ্রার ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
টাকা জাদুঘরটি ঠিক কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকার মিরপুর ২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত।
নিজের ছবি দিয়ে স্মারক নোট ছাপাতে কত টাকা লাগে?
মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে আপনি এক লাখ টাকার একটি বিনিময় অযোগ্য স্মারক নোটে নিজের ছবি ছাপিয়ে নিতে পারবেন।
জাদুঘরটি কখন খোলা থাকে?
এটি শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে এটি বন্ধ থাকে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide