
ঢাকার পান্থপথে ২১ তলার এক বিশাল ইমারত দাঁড়িয়ে আছে, যাকে লোকে এক নামে চেনে—বসুন্ধরা সিটি। ১৯৯৮ সালে যখন মুস্তাফা খালিদ পলাশ আর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ এর নকশা আঁকলেন, তখন কেউ ভাবেনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই স্থাপত্যটিই একদিন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং মল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। মুজতবা আলীর ভাষায় বলতে গেলে, শহরের জাঁকজমক আর আধুনিকতার ষোলোআনা স্বাদ নিতে হলে আপনাকে এই কাঁচ-ঘেরা প্রাসাদে পা রাখতেই হবে।
২০০৪ সালের ৬ আগস্ট যখন এটি খুলে দেওয়া হলো, তখন থেকেই এটি ঢাকার আধুনিকায়নের প্রতীক। দিনে প্রায় ২৫,০০০ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই কমপ্লেক্স। ৮ তলা পর্যন্ত কেনাকাটার মহোৎসব আর বাকি ১৩ তলা দাপ্তরিক কাজের জন্য সংরক্ষিত। স্রেফ কেনাকাটা নয়, এই এক ছাদের নিচে আপনি পাবেন আস্ত একটা শহর—সিনেপ্লেক্স থেকে শুরু করে জিম আর ইনডোর থিম পার্ক পর্যন্ত।
সবচেয়ে বড় চমকটা কিন্তু এর ছাদে। কংক্রিটের জঙ্গলে মাথা তুলে থাকা এই ভবনের চূড়ায় আছে এক চমৎকার বাগান। আপনি স্রেফ উইন্ডো শপিং করতে চান কিংবা ফুড কোর্টে ভোজ সারতে—বসুন্ধরা সিটি আপনার সব শখ মেটানোর জন্য সদাপ্রস্তুত। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এই আধুনিক বিপণী বিতানের আদ্যোপান্ত।
কী দেখবেন
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের নিচের ৮টি তলায় আছে ২৩২৫টি দোকানের বিশাল সংগ্রহ। কেনাকাটার পাশাপাশি এখানে পাবেন টগি ওয়ার্ল্ডের মতো শিশু বিনোদন কেন্দ্র, শরীরচর্চা কেন্দ্র (জিম) এবং ইনডোর থিম পার্ক। বিনোদনের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্স। এছাড়া ৮ তলায় থাকা বিশাল ফুড কোর্ট এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ আপনার ক্ষুধা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে পরিচ্ছন্ন টয়লেট, নামাজের স্থান এবং সার্বক্ষণিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। ভবনের ছাদে অবস্থিত বাগানটি এই স্থাপত্যের এক বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য এখানে সুপ্রশস্ত ও নিরাপদ ব্যবস্থা রয়েছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে প্রথমে কাওরান বাজার মোড়ে আসুন।
কাওরান বাজার থেকে পান্থপথের দিকে তাকালেই ২১ তলা বিশিষ্ট বিশাল এই শপিং মলটি চোখে পড়বে।
কাওরান বাজার মোড় থেকে রিকশায় ৫ মিনিট বা পায়ে হেঁটেই বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে পৌঁছানো যায়।
কোথায় খাবেন
কেনাকাটা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে মলের ৮ তলায় চলে যান। সেখানে বিশাল ফুড কোর্টে দেশি-বিদেশি খাবারের সমারোহ আছে। এছাড়া বিভিন্ন ফ্লোরে থাকা ফাস্ট ফুড শপ এবং স্পেশাল রেস্তোরাঁগুলোতে আপনার পছন্দমতো খাবার পাবেন।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
| বার | সময়সূচি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বুধবার – সোমবার | সকাল ৯:০০ টা – রাত ৯:০০ টা | প্রতিদিন খোলা |
| মঙ্গলবার | সাপ্তাহিক বন্ধ | সম্পূর্ণ মল বন্ধ থাকে |
| প্রবেশ মূল্য | বিনামূল্যে | কোনো টিকেটের প্রয়োজন নেই |
ভ্রমণ টিপস
ছুটির দিনে প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে চাইলে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে দুপুরের দিকে পরিদর্শনের পরিকল্পনা করুন।
পরিবহন টিপস: কাওরান বাজার ও পান্থপথ এলাকায় বেশ জ্যাম থাকে, তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো। সতর্কতা: মলের ভেতরে নির্দিষ্ট ফোন নম্বর (৮১৫৮০৩৩-৩৪, ৯১১১৪৪০) বা হেল্প ডেস্কের তথ্য হাতের কাছে রাখুন। বন্ধের দিন: মনে রাখবেন, প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মলটি বন্ধ থাকে।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বসুন্ধরা সিটি শপিং মল কবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়?
প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই শপিং মলটি ২০০৪ সালের ৬ আগস্ট জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
মলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনটি?
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বন্ধ থাকে। বাকি ৬ দিন এটি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এই শপিং মলে কতটি দোকান এবং কী কী বিশেষ সুবিধা রয়েছে?
এখানে ২৩২৫টি দোকান আছে। কেনাকাটার পাশাপাশি সিনেপ্লেক্স, ফুড কোর্ট, ইনডোর থিম পার্ক, জিম, নামাজের স্থান এবং কার পার্কিং সুবিধা এখানে বিদ্যমান।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide

