
গুলিস্তানের সেই চিরচেনা শোরগোল আর ধুলোবালির ঠিক মাঝখানে ২৩.৩৭ একর জায়গাজুড়ে এক প্রশান্তির আস্তানা হলো ওসমানী উদ্যান। সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার সেই ঐতিহাসিক কামান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর নামাঙ্কিত এই উদ্যান—সব মিলিয়ে ইতিহাসের এক এলাহি কারবার! মুজতবা আলীর ভাষায় বলতে গেলে, শহরের এই ইট-কাঠের জঙ্গল থেকে পালিয়ে ক্ষণিক জিরিয়ে নেওয়ার জন্য এর চেয়ে জুতসই জায়গা আর হয় না।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই উদ্যানটিকে সাজানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের আদলে। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকেই আপনি যদি দিক নির্দেশক মানচিত্রের দিকে তাকান, তবে দেখবেন পুরো উদ্যানটি যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। ৫.৩৪ একরের দুটি বিশাল লেক আর কৃত্রিম বালু দ্বীপের পাশে বসলে আপনার মনেই হবে না যে আপনি ঢাকার সবথেকে জনবহুল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
আপনি যদি দুষ্প্রাপ্য গাছের ছায়া আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির মিশেলে একটি বিকেল কাটাতে চান, তবে নগর ভবনের ঠিক উল্টো দিকের এই উদ্যানটি আপনাকে নিরাশ করবে না। এখানে কেবল সবুজ নেই, আছে ইতিহাসের সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যা প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে।
কী দেখবেন
ওসমানী উদ্যানে প্রবেশের জন্য তিনটি পথ রয়েছে, যার প্রধানটি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের ঠিক বিপরীতে। উদ্যানে ঢুকতেই চোখে পড়বে একটি দিক নির্দেশক মানচিত্র, যেখানে উদ্যানের লেক ও হাটার পথ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া আছে। এর সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের অনুকরণে উদ্যানটিকে ১১টি ভাগে ভাগ করা। কিছুটা ভেতরে গেলে দেখা মিলবে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের। এছাড়া ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে আছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলার সেই বিখ্যাত কামান। ৫.৩৪ একর জায়গা জুড়ে থাকা দুটি লেক ও কৃত্রিম বালু দ্বীপ উদ্যানটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এখানে আছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল, ফল এবং বিভিন্ন দুর্লভ গাছের সমারোহ। উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় ওসমানী অডিটোরিয়ামটিও অবস্থিত।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস বা নিজস্ব গাড়িতে করে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট বা গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় আসুন।
গুলিস্তান এসে নগর ভবন (দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন) বা সচিবালয়ের দিকে একটু এগোলেই উদ্যানটি চোখে পড়বে।
রিকশায় বা পায়ে হেঁটে নগর ভবনের বিপরীত পাশের প্রধান গেট অথবা গোলাপ শাহ মসজিদ ও অডিটোরিয়ামের পাশের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করুন।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
| ঋতু | সময়সূচি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রীষ্মকাল | ভোর ৫:০০ টা – রাত ৯:০০ টা | সপ্তাহে সাতদিনই খোলা থাকে |
| শীতকাল | ভোর ৬:০০ টা – রাত ৮:০০ টা | সপ্তাহে সাতদিনই খোলা থাকে |
| প্রবেশ মূল্য | বিনামূল্যে | কোনো টিকেটের প্রয়োজন নেই |
ভ্রমণ টিপস
উদ্যানের ভেতরে দিক নির্দেশক মানচিত্রটি দেখে নিলে ১১টি সেক্টরের অবস্থান বুঝতে সহজ হবে।
সময় টিপস: সকালের দিকে ব্যায়াম বা বিকেলের দিকে ভ্রমণের জন্য এই উদ্যানটি সবথেকে উপযোগী। পরিবেশ টিপস: উদ্যানের ভেতরে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। অবস্থান টিপস: নগর ভবনের বিপরীত পাশে প্রধান প্রবেশ পথটি সবথেকে সুবিধাজনক।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ওসমানী উদ্যানটি কার নামে নামকরণ করা হয়েছে?
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে এই উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে।
উদ্যানের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের বিশেষ কী ব্যবস্থা আছে?
স্বাধীনতা যুদ্ধের ১১টি সেক্টরের আদলে পুরো ওসমানী উদ্যানটিকে ১১টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং এখানে একটি স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে।
এখানে কি কোনো ঐতিহাসিক যুদ্ধাস্ত্র বা নিদর্শন আছে?
হ্যাঁ, এখানে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলার আমলে ব্যবহৃত একটি বিশাল ঐতিহাসিক কামান প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide