
যান্ত্রিক ঢাকার ইট-পাথরের জঙ্গল থেকে একটু হাফ ছাড়তে চান? তাহলে আপনাকে সোজা চলে যেতে হবে আগারগাঁওয়ে। ভাবুন তো, শহরের মাঝখানে হুট করে যদি ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ার শব্দ শোনেন, তবে কেমন লাগবে? ঠিক এই ম্যাজিকটাই সাজিয়ে বসে আছে একুরিয়াম পার্ক।
এখানে কাঁচের ওপারে সিলভার এরোয়ানার রাজকীয় চলাফেরা আর মাথার ওপর শত শত রঙিন পাখির কিচিরমিচির আপনাকে ভুলিয়ে দেবে যে আপনি আসলে ঢাকার বুকেই আছেন। শুধু মাছ দেখা নয়, ম্যাকাও পাখিকে কাঁধে বসিয়ে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ কি আর সব জায়গায় মেলে?
কৌতূহলী মন আর ক্যামেরাটা সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। শিশুদের জন্য যেমন শিক্ষার ভাণ্ডার, বড়দের জন্য তেমনই এক পশলা শান্তির ঠিকানা এই পার্ক। চলুন জেনে নিই এই জলজ ও পক্ষী রাজ্যের খুঁটিনাটি।
কী দেখবেন
একুরিয়াম পার্কে প্রবেশের পর আপনার মনে হবে কোনো এক মায়াবী জগতে ঢুকে পড়েছেন। এখানকার একুরিয়াম জোনে সারি সারি সাজানো বিশাল ট্যাঙ্কে সিলভার এরোয়ানা, গোল্ডফিশ, প্যারট ফিশ এবং অস্কারের মতো দারুণ সব রঙিন মাছের মেলা। এর সাথে আছে টেরারিয়াম ও প্লান্টেড একুরিয়াম, যেখানে প্রাকৃতিক ড্রিফটউড আর লাইফ প্লান্টের কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। পছন্দ হলে এগুলো আপনি কিনেও বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন।
পার্কের অন্যতম আকর্ষণ এর ১০০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড় ও ঝর্ণা, যা অরণ্যের আবহে তৈরি। এছাড়া পাখিদের জন্য রয়েছে বিশাল বার্ড এভিয়ারি। এখানে বাজরিগার, কোকাটেইল, ফিঞ্চ আর লাভ বার্ডের দল একদম মুক্তভাবে উড়ে বেড়ায়। আর আপনি যদি একটু সাহসী হন, তবে প্রশিক্ষিত ম্যাকাও বা আফ্রিকান গ্রে প্যারটকে নিজের হাতে বা কাঁধে নিয়ে ছবি তোলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মিস করবেন না।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে আগারগাঁও বিমান বাহিনী জাদুঘরে পৌঁছাতে হবে।
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মেট্রোরেল। আগারগাঁও স্টেশনে নেমে কয়েক পা হাঁটলেই জাদুঘরের গেট।
বিমান বাহিনী জাদুঘরের ভেতরেই একুরিয়াম পার্কটি অবস্থিত। জাদুঘরে ঢুকে একটু সামনে এগোলেই পার্কের প্রবেশপথ পাবেন।
কোথায় থাকবেন
যেহেতু এটি ঢাকা শহরের ভেতরেই অবস্থিত, তাই পর্যটকদের থাকার জন্য আলাদা ঝক্কি নেই। তবে দূর থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা চাইলে গুলশান বা আশেপাশের ভালো মানের হোটেলে থাকতে পারেন।
আগারগাঁও ও ফার্মগেট এলাকা
১,৫০০ – ৩,০০০ | সাধারণ মানের গেস্ট হাউস ও ছোট হোটেল।
দ্য রেজ হাউস, ঢাকা
৫,০০০ – ৮,০০০ | আরামদায়ক এবং মানসম্মত বুটিক থাকার ব্যবস্থা।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান
১৫,০০০ – ২৫,০০০ | আভিজাত্য আর সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন।
যোগাযোগের জন্য সরাসরি পার্কে কল করতে পারেন: 01841-352553 অথবা মেইল করতে পারেন aquariumparkdhaka@gmail.com ঠিকানায়।
কোথায় খাবেন
খাবারের জন্য পার্কের বাইরে যাওয়ার একদমই প্রয়োজন নেই। বিমান বাহিনী জাদুঘরের বিশাল চত্বরেই বেশ কিছু ক্যাফেটেরিয়া এবং ফুড কোর্ট রয়েছে। সেখানে হালকা নাস্তা থেকে শুরু করে ফাস্টফুড বা দুপুরের ভারী খাবারও পেয়ে যাবেন। এছাড়া আগারগাঁও মেইন রোডের পাশে অনেক ভালো মানের রেস্তোরাঁ ও স্ন্যাকস শপ রয়েছে যেখানে ঘোরঘুরি শেষে জম্পেশ খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে পারেন।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
পার্কে ঢুকতে আপনাকে দুই ধাপে টিকিট কাটতে হবে। প্রথমে জাদুঘরের গেটে, তারপর পার্কের গেটে।
| খাত | বিবরণ | মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| বিমান বাহিনী জাদুঘর | প্রবেশ ফি (জনপ্রতি) | ৫০/- |
| একুরিয়াম পার্ক | প্রবেশ ফি (জনপ্রতি) | ১০০/- |
| পাখির সাথে ছবি তোলা | ম্যাকাও/প্যারট সেশন | ৫০/- থেকে ১০০/- |
ভ্রমণ টিপস
ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এবং দ্রুত পৌঁছাতে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে মেট্রোরেল ব্যবহার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ফটো সেশন টিপ: পাখিদের সাথে ছবি তোলার সময় প্রশিক্ষকদের নির্দেশ মেনে চলুন যাতে পাখি ভয় না পায়। শপিং টিপ: আপনি যদি একুরিয়াম বা টেরারিয়াম শৌখিন হন, তবে এখানকার ডিসপ্লে জোন থেকে ঘর সাজানোর প্লান্টেড একুরিয়াম কিনতে পারেন।
সতর্কতা
জাদুঘরের ভেতর এবং পার্ক এলাকায় প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
একুরিয়াম পার্কটি আসলে কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর (Air Force Museum) এর ঠিক ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে।
এখানে প্রবেশ করতে মোট কত টাকা খরচ হবে?
প্রথমে বিমান বাহিনী জাদুঘরে প্রবেশের জন্য ৫০ টাকা এবং এরপর ভেতরে একুরিয়াম পার্কে প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ১৫০ টাকা লাগবে।
পাখিদের সাথে কি ছবি তোলা যায়?
হ্যাঁ, এখানে প্রশিক্ষিত ম্যাকাও বা আফ্রিকান গ্রে প্যারটকে হাতে বা কাঁধে নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ আছে, যার জন্য আলাদাভাবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ফি দিতে হয়।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide

