
সৈয়দ মুজতবা আলী বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “হে বঙ্গে, রাজস্থান আসিয়াছে তোমার দ্বারে!” ঢাকার ১০০ ফিট মাদানী এভিনিউতে পা রাখলে আপনারও ঠিক তাই মনে হবে। এক সময়ের সেই চিরচেনা ‘ঠিকানা ডে আউটারস’ এখন ভোল পাল্টে হয়ে গেছে সাক্ষাৎ রাজস্থানি রাজপ্রাসাদ— যার নাম ‘উদয়পুর ডেসটিনেশন’।
সাদা শ্বেতপাথরের আভিজাত্য আর রাজকীয় স্তম্ভের ভিড়ে নিজেকে হঠাত কোনো নবাবজাদা মনে হতেই পারে। তবে ভড়কে যাবেন না, এই আধুনিক স্থাপত্যের ঠিক পাশেই আবার মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুন্সিগঞ্জের বনেদি বাড়ির আদলে গড়া এক গ্রামীণ দালান। প্রকৃতি আর ঐতিহ্যের এই অদ্ভুত ‘ককটেল’ দেখতে চাইলে আপনাকে এই উইকএন্ডেই ঢুঁ মারতে হবে এখানে।
সবুজের সমারোহে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার কিংবা ফ্লোরাল কফি শপে বসে আড্ডা— ব্যস্ত এই কংক্রিটের শহরে এমন এক চিলতে আভিজাত্যের ছোঁয়া সত্যিই বিরল। বিশেষ করে শীতের দিনে যখন লাখো রঙিন ফুলে বাগান সেজে ওঠে, তখন মনে হবে শহর ছেড়ে বুঝি কোনো এক স্বপ্নের রাজ্যে চলে এসেছেন।
কী দেখবেন
উদয়পুর ডেসটিনেশনের মূল আকর্ষণ হলো এর রাজস্থানি স্থাপত্য। উদয়পুর সিটি প্যালেসের অনুপ্রেরণায় নির্মিত এই প্রাসাদের শ্বেতশুভ্র দেয়াল আর সোনালী কারুকার্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের (বিক্রমপুর) বনেদি বাড়ির আদলে তৈরি তিনতলা স্থাপনাটি দেশীয় আভিজাত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশাল সবুজ মাঠ আর বড়দের জন্য শান্ত জলাশয়ের পাড়ে দোলনায় বসে আড্ডা দেওয়ার সুব্যবস্থা। এছাড়া এখানকার ‘ফ্লোরাল কফি শপ’ ফটোপ্রেমীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ; যার সিলিং ঢাকা কৃত্রিম ফুলে আর বাইরে আছে দারুণ এক ফ্লোরাল বাইসাইকেল। শীত বা বসন্তে এখানে গাদা, ডালিয়া আর কসমস ফুলের সমারোহ থাকে চোখে পড়ার মতো।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা সিএনজিতে প্রথমে বাড্ডার নতুন বাজার মোড়ে আসতে হবে।
নতুন বাজার থেকে ১০০ ফিট মাদানী এভিনিউ দিয়ে বেড়াইদ অভিমুখে নিজস্ব গাড়ি, সিএনজি বা রিকশায় রওনা দিন।
নতুন বাজার থেকে রাস্তা ফাঁকা থাকলে মাত্র ২০-৩০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন বড় বেরাইদ এলাকায় অবস্থিত উদয়পুর ডেসটিনেশনে।
কোথায় খাবেন
এখানে প্রবেশের জন্য আলাদা কোনো টিকিট কাটতে হয় না, তবে খাবারের অর্ডার করা বাধ্যতামূলক। এখানে আপনি ইনডোর বা আউটডোর— দুভাবেই বসে তান্দুরি, নান বা কাবাব উপভোগ করতে পারেন।
| প্ল্যাটারের ধরন | জনসংখ্যা | মূল্য সীমা (BDT) |
|---|---|---|
| সিঙ্গেল প্ল্যাটার | ১ জন | ৭০০ – ৮০০/- |
| কাপল প্ল্যাটার | ২ জন | ২,০০০ – ৩,০০০/- |
| ফ্যামিলি প্ল্যাটার | ৪ জন | ৫,০০০ – ৬,০০০/- |
| কিডস মেনু | ১ শিশু | ৫০০/- |
বিকালে কফি আড্ডা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের জন্য এই রেস্টুরেন্টটি দারুণ এক অভিজ্ঞতার নিশ্চয়তা দেয়।
ভ্রমণ টিপস
ঝামেলা এড়াতে অবশ্যই আগে থেকে রিজার্ভেশন কনফার্ম করে তবেই রওনা দিন।
transport tip: গুলশানের খুব কাছে হওয়ায় যাতায়াত বেশ সহজ, তবে ছুটির দিনে ১০০ ফিট রোডে জ্যাম থাকতে পারে তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো।
booking tip: বিস্তারিত তথ্যের জন্য 01755554447 বা 01755554448 নম্বরে যোগাযোগ করে নিতে পারেন।
সতর্কতা
আগে থেকে বুকিং না থাকলে অনেক সময় জনসমাগম বেশি হলে প্রবেশাধিকার পাওয়া কঠিন হতে পারে।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
উদয়পুর ডেসটিনেশন এর এন্ট্রি ফি কত?
এখানে আলাদা কোনো প্রবেশ ফি বা এন্ট্রি ফি নেই। তবে প্রবেশ করতে হলে নির্দিষ্ট মূল্যের খাবারের অর্ডার কনফার্ম করতে হয়।
এটি ঠিক কোথায় অবস্থিত এবং যোগাযোগ নম্বর কী?
এটি ঢাকার বাড্ডার বড় বেরাইদ, নতুন বাজার (১০০ ফিট রোড) এলাকায় অবস্থিত। যোগাযোগের জন্য ০১৭৫৫৫৫৪৪৪৭ বা ০১৭৫৫৫৫৪৪৪৮ নম্বরে কল করা যাবে।
উদয়পুর ডেসটিনেশনে কী কী বিশেষত্ব আছে?
এখানে রাজস্থানি সিটি প্যালেসের আদলে তৈরি প্রাসাদ, বিক্রমপুরের বনেদি বাড়ির ধাঁচে গড়া দালান এবং একটি নান্দনিক ফ্লোরাল কফি শপ রয়েছে। এছাড়া বিশাল ফুলের বাগান ও জলাশয় এখানকার পরিবেশকে অনন্য করেছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide

