
ভায়া, ঢাকার হাজারো মসজিদের ভিড়ে যদি এমন এক ইমারত খুঁজেন যা দেখতে অনেকটা মক্কা শরিফের কাবা ঘরের মতো, তবে পল্টনের এই চত্বরে আপনাকে আসতেই হবে। ১৯৬০ সালের এক জানুয়ারি মাসে বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি আর তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি যখন এই মসজিদ নির্মাণের গোড়াপত্তন করলেন, তখন হয়তো অনেকেই গম্বুজহীন নকশা দেখে অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু সিন্ধুর স্থপতি এ এইচ থারানির সেই জাদুকরী ছোঁয়ায় ৮.৩০ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে গেল এক অনন্য স্থাপত্য—বায়তুল মোকাররম।
আটতলা এই মসজিদের বিশেষত্ব হলো এর সরলতা। কোনো গম্বুজ নেই, অথচ আভিজাত্যে কোনো কমতি নেই। ১৯৬২ সালে যখন এর নির্মাণ কাজ শেষ হলো, তখন থেকেই এটি হয়ে উঠল এ দেশের ইমানি চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে এখানে একসাথে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, যা জুম্মার দিনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ঢঙে বলতে গেলে বলতে হয়—এ কেবল উপাসনালয় নয়, এ যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মিলনমেলা। নিচতলায় হরেক পদের কিতাব আর তসবির দোকান, আর উপরের তলাগুলোতে বিরামহীন সিজদাহর প্রশান্তি। ১৯৭৫ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর দেখভালের দায়িত্বে আছে, আর ২০০৮ সালে সৌদি সরকারের হাত ধরে এটি পেয়েছে আধুনিকতার নতুন ছোঁয়া।
কী দেখবেন
বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর কাবা ঘরের আদলে তৈরি চারকোনা কাঠামো। ৮ তলা বিশিষ্ট এই মসজিদের ২য় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। খতিব সাহেব ২য় তলা থেকে নামাজ পড়ান। মসজিদের ৩য় তলার উত্তর পাশে নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক ও সুশোভিত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা। এছাড়া মসজিদের নিচতলায় রয়েছে বিশাল এক মার্কেট বা বিপণিবিতান, যেখানে ধর্মীয় বইপত্র থেকে শুরু করে নানা প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব—তিন দিকেই রয়েছে মসজিদে প্রবেশের রাজকীয় পথ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে চড়ে প্রথমে পল্টন, গুলিস্তান অথবা মতিঝিল এলাকায় নামুন।
গুলিস্তান বা পল্টন মোড় থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথেই পৌঁছে যাবেন মসজিদের সামনে।
নিজের সুবিধা অনুযায়ী উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্ব গেট দিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
ভ্রমণ টিপস
জুম্মার দিনে নামাজ পড়তে চাইলে অন্তত এক ঘণ্টা আগে পৌঁছানো ভালো, কারণ দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।
architecture tip: মসজিদের গম্বুজহীন বিশেষ নকশাটি ভালো করে দেখার জন্য মসজিদের সাহান বা চত্বর এলাকাটি ঘুরে দেখুন। shopping tip: নামাজের পর নিচতলার মার্কেট থেকে আতর, তসবিহ কিংবা ইসলামি কিতাব সংগ্রহের দারুণ সুযোগ থাকে।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশা কে করেছেন?
বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশা করেছেন সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি এ এইচ থারানি। তাঁর নকশাতেই মসজিদটি গম্বুজহীন এবং কাবা ঘরের আদলে তৈরি করা হয়েছে।
এখানে কি নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে?
হ্যাঁ, মসজিদের ৩য় তলার উত্তর পাশে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা এবং সুপরিসর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কারা আছেন?
১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide