
ভায়া, খাস মোগলাই আমলের সুঘ্রাণ পেতে আপনাকে কিন্তু সবসময় আগ্রা কি দিল্লি ছুটতে হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের ঠিক পশ্চিম দিকে তাকালেই দেখবেন এককালের ‘বাগে-মুসা খান’ বা মুসা খানের বাগানের সেই প্রাচীন আভিজাত্য। সপ্তদশ শতকের শেষভাগের এক দুপুরবেলা যেন থমকে আছে এই তিন গম্বুজওয়ালা মুসা খান মসজিদের দেয়ালে।
মজার ব্যাপার হলো, মসজিদটির নাম ঈশা খাঁর সুযোগ্য পুত্র মুসা খানের নামে হলেও, এটি তৈরি করেছিলেন তার নাতি মাসুম খান। বারো ভুঁইয়াদের সেই তেজ আর মোগলরীতির কারুকাজ—দুইয়ের এক অদ্ভুত মিশেল পাবেন এই ইমারতে। উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি এই মসজিদের নিচতলায় আবার ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ আছে, যা দেখলে আপনার মনে হতেই পারে যে এখানে হয়তো কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে!
মসজিদটির একদম কাছেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন খোদ মুসা খান। ইতিহাসের ছাত্র হোন বা নিছক ভবঘুরে, শহীদুল্লাহ হলের পাশের এই আঙিনায় দাঁড়ালে আপনি টের পাবেন যে ইতিহাস আসলে মরে যায় না, কেবল ইটের ভাঁজে ঘুমিয়ে থাকে।
কী দেখবেন
মুসা খান মসজিদটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্ম বা বেদীর ওপর নির্মিত। এর ভেতরে রয়েছে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের চার কোণে ৪টি বড় আট কোণা বুরুজসহ মোট ১৬টি বুরুজ ও মিনার রয়েছে। মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য পূর্ব দিকে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে ২টি খিলান দরজা রয়েছে। পশ্চিম দেয়ালে চোখ রাখলে দেখবেন ৩টি মেহরাব, যার মধ্যে মাঝেরটি বড় আর পাশের দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট। মোগলরীতির চমৎকার সব নকশা দেয়ালজুড়ে ছড়িয়ে আছে। মসজিদের ঠিক সামনেই শায়িত আছেন প্রখ্যাত ভাষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এছাড়া কাছেই মুসা খানের সমাধিও দেখার সুযোগ পাবেন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে করে শাহবাগ মোড়ে চলে আসুন।
শাহবাগ থেকে রিকশা বা লোকাল বাসে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে নামুন।
কার্জন হল থেকে সামান্য পায়ে হেঁটে শহীদুল্লাহ হল এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের মাঝের জায়গায় গেলেই মসজিদটি পেয়ে যাবেন।
কোথায় খাবেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরান ঢাকার সন্ধিক্ষণে থাকায় খাবারের অভাব হবে না মোটেই। ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, কাশ্মীর কাচ্চি কিংবা বিউটি বোর্ডিংয়ে ঢুঁ মারতে পারেন। আর আড্ডা জমিয়ে দিতে সুলতানের চায়ের তো বিকল্প নেই।
ভ্রমণ টিপস
যেহেতু এটি একটি সক্রিয় মসজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত, তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন ও শান্তভাবে ঘুরে দেখুন।
nearby attraction: হাতে সময় থাকলে এই এক চক্করেই আপনি দেখে নিতে পারেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলা ইনস্টিটিউট, টিএসসি, আহসান মঞ্জিল, রোজ গার্ডেন এবং জাতীয় জাদুঘর।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মুসা খান মসজিদটি ঠিক কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিনের কার্যালয়ের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। কার্জন হলের একদম পশ্চিম দিকেই এর অবস্থান।
মসজিদটি কে নির্মাণ করেছিলেন?
মসজিদটির নাম ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খানের নামে রাখা হলেও এটি নির্মাণ করেছিলেন মুসা খানের পুত্র মাসুম খান। এটি সপ্তদশ শতকের শেষদিকে নির্মিত হয়েছিল।
এই মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর বিশেষত্ব কী?
এটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। এতে ১৬টি বুরুজ ও মিনার রয়েছে এবং দেয়ালগুলোতে মোগল আমলের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নকশা লক্ষ্য করা যায়।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide
