
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন, “হে মুসাফির, এখানে থমকে দাঁড়াও, কারণ এখানে ঘুমিয়ে আছে আমাদের অস্তিত্বের এক টুকরো ইতিহাস।” ২০১২ সালের ২৫ মার্চ যখন এই জাদুঘরটি যাত্রা শুরু করে, তখন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে আমাদের ভাষা আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিলাবেজ।
সবুজ ঘাসে ঢাকা এই চত্বরে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়বে শহীদ আবুল বরকতের এক গম্ভীর অথচ দীপ্ত প্রতিকৃতি। নিচতলায় যখন তাঁর ব্যবহৃত সেই পুরনো ঘড়ি, চিঠি কিংবা একুশে পদকটার দিকে তাকাবেন, তখন মুহূর্তেই আপনি ফিরে যাবেন সেই ১৯৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারিতে।
স্মৃতি জাদুঘরটি কেবল একটি ভবন নয়, এটি একটি টাইম মেশিন। শহীদের ব্যবহৃত অতি সাধারণ কাপ-পিরিচগুলোও যেন আজ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সম্পদ। আপনি ইতিহাসপ্রেমী হোন বা সাধারণ পর্যটক, ভাষার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই সংগ্রহশালায় আপনার একবার ঢুঁ মারা একান্ত দরকার।
কী দেখবেন
এই দ্বিতল জাদুঘরের নিচতলায় পা রাখলেই ভাষা আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র আর শহীদ বরকতের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসের দেখা মিলবে। তাঁর ব্যবহৃত ঘড়ি, চিঠি, কাপ-পিরিচ এবং একুশে পদক এখানে সযত্নে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ওপর নির্মিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দেখার সুযোগও রয়েছে এখানে। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, যেখানে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় পাঁচশতাধিক বই সংগৃহীত আছে। অজানা তথ্য জানতে এখানে গাইডের সাহায্যও নেওয়া যায়। বিশেষ দিনগুলোতে এখানে নানা ধরণের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
কীভাবে যাবেন
প্রথমে ঢাকার শাহবাগ, গুলিস্থান অথবা নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছাতে হবে।
সেখান থেকে একটি রিকশা অথবা সিএনজি ভাড়া করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ঠিক পশ্চিম পাশেই শহীদ বরকত স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থান।
কোথায় থাকবেন
ঢাকা শহরের কেন্দ্রে হওয়ায় থাকার জন্য এখানে সব ধরণের অপশনই খোলা আছে। আপনি আপনার পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকা বেছে নিতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফকিরাপুল, পল্টন
৫০০ – ২,০০০ | সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ আবাসিক হোটেল।
গুলিস্তান ও পুরান ঢাকা
২,৫০০ – ৫,০০০ | মাঝারি মানের মোটামুটি ভালো মানের হোটেল।
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ / র্যাডিসন ব্লু
১৫,০০০ – ৩০,০০০ | আভিজাত্য আর সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ৫ তারকা হোটেল।
এছাড়াও ৫ তারকা হোটেলের তালিকায় হোটেল লা মেরিডিয়েন অন্যতম।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
শহীদ বরকত স্মৃতি জাদুঘর দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত। তবে সময়ের বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।
| দিন | সময়সূচি | প্রবেশ ফি |
|---|---|---|
| রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার | সকাল ১০:০০ – বিকেল ৪:০০ | বিনামূল্যে |
| শুক্র ও শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি (বন্ধ) | – |
ভ্রমণ টিপস
জাদুঘরের নিচতলায় রাখা ভাষা আন্দোলনের ডকুমেন্টারিটি অবশ্যই দেখবেন, এটি সেই সময়কার ঘটনা বুঝতে খুব সাহায্য করবে।
সময় সংক্রান্ত টিপ: মনে রাখবেন জাদুঘরটি শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকে, তাই সপ্তাহের অন্য পাঁচদিনের যেকোনো একদিন যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। পঠন টিপ: যারা ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করতে ভালোবাসেন, তারা সময় নিয়ে দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরিতে ঘুরে আসতে পারেন।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
শহীদ বরকত স্মৃতি জাদুঘরটি কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
জাদুঘরটি কি প্রতিদিন খোলা থাকে?
না, জাদুঘরটি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতি শুক্র ও শনিবার এটি বন্ধ থাকে।
এখানে দেখার মতো বিশেষ কী কী আছে?
এখানে শহীদ বরকতের ব্যবহৃত ঘড়ি, চিঠি, কাপড় ও একুশে পদক ছাড়াও দ্বিতীয় তলায় পাঁচশতাধিক বইয়ের একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার রয়েছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide
