
সাভার নামটা শুনলেই এখন আমাদের চোখে ভাসে কলকারখানা আর ব্যস্ত রাস্তার ছবি। কিন্তু আপনি কি জানতেন, আজ থেকে তেরো-চৌদ্দশ বছর আগে এই সাভারই ছিল এক প্রতাপশালী রাজ্যের রাজধানী? সপ্তম-অষ্টম শতকে রাজা হরিশ্চন্দ্র যখন তাঁর ‘সর্বেশ্বর’ রাজ্য শাসন করতেন, তখন এই মজিদপুরেই ছিল তাঁর রাজকীয় আস্তানা। মুজতবা আলীর ঢঙে বলতে গেলে, ইতিহাসের চাকা এমনভাবে ঘোরে যে এককালের জাঁকজমকপূর্ণ রাজধানী আজ মাটির নিচে এক নিরিবিলি ঢিবি হয়ে পড়ে আছে।
নব্বইয়ের দশকে যখন এই ঢিবি খোঁড়া হলো, তখন বেরিয়ে এলো হরিকেল রৌপ্যমুদ্রা আর ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি। লোকে একে ‘রাজা হরিশচন্দ্রের ভিটা’ বা ‘রাজা হরিশচন্দ্রের প্রাসাদ’—যে নামেই ডাকুক না কেন, এর প্রতিটি ইটে মিশে আছে প্রাচীন বংশাবতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এক সভ্যতার ঘ্রাণ। ঢাকার খুব কাছেই এমন এক ইতিহাসের গন্ধ শুঁকতে চলে যেতে পারেন মজিদপুরে।
কী দেখবেন
রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবিতে গেলে আপনি মূলত পাল আমলের একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাবেন। স্থানীয়দের কাছে এটি রাজা হরিশচন্দ্রের বাড়ি বা ভিটা নামেও পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের খননকাজে এখান থেকে প্রচুর মূল্যবান নিদর্শন যেমন—স্বর্ণমুদ্রা, হরিকেল রৌপ্যমুদ্রা এবং ব্রোঞ্জ নির্মিত বুদ্ধমূর্তি পাওয়া গিয়েছিল। যদিও সেই অমূল্য রত্নগুলো এখন চাক্ষুষ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে, তবে প্রাচীন এই ঢিবির গঠনশৈলী এবং এর ঐতিহাসিক আবহাওয়া আপনাকে সেই পাল আমলের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। কথিত আছে, রাজা হরিশ্চন্দ্রের রাজধানী ‘সম্ভার’ থেকেই আজকের এই ‘সাভার’ নামের উৎপত্তি।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন স্থান (যেমন গুলিস্তান, গাবতলী বা উত্তরা) থেকে সাভারগামী বাসে উঠে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে নামুন।
বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে সাভার পৌরসভার রাজাসন এলাকার মজিদপুরের দিকে এগোতে হবে।
বাসস্ট্যান্ড থেকে মজিদপুরের এই ঢিবিতে যাওয়ার জন্য রিকশা নিতে পারেন অথবা সময় থাকলে পায়ে হেঁটেই পৌঁছে যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
সাভার ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় দিনে দিনেই ফিরে আসা যায়। তবে আপনি চাইলে ঢাকা শহরে বিভিন্ন মানের হোটেলে থাকতে পারেন।
সাধারণ আবাসিক হোটেল
৫০০-১৫০০ টাকা/রাত | ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও সাভারে সস্তা থাকার ব্যবস্থা
ফার্স হোটেল বা সমমানের হোটেল
৩০০০-৬০০০ টাকা/রাত | ঢাকার ভেতরে মাঝারি বাজেটের জন্য ভালো
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ / রেডিসন ব্লু
১৫০০০-৩০০০০ টাকা/রাত | ৫ তারকা মানের আন্তর্জাতিক সেবার হোটেল
ঢাকার অভিজাত এলাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল লা মেরিডিয়েন এবং র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের মতো বিশ্বমানের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
ভ্রমণ টিপস
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢিবিটি খুব কাছেই, তাই রিকশা ভাড়া করার আগে দামাদামি করে নেওয়া ভালো।
পরিবহন টিপস: গুলিস্তান থেকে ২৯ কিমি দূরত্ব পাড়ি দিতে যানজটের কথা মাথায় রেখে হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া উচিত। ইতিহাস টিপস: এখানকার খননকৃত মুদ্রা বা মূর্তিগুলো দেখতে চাইলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে যাওয়ার পরিকল্পনাও রাখতে পারেন।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি কোথায় অবস্থিত?
এটি ঢাকার সাভার উপজেলার রাজাসন এলাকার মজিদপুরে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
এখান থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো এখন কোথায় দেখতে পাব?
নব্বইয়ের দশকের খননকালে এখান থেকে প্রাপ্ত হরিকেল রৌপ্যমুদ্রা, স্বর্ণমুদ্রা এবং ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তিগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
সাভার নামের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণাটি কী?
ধারণা করা হয়, পাল বংশীয় রাজা হরিশ্চন্দ্রের রাজধানী ছিল ‘সম্ভার’ এবং এই সম্ভার থেকেই কালক্রমে সাভার নামের উৎপত্তি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide