চমৎকারবন (Sundarban) একটা প্রকৃতির বিস্ময়ের নাম। যদিও মূল চমৎকারবনের স্বাদ পেতে হলে গহীনের জায়গা গুলোতেই রওনা দিতে হবে।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা, খুলনা বিভাগ

সুন্দরবন সম্পর্কে
যে গুলোতে প্রায় সারা বছরই থাকা যায়। এই সময় নদী ও সমুদ্র শান্ত থাকে, তাই চমৎকারবনের সকল দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে খুলনার আগেই কাটাখালীর মোড় নামক জায়গায় নেমে রওনা দিতে হবে।
হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং শুটকির জন্য সুপরিচিত। যদিও নিজেরা ম্যানেজ করে গেলে সেইক্ষেত্রে প্রতিটা জায়গার জন্যে প্রবেশ ফি দিতে হবে। নিরাপদ খাবার পানি সাথে রাখুন।
কোন শীপে/লঞ্চে নিয়ে যাবে তা আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন। চমৎকারবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন।
তাছাড়া হারবাড়িয়া ঘুরতে হলে সেখানের অফিস থেকে অনুমতি ও গাইড নিতে হবে। চমৎকারবনের ভিতরে ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই ফরেস্ট অফিস থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে অনুমতি ও সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরতে রওনা দিতে হবে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়।
মোংলায় ভালো বাসে যেতে চাইলে খুলনা যাবার বাসে রওনা দিতে হবে। করমজল: মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছে করমজল (Karamjal)। সাথে করে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি রাখুন।
জামতলা সৈকত: কটকার কাছেই জামতলা (Jamtola)। চমৎকারী বৃক্ষের নামানুসারে এই বনের নাম চমৎকারবন রাখা হয়। বন বিভাগ থেকে চমৎকারবনের নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়।
ভ্রমণ খরচ কমাতে চাইলে বিশেষ ছুটির দিন গুলো এড়িয়ে চলুন। শীপে উঠার আগেই প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে উঠুন। বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকলে লাক্সারী শীপে ভ্রমণ করতে পারেন।
কমফোর্ট লাইন, দিগন্ত, রাজধানী, আরমান পরিবহনের নন এসি বাসে মোংলা যেতে খরচ হবে ৪৫০-৫০০ টাকা। মোংলা থেকে খুব সকালে রওনা দিলে দুটো জায়গাও একদিনে ঘুরে দেখা সম্ভব। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে।
নিরাপত্তা, অনুমতি, খরচ আর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে চমৎকারবন ভ্রমণের সর্বাধিক সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হচ্ছে কোন ট্যুর অপারেটরের সাথে যাওয়া। করমজলে দেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ ফি জনপ্রতি ৪৬ টাকা, বিদেশিদের জন্য ৫৭৫ টাকা। বনের ভিতরের কাঠেরপুল দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যে কারোরই অ্যাডভেঞ্চার ও শিহরণ জেগে উঠবে।
রিসোর্টের আশেপাশে ঘুরে দেখার সুব্যবস্থা আছে। চমৎকারবন ভ্রমণ টিপসচমৎকারবনের বহু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। এছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবে ভ্রমণ করলে চমৎকারবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে।
করমজল প্রবেশ টিকেট মূল্য জনপ্রতি ৪৬ টাকা। ভিডিও ক্যামেরা বাবদ দেশি দর্শনার্থীদের ফি দিতে হয় ২০০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের ফি দিতে হয় ৩০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
শীপে বা লঞ্চে ঘুরতে গেলে সেখানেই আবাসন সুবিধা থাকে। আপনারা যদি একসাথে ৩০-৪০ জনের মত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে নিজেরাই একটা লঞ্চ বা শীপ ভাড়া করতে পারেন। বাসে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা বা মোংলা যেতে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লাগে।
মান্দারবাড়ি যেতে হলে সাতক্ষীরা দিয়ে চমৎকারবন রওনা দিতে হবে। এই দুইটি পথই সবচেয়ে জনপ্রিয়। ঢাকা থেকে খুলনা বাসে বা ট্রেনে সরাসরি পৌঁছানো যায়।
সেখান থেকে বাস, মাহিন্দ্রা, সিএনজি অথবা বাইকে করে ২৬ কিলোমিটার দূরে মোংলা পৌঁছানো যায়। কটকা বিচ: কটকা পয়েন্ট এর টেইল ধরে আরও কিছুদূর হেঁটে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে কটকা সমুদ সৈকতে। গুলিস্তান, সায়দাবাদ ও গাবতলি থেকে খুলনা যাবার নন এসি বাসের ভাড়া ৬৫০-৭৫০ টাকা ও এসি বাসের ভাড়া ৮০০-১৪০০ টাকা।
ঢাকা থেকে মোংলা যাবার সরাসরি সেমি চেয়ার কোচ বাস আছে। এখানেও আছে বনের ভিতর একটা কাঠের ট্রেইল। এখানেও মাঝে মাঝে বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলে।
চমৎকারবন ভ্রমণ ভিডিও ব্লগচমৎকারবনের দর্শনীয় ভ্রমণ জায়গাচমৎকারবন বিশাল একটা এলাকা। আর বিলাসঅসংখ্যল টুরিস্ট ভ্যাসেলে (AC Luxury Cruise Ship) ভ্রমণ করতে চাইলে খরচ হবে জনপ্রতি ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। শীপ/প্যাকেজ বুকিং এর আগে সেই এজেন্সি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন।
শুধু করমজল ঘুরে দেখলে খরচ আরও কম হবে। খুলনা ও মোংলা থেকে সর্বাধিক কাছে করমজল ও হারবাড়িয়া বছরের যে কোন সময় একদিনেই ঘুরে দেখতে পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগরের দেখা মিলবে এইখানে।
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের চমৎকারবন। চমৎকারবনের রিসোর্ট ভ্রমণএখন মোংলায় চমৎকারবন ঘেঁষে বেশ কিছু আধুনিক ইকো ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট ঘরে উঠেছে। কটকায় সর্বাধিক চমৎকার যে বিষয়টি তা হলো এখানে দেখা মিলবে বন্য হরিণ দলের সাথে।
কটকা সী বিচ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও চমৎকার। খুলনা নগরীতে নানা মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এক্ষেত্রে খরচ নির্ভর করবে কোন ধরনের সার্ভিস আপনি পেতে চান তার উপর।
মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শুকানোর কাজ। হীরন পয়েন্ট: হীরন পয়েন্টের (Hiron Point) কাঠের তৈরি চমৎকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হরিণ, বানর, গুইসাপ ও কুমির দেখা পাওয়া যায়।
হারবাড়িয়া যেতে চাইলে উন্নত মানের ট্রলার ঠিক করা উচিত। মোংলা থেকে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। আর চমৎকারবনের রিসোর্ট গুলোতে থাকতে চাইলে উপরের লিংক থেকে জেনে নিন।
দুপুরের খাবার মোংলা থেকেই নিয়ে রওনা দিতে হবে। কিছু জায়গায় টেলিটক নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় ঔষধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিসপত্র সাথে রাখুন।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ বিচিত্র বিচিত্রন ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে চমৎকারবন পরিচিত। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে ট্রেইল ধরে মিনিট ১৫ হাটলেই দেখা যাবে হরিণের দল। অভয়ারণ্য অঞ্চলয় দেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রত্যেক দিনের জনপ্রতি ভ্রমণ ফি – ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য – ৩০ টাকা, বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১৫০০ টাকা।
এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রাজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ এবং ৮ টি উভচর প্রাণী। জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ চমৎকারবনকে জীব ও উদ্ভিদ জাদুঘর বললেও কম বলা হবে। চমৎকারবন যাওয়ার উপায়চমৎকারবন যেতে চাইলে খুলনা (Khulna) হয়ে যাওয়া যায় অথবা মোংলা (Mongla) থেকে যাওয়া যায়।
বনে ঢুকার সময় একসাথে থাকুনচমৎকারবন ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য সুদক্ষ ও সশস্ত্র বন প্রহরী সাথে রাখুন। চমৎকারবনের ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা ও বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ এলাকা। চমৎকারবনের এই রিসোর্ট গুলোও জনপ্রিয় এখন।
চমৎকারবন বেড়ানোর উপযুক্ত সময়নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস চমৎকারবন ঘুরে দেখার জন্যে উপযুক্ত সময়। করমজল ও হারবাড়িয়া দুই জায়গায় যেতে ভাড়া লাগবে ৩৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। ট্যুর গাইডের কথা মেনে চলুন।
কটকা: কটকা (Katka) ফরেষ্ট ষ্টেশনের দক্ষিণে বঙ্গোবসাগর। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো চমৎকারবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। বাজেট ট্যুর প্ল্যানে ঢাকা থেকে কয়েকজন মিলে গ্রুপ করে গেলে আনুমানিক খরচ হবে জনপ্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা।
যদিও সর্বাধিক বেশি দর্শনার্থী ভ্রমণ করে থাকে খুলনা ও বাগেরহাটের মোংলা দিয়ে। মোংলা ফেরী ঘাট থেকে সারাদিনের জন্যে নৌযান ভাড়া করার সুযোগ রয়েছে। প্যাকেজের মধ্যেই শীপে উঠার পর থেকে ট্যুর শেষ করে ঘাটে ফেরা পর্যন্ত আবাসন সুবিধা, সকল বেলার খাবার, বন বিভাগের অনুমতি, নিরাপত্তা রক্ষী ও গাইড সহ সকল যাবতীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এখানে একটা পদ্মপুকুর ও ওয়াচ টাওয়ার আছে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। চমৎকারবনের আসল সৌন্দর্য্য দেখতে হলে শীপে ২/৩ রাতের প্যাকেজে ভ্রমণ করুন।
কম খরচে একদিনে চমৎকারবন ভ্রমণআপনি যদি কম খরচে একদিনে চমৎকারবন ঘুরে দেখতে চান অর্থাৎ ডে ট্যুর দিতে চান তাহলে মোংলা থেকে করমজল অথবা হারবাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখতে পারেন। আর খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া শীপ মোংলা হয়েই চমৎকারবনে প্রবেশ করে। চমৎকারবন ভ্রমণ প্যাকেজ খরচচমৎকারবন ভ্রমণ প্যাকেজ (Sundarban Tour Package) এর খরচ নির্ভর করে জাহাজ ও খাবারের মান, কি কি ঘুরে দেখাবে ও কতদিনের ট্যুর তার উপর।
ওয়াচ টাওয়ার থেকে থেকে পুরো হাড়বাড়িয়া দেখতে পাওয়া যায়। শীতকালে গেলে উন্নত মানের শীতের কাপড় নিয়ে নিন। আপনি যদি আরাম আয়েশ করে চমৎকারবনের প্রকৃতি উপভোগ করতে চান তাহলে পৌঁছাতে পারবেন রিসোর্ট গুলোতে।
বন বিভাগের ভ্রমণ ফি ছাড়াও অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক দিন গাইডের জন্য ফি ৫০০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ডদের জন্য ফি ৩০০ টাকা, লঞ্চের ক্রুর জন্য ফি ৭০ টাকা, টেলিকমিউনিকেশন ফি ২০০ টাকা। ভাড়া সিটের ক্লাস অনুযায়ী ৪৪৫ টাকা থেকে ২,৩৮৫ টাকা। আর সব গুলো জায়গা ঘুরে দেখতে লঞ্চ ও শীপ (Sundarban Ship) ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।
প্যাকেজ গুলো প্রায়ই ২ রাত ৩ দিন অথবা ৩ রাত ৪ দিনের হয়ে থাকে। চমৎকারবনের প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু থেকে বিরত থাকুন। এখানে আছে বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া কাঠের পুলের ট্রেইল, হরিণ, কুমির, বানর সহ বিচিত্র প্রজাতির গাছ গাছালি।
চমৎকারবনের চমৎকার ও সেরা রিসোর্ট গুলোর বিস্তারিত জানতে পড়ুন চমৎকারবন এর সেরা রিসোর্ট ও কটেজ ব্লগ। এখানে একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে, এই টাওয়ার থেকে চমৎকারবনের সৌন্দর্য্যের কিছুটা অংশে একসাথে চোখ বুলানো যায়। অভয়ারণ্যের বাইরে দেশি দর্শনার্থীদের ভ্রমণ ফি – ৭০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী- ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১০০০ টাকা ও গবেষকদের জন্য ভ্রমণ ফি – ৪০ টাকা।
এটি মুলত বন বিভাগের হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র। চমৎকারবন ভ্রমণ খরচট্যুর এজেন্সির সাথে ভ্রমণে গেলে প্রায়ই প্যাকেজ গুলোতে সব ধরণের ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই আলাদা করে ফি দিতে হয়না। আর ভাগ্য ভাল থাকলে এখান থেকে হরিণ কিংবা বাঘের দেখা পেয়ে পৌঁছাতে পারবেন।
পুরো ট্রেইলটা ঘুরে আসতে ৩০ মিনিটের মত সময় লাগে। চমৎকারবনে রাস পূর্ণিমার সময় তীর্থযাত্রীদের ৩ দিনের জন্য জনপ্রতি ফি দিতে হয় ৫০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ফি ২০০ টাকা, অনিবন্ধনকৃত ট্রলারের ফি ৮০০ টাকা এবং প্রত্যেক দিন অবজায়গাের জন্য ট্রলারের ফি ২০০ টাকা। চমৎকারবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যে রয়েছে।
চমৎকারবন ভ্রমণের উপায়আপনি চাইলেই একা বা ২-৩ জন গ্রুপ করে চমৎকারবনের গহীনে ঘুরতে যেতে পারবেন না। খুলনা ও মোংলা থেকে ভ্রমণের জন্যে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় জায়গা গুলোর মধ্যে রয়েছে করমজল, হারবাড়িয়া, কছিখালি, কটকা, জামতলা, হিরন পয়েন্ট ও দুবলার চর। আর ভাড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।
চমৎকারবনের গহীনে যদি পশু–পাখি দেখার সুযোগ না হয়ে থাকে, যদিও দুধের স্বাদ ঘোলে মিটবে করমজলে। মোটামুটি মানের শীপে ঘুরতে জন প্রতি খরচ হবে ৬০০০-১৪০০০ টাকা। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি- এই পাঁচ মাস প্রায় ১০ হাজারের মত জেলে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে।
এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। দুবলার চরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। আর চিত্রা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় রাত ৮টায়।
শুধু করমজল ঘুরে দেখতে ভাড়া লাগবে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মান্দারবাড়িয়া সৈকত: মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের কিছুটা অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত বলে মনে করা হয়। এখানের মূল আকর্ষণ বনের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কাঠের ট্রেইল।
চমৎকারবন ঘুরে দেখতে পাওয়া যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা দিয়ে। দুবলার চর: চমৎকারবন অঞ্চলর মধ্যে ছোট্ট একটা চর হচ্ছে দুবলার চর (Dublar Char)। ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চমৎকারবন এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৮টায় ছেড়ে যায়।
এখানে বেলাভূমি জুড়ে আঁকা থাকে লাল কাঁকড়াদের শিল্পকর্ম। অথবা খুলনায় গিয়ে সেখান থেকেও মোংলায় পৌঁছানো যায়। জামতলা ঘাট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পায়ে পায়ে হেঁটে গেলে দেখা যাবে জামতলা সী বীচের।
আর সাগর কোল ঘেষেই কটকা আভায়ারন্যটি। এবং হারবাড়িয়া প্রবেশ টিকেট মূল্য ১৭২ টাকা। হারবাড়িয়া: হারবাড়িয়া (Harbaria) চমৎকারবনের অন্যতম একটা পর্যটন জায়গা।
আরও পড়ুনচমৎকারবন এর সেরা ৯টি রিসোর্ট ও কটেজ
কোথায় থাকবেন?
শীপে বা লঞ্চে ঘুরতে গেলে সেখানেই আবাসন সুবিধা থাকে। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবে ভ্রমণ করলে চমৎকারবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। খুলনা নগরীতে নানা মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আর চমৎকারবনের রিসোর্ট গুলোতে থাকতে চাইলে উপরের লিংক থেকে জেনে নিন।
ট্রাভেল টিপস
চমৎকারবনের বহু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকলে লাক্সারী শীপে ভ্রমণ করতে পারেন। চমৎকারবনের আসল সৌন্দর্য্য দেখতে হলে শীপে ২/৩ রাতের প্যাকেজে ভ্রমণ করুন। প্রয়োজনীয় ঔষধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিসপত্র সাথে রাখুন। ভ্রমণ খরচ কমাতে চাইলে বিশেষ ছুটির দিন গুলো এড়িয়ে চলুন। কিছু জায়গায় টেলিটক নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। নিরাপদ খাবার পানি সাথে রাখুন। কোন শীপে/লঞ্চে নিয়ে যাবে তা আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন। শীপে উঠার আগেই প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে উঠুন। শীতকালে গেলে উন্নত মানের শীতের কাপড় নিয়ে নিন। ট্যুর গাইডের কথা মেনে চলুন। বনে ঢুকার সময় একসাথে থাকুনচমৎকারবন ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য সুদক্ষ ও সশ
বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?
শীপে বা লঞ্চে ঘুরতে গেলে সেখানেই আবাসন সুবিধা থাকে। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যা
সুন্দরবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?
চমৎকারবন (Sundarban) একটা প্রকৃতির বিস্ময়ের নাম। যদিও মূল চমৎকারবনের স্বাদ পেতে হলে গহীনের জায়গা গুলোতেই রওনা দিতে হবে। যে গুলোতে প্রায় সারা বছরই থাকা যায়।
তথ্য সূত্র: Vromon Guide
