bangladesh · Editorial

কটকা সমুদ্র সৈকত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি চমৎকারবনের বৈচিত্রময় জায়গা গুলোর মধ্যে কটকা অন্যতম। মোংলা বন্দর থেকে কটকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। চমৎকারবনের

Photograph · Collected for Tripzao Journal

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি চমৎকারবনের বৈচিত্রময় জায়গা গুলোর মধ্যে কটকা অন্যতম। এই পুকুরই এখানকার কর্মরত কোস্টগার্ড, ফরেস্ট অফিসার এবং জায়গাীয় জেলেদের পানি এককেবল উৎস।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, খুলনা বিভাগ

কটকা সমুদ্র সৈকত

কটকা সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে

৫০ ফুটের নিচে নৌযানের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা ও এদের জন্য নবায়ন ফি লাগে আড়াই হাজার টাকা। কচিখালী প্রতি কক্ষের জন্য লাগিবে তিন হাজার টাকা আর বিদেশিদের জন্য লাগবে পাঁচ হাজার টাকা। সাধারণ ট্রলার তিন হাজার টাকা ফি-তে চমৎকারবন অবজায়গা করতে পারে, এদের নবায়ন ফি – ১৫০০ টাকা।

কটকাতে প্রতি কক্ষ নিতে দুই হাজার টাকা লাগবে এবং বিদেশিদের জন্য রুম প্রতি পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। করমজলে দেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ ফি জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ৩০০ টাকা। খুলনা নগরীতে নানা মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বেশ নির্জন ও পরিচ্ছন্ন সৈকতের বেলাভূমিজুড়ে চোখে পড়ে কাঁকড়াদের শিল্পকর্ম। দর্শনার্থীদের নিয়ে লঞ্চ কটকা খালে নোঙ্গর করা হয়। খুলনা থেকে রুপসা কিংবা বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে চমৎকারবন যাওয়ার লঞ্চ পাবেন।

পূর্বে রয়েছে ঘন বন আর মিঠা জলের পুকুর। ১০০ ফুটের ঊর্ধ্বে লঞ্চের জন্য দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা, নবায়ন ফি দিতে হয় চার হাজার টাকা। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন।

জায়গাীয়দের কাছে কটকা সমুদ্র সৈকতটি জামতলা সমুদ্র সৈকত হিসাবে পরিচিত। আর গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে সাকুরা পরিবহন (০১৭১১০১০৪৫০) এবং সোহাগ পরিবহন (০১৭১৮৬৭৯৩০২) এর বাস ছাড়ে। দর্শনার্থীদের নিয়ে লঞ্চ কটকা খালে নোঙ্গর করা হয়।

রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। কটকা সৈকতটি সোজা পূর্বদিকে কচিখালিতে গিয়ে মিশেছে। বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন আবাসিক হোটেল ব্যবস্থা নেই।

সূর্যাস্ত দেখার জন্য কটকা সমুদ্র সৈকত একটা আদর্শ জায়গা। এছাড়া এখানে বানর, বন্য শুকর, বনবিড়াল এবং বিচিত্র প্রজাতির পাখির সাথে শীতকালে কুমির দেখতে পাওয়া যায়। এই পথে সামনে গেলে অসাধারণ বুনো কটকা সমুদ্র সৈকত।

অভয়ারণ্যের বাইরে দেশি দর্শনার্থীদের ভ্রমণ ফি – ৭০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী- ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১০০০ টাকা ও গবেষকদের জন্য ভ্রমণ ফি – ৪০ টাকা। বন বিভাগ কার্যালয়ের পেছনে কাঠের তৈরি টেইলের উত্তর দিকে কেওড়ার বনের একটু নিরিবিলি জায়গায় গেলে অনিন্দ্য চমৎকার চিত্রা হরিণের দেখা পাওয়া যায়। এই সৈকতে ঢেউয়ের আকার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং অজ্ঞাত চোরাবালি জন্য পানিতে নামা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। চমৎকারবনের প্রকৃতির অপরূপ রূপ্য উপভোগ করার জন্য কটকাতে রয়েছে ৪০ ফুট উঁচু একটা ওয়াচ টাওয়ার।

কীভাবে যাবেন

এখন প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান চমৎকারবনে পর্যটন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। লঞ্চ হচ্ছে কটকাতে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম। জালিবোট যেগুলো ট্যুরিস্ট বোট হিসাবে খ্যাত সেগুলোর জন্য এককালীন ফি দিতে হয় দুই হাজার টাকা ও নবায়ন ফি এক হাজার টাকা লাগে।

হেলিকপ্টার/সী প্লেনের জন্য এককালীন ফি লাগে ৩০ হাজার টাকা, নবায়ন করতে ফি দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। খরচঅভয়ারণ্য অঞ্চলয় দেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রত্যেক দিনের জনপ্রতি ভ্রমণ ফি – ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য – ৩০ টাকা, বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১৫০০ টাকা। লঞ্চ হচ্ছে কটকাতে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম।

বন বিভাগের ভ্রমণ ফি ছাড়াও অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক দিন গাইডের জন্য ফি ৫০০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ডদের জন্য ফি ৩০০ টাকা, লঞ্চের ক্রুর জন্য ফি ৭০ টাকা, টেলিকমিউনিকেশন ফি ২০০ টাকা। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেঅ থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে।

চাইলে কমলাপুর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে খুলনা আসতে পারেন। নীলকমলে থাকতে চাইলে দেশি দর্শনার্থীদের প্রতি কক্ষের জন্য তিন হাজার টাকা লাগবে আর বিদেশিদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। স্পিডবোটের জন্য ফি দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা, নবায়ন করতে লাগে দুই হাজার টাকা।

বনের দক্ষিণে তিনটি টাইগার টিলায় প্রায়শই বাঘের পায়ের ছাপ দেখাতে পাওয়া যায়। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভাল ট্যুর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চমৎকারবনে যেতে পারবেন সহজেই।

মোংলা বন্দর থেকে কটকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। চমৎকারবনে রাস পূর্ণিমার সময় তীর্থযাত্রীদের ৩ দিনের জন্য জনপ্রতি ফি দিতে হয় ৫০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ফি ২০০ টাকা, অনিবন্ধনকৃত ট্রলারের ফি ৮০০ টাকা এবং প্রত্যেক দিন অবজায়গাের জন্য ট্রলারের ফি ২০০ টাকা। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায় মেঘনা পরিবহন (০১৭১৭৩৮৮৫৫৩) ও দর্শনার্থী পরিবহন (০১৭১১১৩১০৭৮) এর বাস।

কোথায় থাকবেন

চমৎকারবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাগেরহাটগামী নানা বাস চলাচল করে। ভিডিও ক্যামেরা বাবদ দেশি দর্শনার্থীদের ফি দিতে হয় ২০০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের ফি দিতে হয় ৩০০ টাকা।

এই সব প্রতিষ্টানের লোকদের মাধ্যমে কটকায় যেতে পারবেন। এছাড়াও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকেও চমৎকারবনে যাওয়ার নানা নৌযান ভাড়া করার সুযোগ পাবেন। কটকা ওয়াচ টাওয়ার থেকে সোজা উত্তরে কটকা সমুদ্র সৈকত।

খালের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে কটকা বন বিভাগের কার্যালয়, সেখান থেকে কিছুটা পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলে ইট বাঁধানো পথের দেখা মিলে। ৫০ ফুট থেকে ১০০ ফুট লঞ্চের জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা দিতে হয় আর নবায়ন ফি লাগে তিন হাজার টাকা। আরও পড়ুনচট্টগ্রামের কাছে ৬টি সমুদ্র সৈকত ভ্রমণপাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতসৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন – সময়সূচী, টিকেট মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য

কীভাবে যাবেন?

এখন প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান চমৎকারবনে পর্যটন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে।

দর্শনার্থীদের নিয়ে লঞ্চ কটকা খালে নোঙ্গর করা হয়।

ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাগেরহাটগামী নানা বাস চলাচল করে।

ভাল ট্যুর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চমৎকারবনে যেতে পারবেন সহজেই।

চাইলে কমলাপুর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে খুলনা আসতে পারেন।

লঞ্চ হচ্ছে কটকাতে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম।

কোথায় থাকবেন?

চমৎকারবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। খুলনা নগরীতে নানা মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কচিখালী প্রতি কক্ষের জন্য লাগিবে তিন হাজার টাকা আর বিদেশিদের জন্য লাগবে পাঁচ হাজার টাকা। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেঅ থাকার জন্য খোঁজ নিতে পারেন। বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন আবাসিক হোটেল ব্যবস্থা নেই। মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। কটকাতে প্রতি কক্ষ নিতে দুই হাজার টাকা লাগবে এবং বিদেশিদের জন্য রুম প্রতি পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। নীলকমলে থাকতে চাইলে দেশি দর্শনার্থীদের প্রতি কক্ষের জন্য তিন হাজার টাকা লাগবে আর বিদেশিদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। আরও পড়ুনচট্টগ্রামের কাছে ৬টি সমুদ্র সৈকত ভ্রমণপাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতসৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন – সময়সূচী, টিকেট মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

কটকা সমুদ্র সৈকত কীভাবে যাবেন?

এখন প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান চমৎকারবনে পর্যটন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিয়ে লঞ্চ কটকা খালে নোঙ্গর করা হয়। ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাগেরহাটগামী নানা বাস চলাচল করে। ভাল ট্যুর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চমৎকারবনে যেতে পারবেন সহজেই। চাইলে কমলাপুর থেকে

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

চমৎকারবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাবেন। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, যদিও খরচ একটু বেশি। পশুর বন্দরে দর্শনার্থীদের থা

কটকা সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি চমৎকারবনের বৈচিত্রময় জায়গা গুলোর মধ্যে কটকা অন্যতম। এই পুকুরই এখানকার কর্মরত কোস্টগার্ড, ফরেস্ট অফিসার এবং জায়গাীয় জেলেদের পানি এককেবল উৎস। ৫০ ফুটের নিচে নৌযানের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা ও এদের জন্য নবায়ন ফি লাগে আড়াই হাজার টাকা।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh guide khulna
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.