bangladesh · Editorial

তৈদুছড়া ঝর্ণা

খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। ত্রিপুরা ভাষায়

Photograph · Collected for Tripzao Journal

খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। তাছাড়া পাহাড়ের গায়ে জুম চাষের ক্ষেত দর্শনার্থীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

তৈদুছড়া ঝর্ণা

তৈদুছড়া ঝর্ণা সম্পর্কে

তৈদুছড়া যাওয়ার পথে ছোট বড় বেশকিছু ঝর্ণা ও পাহাডড়ের স্বর্গীয় রূপ মুগ্ধ করবে যে কাউকে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, উত্তরা ও আরামবাগ থেকে খাগড়াছড়ি (Khagrachari) যাওয়ার বাসগুলো ছেড়ে যায়। মশা থেকে বাঁচতে ওডোমস ক্রিম সঙ্গে রাখুন। সীমানা পাড়া দিয়ে গেলে সময় বাঁচবে ও ট্র্যাকিং কম করতে হয়।

তৈদুছড়া ঝর্ণার ডানপাশ দিয়ে ঝিরি পথ পার হয়ে প্রায় ঘণ্টা খানিক হেঁটে গেলেই থাংঝাং ঝর্ণা দেখার সুযোগ পাবেন। দীঘিনালা হতে তৈদুছড়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যেতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ঝর্ণার ধাপে ধাপে পাথুরে স্তর এই ঝর্ণাকে অন্য সব ঝর্ণা থেকে আলাদা করে তুলেছে।

খাগড়াছড়ি থেকে সকাল ৭ টায় রওনা দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা যায়। জামতলীর পোমাংপাড়া থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা পৌঁছাতে পারবেন। ঝর্ণার পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরা, পেডা টিং টিং, গাং সাবারং, পাজন ও চিম্বাল রেস্তোরাঁের খাবার বেশ পরিচিত। ঝর্ণার আশেপাশের পাথর বেশ পিচ্ছিল থাকে এবং সাঁতার না জানলে পানিতে নামলেও অল্প গভীরতায় অবজায়গা করুন। ঝর্ণার পাশেই প্রায় ৮০ ফুট উঁচু থেকে বয়ে যাওয়া থাংঝাং নামের আরেকটি ঝর্ণা।

যদিও খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল, হোটেল ইকো ছড়ি ইন, শৈল সুবর্ন, হোটেল হিল টাচ, হোটেল মাউন্ট ইন, হোটেল নূর, গাংচিল আবাসিক, অরণ্য বিলাস সহ কয়েকটি ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। যদিও শাপলা মোড় থেকে চান্দের গাড়ী নিলে সরাসরি সীমানা পাড়া যেতে পারবেন। ভাল গ্রিপের জুতা পড়তে হবে।

ট্র্যাকিং প্রেমীরা দীঘিনালার দুর্গম গিরি পথ পাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ির বৃহত্তম এই ঝর্ণা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে। তারপর সেখান থেকে গাড়ী বা মোটর সাইকেলে জামতলী রওনা দিতে হবে। সীমানা পাড়া থেকে গাইড নিয়ে ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা ও থাংঝাং ঝর্ণায় যেতে হয়।

তৈদুছাড়া ঝর্ণা ভ্রমণ পরামর্শশীতের আগে ও বর্ষার শেষে তৈদুছাড়া ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। ত্রিপুরা ভাষায় তৈদু মানে পানির দরজা এবং ছড়া মানে ঝর্ণা। বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়ার পরিমান নন এসি ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং এসি ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকা।

জোঁকের কামড় থেকে নিরাপদে থাকতে লবন বা গুল নিতে পারেন। কোথায় খাবেনদীঘিনালাতে ক্যাফে আমন্ত্রণ রেস্তোরাঁ, সাদিয়া হোটেল ও দরবার হোটেলের মতো সাধারন মানের হোটেল পাবেন। জলনিরোধ হালকা একটা ট্র্যাভেল ব্যাগে কিছু শুকনা কাপড়, মোটা ও শক্ত দড়ি, স্যালাইন ও ফাস্ট এইড বক্স সাথে নিয়ে যাবেন।

দীর্ঘ রোমাঞ্চকর এই পথের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় ঝর্ণার শীতল পানিতে নেমে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং সীমানা পাড়া এই দুই পথেই তৈদুছড়া পৌঁছানো যায়। যদি সীমানা পাড়া হয়ে তৈদুছড়া ঝর্ণা যেতে চান যদিও খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা মোড় থেকে দীঘিনালাগামী বাস বা সিএনজি নিয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে সীমানা পাড়া যাওয়ার রাস্তায় নামতে হবে।

প্রশাসনের অনুমোদিত গাইড সাথে নিয়ে যান। মূলত থাংঝাং ঝর্ণা হতে সৃষ্ট ঝিরির পানি থেকেই তৈদুছড়া ঝর্ণার উৎপত্তি হয়েছে। আর যদি দীঘিনালা থেকে যেতে চান যদিও খাগড়াছড়ির শাপলা মোড় থেকে বাস বা আপনার সুবিধাজনক যানবাহনে দীঘিনালা চলে আসুন।

পরিমান মতো শুকনো খাবার ও পানীয় সাথে নিয়ে যান। যদিও তৈদুছড়া ঝর্ণার পানির ধারা একটু ব্যতিক্রম, পাহাড়ের গা বেঁয়ে সিঁড়ির মতো তৈরি হওয়া অসংখ্য পাথুরে ধাপ হতে জল গড়িয়ে ছোট একটা হ্রদের সাথে মিলিত হয়েছে। কোথায় থাকবেনদীঘিনালাতে আল আমিন, দীঘিনালা গেস্ট হাউজ ও হোটেল জুরানির মতো সাধারন মানের আবাসিক হোটেল আছে।

১০০ ফুট উচু ঝর্ণা মুখ থেকে বয়ে যাওয়া শীতল ও স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে তৈদুপাড়া অঞ্চলর চারপাশ। প্রকৃতির অসাধারন বিচিত্রের এই ঝর্ণা এক ভিন্ন কেবলা যোগ করেছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ৩ কিলোমিটার গেলে সীমানা পাড়া পৌঁছে যাবেন।

যদিও এই পথে পাড়ি দিতে হবে পাহাড়ী উঁচু নিচু ঢাল, বুনো জঙ্গল আবার কখনো হাঁটু বা বুক সমান পানি। খাগড়াছড়ির অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাখাগড়াছড়ির অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাের মধ্যে রিসাং ঝর্ণা, পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুঠির, আলুটিলা গুহা, হাতিমাথা ও নিউজিল্যান্ড পাড়া উল্লেখযোগ্য।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, উত্তরা ও আরামবাগ থেকে খাগড়াছড়ি (Khagrachari) যাওয়ার বাসগুলো ছেড়ে যায়।

জামতলীর পোমাংপাড়া থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা পৌঁছাতে পারবেন।

সীমানা পাড়া থেকে গাইড নিয়ে ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা ও থাংঝাং ঝর্ণায় যেতে হয়।

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং সীমানা পাড়া এই দুই পথেই তৈদুছড়া পৌঁছানো যায়।

বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়ার পরিমান নন এসি ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং এসি ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকা।

যদিও শাপলা মোড় থেকে চান্দের গাড়ী নিলে সরাসরি সীমানা পাড়া যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?

দীঘিনালাতে আল আমিন, দীঘিনালা গেস্ট হাউজ ও হোটেল জুরানির মতো সাধারন মানের আবাসিক হোটেল আছে। যদিও খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল, হোটেল ইকো ছড়ি ইন, শৈল সুবর্ন, হোটেল হিল টাচ, হোটেল মাউন্ট ইন, হোটেল নূর, গাংচিল আবাসিক, অরণ্য বিলাস সহ কয়েকটি ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন?

দীঘিনালাতে ক্যাফে আমন্ত্রণ রেস্তোরাঁ, সাদিয়া হোটেল ও দরবার হোটেলের মতো সাধারন মানের হোটেল পাবেন। খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরা, পেডা টিং টিং, গাং সাবারং, পাজন ও চিম্বাল রেস্তোরাঁের খাবার বেশ পরিচিত।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

শীতের আগে ও বর্ষার শেষে তৈদুছাড়া ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। জোঁকের কামড় থেকে নিরাপদে থাকতে লবন বা গুল নিতে পারেন। জলনিরোধ হালকা একটা ট্র্যাভেল ব্যাগে কিছু শুকনা কাপড়, মোটা ও শক্ত দড়ি, স্যালাইন ও ফাস্ট এইড বক্স সাথে নিয়ে যাবেন। ভাল গ্রিপের জুতা পড়তে হবে। ঝর্ণার আশেপাশের পাথর বেশ পিচ্ছিল থাকে এবং সাঁতার না জানলে পানিতে নামলেও অল্প গভীরতায় অবজায়গা করুন। ঝর্ণার পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। পরিমান মতো শুকনো খাবার ও পানীয় সাথে নিয়ে যান। প্রশাসনের অনুমোদিত গাইড সাথে নিয়ে যান। মশা থেকে বাঁচতে ওডোমস ক্রিম সঙ্গে রাখুন।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

তৈদুছড়া ঝর্ণা কীভাবে যাবেন?

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, উত্তরা ও আরামবাগ থেকে খাগড়াছড়ি (Khagrachari) যাওয়ার বাসগুলো ছেড়ে যায়। জামতলীর পোমাংপাড়া থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা পৌঁছাতে পারবেন। সীমানা পাড়া থেকে গাইড নিয়ে ট্র্যাকিং করে তৈদুছড়া ঝর্ণা ও থাংঝাং ঝর্ণায় যেতে হয়। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনা

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

দীঘিনালাতে আল আমিন, দীঘিনালা গেস্ট হাউজ ও হোটেল জুরানির মতো সাধারন মানের আবাসিক হোটেল আছে। যদিও খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল, হোটেল ইকো ছড়ি ইন, শৈল সুবর্ন, হোটেল হিল টাচ, হোটেল মাউন্ট ইন, হোটেল নূর, গাংচিল আবাসিক, অরণ্য বিলাস সহ কয়েকটি ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

তৈদুছড়া ঝর্ণা সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

খাগড়াছড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার বুনো জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলছে নয়নাভিরাম তৈদুছড়া ঝর্ণা। তাছাড়া পাহাড়ের গায়ে জুম চাষের ক্ষেত দর্শনার্থীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। তৈদুছড়া যাওয়ার পথে ছোট বড় বেশকিছু ঝর্ণা ও পাহাডড়ের স্বর্গীয় রূপ মুগ্ধ করবে যে কাউকে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.