bangladesh · Editorial

ইটনা হাওর

কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা (Itna) ভ্রমণ গাইড। কীভাবে যাবেন, কি কি দেখবেন, কীভাবে ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, খরচ কত হবে এবং ভ্রমণ টিপস।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলাগুলোর মধ্যে ইটনা অন্যতম। ট্রেনের টিকেট কাটতে শ্রেনী ভেদে ১৩৫ টাকা থেকে ৩৬৮ টাকা লাগবে।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ

ইটনা হাওর

ইটনা হাওর সম্পর্কে

ইটনা জেটি থেকে ডান দিকে ঠাকুর গেস্ট হাউসে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় থাকার জন্য রুম পেয়ে যাবেন। এছাড়া ভাল মানের হোটেলে রাত্রি যাপনের জন্য আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলায় ফিরে আসতে হবে। হাওরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যের পাশাপাশি চোখে পড়বে বিচিত্রন প্রজাতির পাখি।

আবার কোথাও কোথাও মাথা চারা দিয়ে উঠে একটা দুটি সবুজ বৃক্ষ, দ্বীপের মত ভাসমান একটা দুটি কিংবা একগুচ্ছ বসতবাড়ি। ঢাকা থেকে বাসে কিশোরগঞ্জ : মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জ গামী “অনন্যা পরিবহন” বা গোলাপবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা সুপার কিংবা যাতায়াত বাসে কিশোরগঞ্জের শহরস্থ গাইটাল বাসস্ট্যান্ড চলে আসুন। যদিও কিশোরগঞ্জের কোন বাস সার্ভিসই তেমন ভালনা।

মহাখালী থেকে সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত এবং গোলাপবাগ থেকে ৪ ঘন্টার মত। যদি অনন্যা সুপার কিংবা যাতায়াত বাসে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড এসে নামেন যদিও সেখান থেকে ইজিবাইক দিয়ে শহরের একরামপুর মোড়ে চলে আসুন। সেইরকম রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে তাই আপনাকে বর্ষার শুরুর দিকে রওনা দিতে হবে যখন কম পানি থাকে অথবা পানি নেমে যাওয়ার সময় রওনা দিতে হবে।

চামটা ঘাট হতে প্রত্যেক দিন সকাল ৮ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে ইটনার উদ্দেশ্যে ট্রলার ছেড়ে যায়।

কোথায় খাবেন

ইটনা বাজারে খাবারের জন্য বেশকিছু হোটেল পাবেন। যদিও উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতেও চাইলে থাকতে পারবেন। বলে রাখা ভাল কিশোরগঞ্জের জায়গাীয় মানুষ চামটা ঘাট-কে আঞ্চলিক ভাবে ‘চামড়া ঘাট’ নামে ডাকে।

এছাড়া আরো আছে দেওয়ান বাড়ি, মহেশগুপ্তের জমিদার বাড়ি (গুপ্ত বাড়ি), গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি ও জয়সিদ্ধি গ্রামে আনন্দ মোহন বসুর বাড়ি। এরপর ইজিবাইক (অটো) দিয়ে কেবল ৫ টাকা ভাড়ায় কিংবা ৫ মিনিট পায়ে হেঁটে আসতে হবে শহরের একরামপুর মোড়ে। চামটাঘাট থেকে সারাদিনের জন্য ইঞ্জিন নৌকা বা ট্রলার রিজার্ভ নিলে সবগুলো জায়গা একদিনে ভ্রমণ করতে করে সেই দিনই কিশোরগঞ্জ শহরে ফিরে আসতে পারবেন।

একইভাবে ইটনা থেকেও প্রত্যেক দিন সকাল ৮ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ট্রলার চলাচল করে। ইজিবাইকে ১৫ টাকা এবং রিক্সায় ৩০ টাকা ভাড়া লাগবে। এক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে অন্য পরিবহণে আপনাকে চামটা বন্দর আসতে হবে না।

ইটনা

কোথায় থাকবেন

দর্শনার্থীদের জন্য ইটনায় বলার মত তেমন ভাল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। চামটাঘাট থেকে ইটনা যাবার জন্য ট্রলারে পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জ শহরে নানা মানের বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিংবা বাসে চড়ে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। একরামপুর থেকে চামটা ঘাটের দূরত্ব বিশ কিলোমিটার। ইটনাতেও আছে এমন বেশ কিছু রাস্তা।

আর হাওরের বুকে সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য দেখার মুগ্ধতা কীভাবে ভুলে থাকবেন! ইটনায় রয়েছে দুইটি উল্লেখযোগ্য হাওর হচ্ছে শনির হাওর ও ধনপুরের হাওর। এদের মধ্যে গাংচিল, ক্যাসেল সালাম, রিভারভিউ, উজান ভাটি উল্লেখযোগ্য।

যদিও রাস্তা গুলো নিচু হওয়া বর্ষায় যখন হাওর পানিতে পূর্ণ থাকে তখন রাস্তা গুলো পানির নীচে তলিয়ে যায়। কিছু সাধারণ মানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। তখন দুচোখে শুধু দিগন্তজোড়া সাগরসম অথৈ পানির বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়।

ঢাকা হতে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ : কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশান থেকে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিটে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে উঠলে দুপুর ১১ টার মধ্যে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাতে পারবেন। হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে বেশ ভালোমতই উদরপূর্তি করে নিতে পারবেন। সারা বছরই ইটনার হাওড় গুলোতে কম-বেশি পানি থাকলেও বর্ষাকালে হাওরগুলো যেন শৈল্পিক রূপ লাভ করে।

নৌকা ভাড়া করে ইটনা হাওরের ঘুরে ঘুরে বুকে অসাধারণ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন। বর্ষায় ইটনা হাওর (Itna Haor) এলাকাের মানুষের চলাচলের এককেবল বাহন হচ্ছে নৌকা। তাই বহু নৌকার দেখা মিলবে ইটনা ভ্রমণে।

সেই সাথে হাওরের জলে সাতার কাটতে পারেন এবং মেতে উঠতে পারেন জলজ খেলায়। হাওরের মাঝ দিয়ে পানি সমান রাস্তা : দুইপাশে পানি আর মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কাঁচাপাকা রাস্তা। এমন দৃশ্যর ছবি বা ভিডিও বহুেই হয়তো দেখেছেন।

আর গোলাপবাগ থেকে হাওর বিলাস কিংবা উজান ভাটি বাসে আসেন যদিও সরাসরি চামটা বন্দর/ চামটা ঘাটে নামতে পারবেন। তার মধ্যে তুলনামূলক ভাল সার্ভিস ভাল মহাখালীর অনন্যা পরিবহন এবং গোলাপবাগ থেকে যাতায়াত বাস সার্ভিস। কিশোরগঞ্জ থেকে ইটনা : একরামপুর মোড় হতে সিএনজি কিংবা মহেন্দ্রতে চড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় চামটা ঘাট আসতে হবে।

জনপ্রতি বাস ভাড়া ২৭০-৩৫০ টাকা। ইটনা হাওর ভ্রমণ ছাড়া আর যা যা দেখতে পারেনইটনা সদরে রয়েছে ‘ইটনা শাহী মসজিদ‘ উপজেলার সমস্ত দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ট্রলারে করে ইটনা যেতে ৬০ টাকা ভাড়া লাগে, আর সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা।

ইটনা হাওরে

কীভাবে যাবেন

সরাসরি যদি ইটনা হাওরে যেতে চান যদিও প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রলারের সাইজ অনুযায়ী ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা ভাড়া লাগবে। এছাড়া মিষ্টি প্রিয় হলে কিশোরগঞ্জ শহরের মদনগোপাল বা রাজমনী সুইটসের মালাইকারী, একরামপুর ব্রিজের কাছে লক্ষীভান্ডারের রসমালাই টেস্ট করবেন।

কীভাবে যাবেন?

সরাসরি যদি ইটনা হাওরে যেতে চান যদিও প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে।

চামটাঘাট থেকে ইটনা যাবার জন্য ট্রলারে পাওয়া যায়।

আর গোলাপবাগ থেকে হাওর বিলাস কিংবা উজান ভাটি বাসে আসেন যদিও সরাসরি চামটা বন্দর/ চামটা ঘাটে নামতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিংবা বাসে চড়ে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন।

বলে রাখা ভাল কিশোরগঞ্জের জায়গাীয় মানুষ চামটা ঘাট-কে আঞ্চলিক ভাবে ‘চামড়া ঘাট’ নামে ডাকে।

চামটা ঘাট হতে প্রত্যেক দিন সকাল ৮ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে ইটনার উদ্দেশ্যে ট্রলার ছেড়ে যায়।

কোথায় থাকবেন?

দর্শনার্থীদের জন্য ইটনায় বলার মত তেমন ভাল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। কিশোরগঞ্জ শহরে নানা মানের বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া ভাল মানের হোটেলে রাত্রি যাপনের জন্য আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলায় ফিরে আসতে হবে। কিছু সাধারণ মানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। যদিও উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতেও চাইলে থাকতে পারবেন। ইটনা জেটি থেকে ডান দিকে ঠাকুর গেস্ট হাউসে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় থাকার জন্য রুম পেয়ে যাবেন। এদের মধ্যে গাংচিল, ক্যাসেল সালাম, রিভারভিউ, উজান ভাটি উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন?

ইটনা বাজারে খাবারের জন্য বেশকিছু হোটেল পাবেন। হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে বেশ ভালোমতই উদরপূর্তি করে নিতে পারবেন। এছাড়া মিষ্টি প্রিয় হলে কিশোরগঞ্জ শহরের মদনগোপাল বা রাজমনী সুইটসের মালাইকারী, একরামপুর ব্রিজের কাছে লক্ষীভান্ডারের রসমালাই টেস্ট করবেন।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ইটনা হাওর কীভাবে যাবেন?

সরাসরি যদি ইটনা হাওরে যেতে চান যদিও প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। চামটাঘাট থেকে ইটনা যাবার জন্য ট্রলারে পাওয়া যায়। আর গোলাপবাগ থেকে হাওর বিলাস কিংবা উজান ভাটি বাসে আসেন যদিও সরাসরি চামটা বন্দর/ চামটা ঘাটে নামতে পারবেন। ঢাকা থেকে ট্রেনে কিংবা বাসে চড়ে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। বলে রাখা ভাল কিশোরগ

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

দর্শনার্থীদের জন্য ইটনায় বলার মত তেমন ভাল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। কিশোরগঞ্জ শহরে নানা মানের বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া ভাল মানের হোটেলে রাত্রি যাপনের জন্য আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলায় ফিরে আসতে হবে। কিছু সাধারণ মানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। যদিও উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতেও চাইলে থাকতে পারবেন। ইটনা জেটি

ইটনা হাওর সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলাগুলোর মধ্যে ইটনা অন্যতম। ট্রেনের টিকেট কাটতে শ্রেনী ভেদে ১৩৫ টাকা থেকে ৩৬৮ টাকা লাগবে। ইটনা জেটি থেকে ডান দিকে ঠাকুর গেস্ট হাউসে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় থাকার জন্য রুম পেয়ে যাবেন।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh Dhaka guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.