
সৈয়দ মুজতবা আলী বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “হে বৎস, যদি বোহেমিয়ান হতে চাও, তবে একবার ওয়ারীর বলধা গার্ডেনে তশরিফ আনো!” ১৯০৯ সালে বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী যখন দেশ-বিদেশ থেকে দুর্লভ সব চারাগাছ এনে এই ৩.৩৮ একর জমি সাজাতে শুরু করেছিলেন, তিনি বোধহয় জানতেন না যে শতবর্ষ পরেও এই বাগান ঢাকার মানুষের ফুসফুস হয়ে থাকবে।
ভাবুন তো, জাঁকজমকপূর্ণ সাইকী আর সিবলী—এই দুই ভাগে বিভক্ত এক রহস্যময় বাগান। একদিকে শাপলা হাউজ আর ক্যাকটাস, অন্যদিকে সূর্যঘড়ি আর পুকুর। এমনকি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাগানের ক্যামেলিয়ার প্রেমে পড়ে তাঁর বিখ্যাত ‘ক্যামেলিয়া’ কবিতাটি এখানেই বসে লিখে ফেলেছিলেন।
বর্তমানে প্রায় ৮০০ প্রজাতির ১৮,০০০ উদ্ভিদের এই সমারোহ আপনাকে মুহূর্তেই যান্ত্রিক ঢাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে এক সবুজ গোলকধাঁধায়। যেখানে প্রতিটি পাতায় মিশে আছে ইতিহাস আর আভিজাত্যের ঘ্রাণ।
কী দেখবেন
বলধা গার্ডেন মানেই অদ্ভুত সব উদ্ভিদের মেলা। বাগানটি দুটি মূল অংশে বিভক্ত—’সাইকী’ (যার অর্থ আত্মা) এবং ‘সিবলী’ (প্রকৃতির দেবী)। সাইকী অংশে আপনি পাবেন শাপলা হাউজ, বিরল ক্যাকটাস, এনথুরিয়াম, অর্কিড, আমাজান লিলি আর ভূজ্জ পত্রের গাছ। এখানে একটি ছায়াময় ঘর আছে যার ভেতরে সুড়ঙ্গ পথও বিদ্যমান। অন্যদিকে সিবলী অংশে নজর কাড়বে সূর্যঘড়ি, শংখ নদ, পুকুর আর আফ্রিকান টিউলিপ। এখানকার ‘জয় হাউস’ সেই জায়গা যেখানে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা লিখেছিলেন। এছাড়াও দেখবেন অশোক, বকুল আর অপূর্ব ক্যামেলিয়া ফুল।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে যাত্রাবাড়ীগামী বাসে উঠে রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে নামতে হবে।
রাজধানী সুপার মার্কেট থেকে হাটখোলা রোড দিয়ে মাত্র ৫ মিনিট হাঁটলেই গার্ডেনের গেট।
গুলিস্থান থেকে রিকশায় সরাসরি বলধা গার্ডেন যেতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া লাগবে।
কোথায় খাবেন
পুরান ঢাকায় এসেছেন আর খাবেন না, তা তো হয় না! বলধা গার্ডেন দেখা শেষে হাতের কাছেই পাবেন ঐতিহ্যবাহী সব রেস্তোরাঁ। আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, কাশ্মির কাচ্চি কিংবা বিউটি বোডিং-এ সারতে পারেন মধ্যাহ্নভোজ। আর বিকেলের আড্ডায় সুলতানের চা ট্রাই করতে ভুলবেন না।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
বলধা গার্ডেন সপ্তাহের সাতদিনই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে দুপুরে দুই ঘণ্টার জন্য বাগানটি বন্ধ রাখা হয়।
| ধরণ | টিকেটের মূল্য (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্রাপ্তবয়স্ক | ৩০ টাকা | জনপ্রতি |
| অপ্রাপ্তবয়স্ক | ১৫ টাকা | শিশু ও কিশোরদের জন্য |
| বিদেশী পর্যটক | ৫০০ টাকা | জনপ্রতি |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রুপ | ১,০০০ টাকা | সর্বোচ্চ ১০০ জন পর্যন্ত |
সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। (দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতির জন্য বন্ধ)।
ভ্রমণ টিপস
দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে গেলে বাগান বন্ধ পাবেন, তাই সময় মিলিয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
আশেপাশে ঘোরাঘুরি: হাতে সময় থাকলে বাগান দেখা শেষে কাছেই রোজ গার্ডেন, আহসান মঞ্জিল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল আর দোয়েল চত্বর থেকে ঘুরে আসতে পারেন। খাবার টিপস: ঐতিহাসিক স্বাদ নিতে চাইলে বিউটি বোডিং-এর দুপুরের খাবার হতে পারে সেরা পছন্দ।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বলধা গার্ডেন প্রতিদিন কখন খোলা থাকে?
বলধা গার্ডেন সপ্তাহের সাতদিনই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতির জন্য বাগানটি বন্ধ থাকে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে এই বাগানের সম্পর্ক কী?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলধা গার্ডেনের ক্যামেলিয়া ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানকার ‘জয় হাউসে’ বসে তাঁর বিখ্যাত “ক্যামেলিয়া” কবিতাটি লিখেছিলেন।
ছাত্রদের জন্য কি বিশেষ ছাড় আছে?
হ্যাঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ জন পর্যন্ত গ্রুপের জন্য ১,০০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকেট মাত্র ১৫ টাকা।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide