bangladesh · Editorial

নবাবগঞ্জের কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি: ইছামতীর তীরের এক অনন্য ব্রজ নিকেতন

ঢাকার কাছেই নবাবগঞ্জের কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি বা জজবাড়ি ভ্রমণের আদ্যোপান্ত। ইতিহাস আর আভিজাত্যের মিশেলে কাটুক একটা দিন। এখনই পড়ুন।

নবাবগঞ্জের কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি: ইছামতীর তীরের এক অনন্য ব্রজ নিকেতন

সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো এই বাড়ির বারান্দায় বসে এক কাপ চা খেতে খেতে বলতেন, “হেলাফেলা নয় ভায়া, এ কেবল ইটের ইমারত নয়, আস্ত একটা ইতিহাস।” ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে ইছামতী নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক রাজকীয় কীর্তি—কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি।

১৮০০ শতকের দিকে জমিদার ব্রজেন রায়, যাকে লোকে ভালোবেসে ‘সুদর্শন রায়’ ডাকত, নিজের খেয়াল খুশিমতো চার একর জমির ওপর গড়ে তুলেছিলেন এই ‘ব্রজ নিকেতন’। ইট-সুরকির এই কারুকাজ দেখলে আপনার মনে হবে, সময় যেন এখানে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। বাগানঘেরা এই প্রাসাদের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে আভিজাত্যের গল্প।

তবে মজার ব্যাপার হলো, এই এক বাড়ির আছে হরেক নাম। কেউ ডাকে ‘তেলিবাড়ি’, কেউবা ‘জজবাড়ি’। কেন? কারণ সময়ের আবর্তে এই মালিকানা হাতবদল হয়েছে এক তেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে একজন জজ সাহেবের হাতে। বর্তমানে এলাকাটি আনসার একাডেমি হিসেবে পরিচিত হলেও এর দেয়ালের কারুকাজ আজও জমিদারি আমলের সাক্ষী দিচ্ছে।

কী দেখবেন

কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ির মূল আকর্ষণ হলো এর নান্দনিক নির্মাণশৈলী। চার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রাসাদে ইট, সুরকী আর রডের চমৎকার ব্যবহার চোখে পড়ে। পুরো বাড়িটি একটি সুশোভিত বাগান দিয়ে ঘেরা। এই জমিদার বাড়ির ৫০০ গজের মধ্যেই রয়েছে দেখার মতো আরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বৌদ্ধ মন্দির, শ্রীলোকনাথ সাহা বাড়ি, উকিল বাড়ি, দাস বাড়ি এবং আদনান প্যালেস।

অনেকের মতে এই পুরো এলাকাটিই ছিল মূল জমিদার বাড়ির অংশ। পাশেই বয়ে চলা ইছামতী নদী আপনার ভ্রমণে বাড়তি প্রশান্তি যোগ করবে। বর্তমানে এটি কলাকোপা আনসার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই স্থাপনাগুলো বেশ সংরক্ষিত।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে যাত্রা

ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ অথবা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু (৩য় বুড়িগঙ্গা সেতু) পার হয়ে দোহারের পথে রওনা দিন।

বাস ভ্রমণ

ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি বান্দুরাগামী বাসে উঠে পড়ুন। ভাড়া বাসভেদে ৮০-১০০ টাকা হতে পারে।

গন্তব্য

বাস থেকে সরাসরি নবাবগঞ্জের কলাকোপায় অবস্থিত জমিদার বাড়ির সামনে বা আনসার ক্যাম্পের কাছে নামতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার একদম কাছেই এই জমিদার বাড়ির অবস্থান। তাই খুব সকালে রওনা দিলে সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ঢাকায় ফিরে আসা সম্ভব। সাধারণত পর্যটকরা এখানে ডে-ট্যুর বা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার পরিকল্পনা করেন। এই মুহূর্তে সেখানে থাকার মতো বিশেষ কোনো আবাসিক হোটেলের তথ্য নেই, তবে জরুরি প্রয়োজনে নবাবগঞ্জ সদরে সাধারণ মানের গেস্ট হাউজ খুঁজে নিতে পারেন।

ভ্রমণ টিপস

⭐ দরকারী টিপ

যেহেতু এটি বর্তমানে আনসার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই ভ্রমণের সময় শালীনতা বজায় রাখুন এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।

transport tip: জ্যাম এড়াতে এবং দিনটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে সকাল সকাল রওনা হওয়া ভালো। nearby attraction: হাতে সময় থাকলে কাছেই অবস্থিত বিখ্যাত ‘খেলারাম দাতার বাড়ি’ ঘুরে আসতে ভুলবেন না।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি ঢাকা থেকে কত দূরে?

এটি ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জের কলাকোপায় ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত। বাস বা নিজস্ব যানে করে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।

এই জমিদার বাড়িকে জজবাড়ি বলা হয় কেন?

কালক্রমে এই জমিদার বাড়ির মালিকানা ব্রজেন রায়ের হাত থেকে একজন তেল ব্যবসায়ীর কাছে এবং পরবর্তীতে একজন জজ সাহেবের কাছে চলে যায়। সেই থেকেই এটি স্থানীয়ভাবে ‘জজবাড়ি’ ও ‘তেলিবাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়।

জমিদার বাড়ির আশেপাশে আর কী কী দেখার আছে?

এই বাড়ির ৫০০ গজের মধ্যেই রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির, শ্রীলোকনাথ সাহা বাড়ি, কলাকোপা আনসার ক্যাম্প, উকিল বাড়ি, দাস বাড়ি এবং আদনান প্যালেস।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.