
ভায়া, ইট-পাথরের জঙ্গল থেকে নিস্তার পেতে যদি এক চিমটি সতেজ অক্সিজেন আর ডানাওয়ালা অতিথিদের জলকেলি দেখতে চান, তবে সাভারের এই ৬৯৭.৫৬ একরের সাম্রাজ্যে আপনাকে আসতেই হবে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি বিদ্যাপীঠ নয়, এটি যেন প্রকৃতির এক নিজ হাতে সাজানো জলরঙের ছবি।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ঢঙে বলতে গেলে বলতে হয়—সবাই তো পাখি দেখে, কিন্তু জাবির পাখির মেলা না দেখলে আপনার শীতকালটাই মাটি! অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত যখন সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া বা জিনজিয়াং থেকে সরালি আর পাতারিহাঁসেরা এসে জাবির লেকে আস্তানা গাড়ে, তখন লাল শাপলার ভিড়ে তাদের ডানা ঝাপটানো দেখলে মনে হয় কোনো এক ওস্তাদ চিত্রকর ক্যানভাসে রঙের পোঁচ দিয়েছেন।
এখানে কেবল পাখিরাই রাজা নয়, আছে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে এক জাদুকরী প্রজাপতি গার্ডেন। ১১০ প্রজাতির রঙিন প্রজাপতির ওড়াউড়ি দেখে আপনার মনে হবে আপনি ভুল করে কোনো রূপকথার রাজ্যে ঢুকে পড়েছেন। বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল ইটের দালান আর সবুজের মাখামাখি আপনার ক্লান্তি ধুয়ে দিতে বাধ্য।
কী দেখবেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ১৭টি ছোট-বড় লেক, যেখানে শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখি যেমন—খঞ্জনা, সরালি, পাতিতারা, গয়ার, সিন্ধু ঈগল আর বামুনিয়া হাঁসের মেলা বসে। বিশেষ করে জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল, প্রশাসনিক ভবন এবং মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন লেকগুলোতে পাখির আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রয়েছে একটি বিশাল প্রজাপতি গার্ডেন, যেখানে ১১০ প্রজাতির প্রজাপতির দেখা মেলে। লাল শাপলা ফোটা লেক আর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর জন্য এক অনন্য পাওয়া।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, কল্যাণপুর অথবা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মানিকগঞ্জ বা নবীনগরগামী যেকোনো বাসে উঠুন।
সরাসরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নেমে পড়ুন।
পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটি বেশ বড়, তাই ঘুরে দেখার জন্য প্রধান ফটক থেকে রিকশা নিয়ে নিন।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশের জন্য কোনো ফি লাগে না। তবে অতিথি পাখিরা সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে।
| আকর্ষণ | সময়কাল | টিপস |
|---|---|---|
| অতিথি পাখি | অক্টোবর শেষ – মার্চ | সকাল বা বিকেলে পাখির দৃশ্য চমৎকার হয় |
| প্রজাপতি গার্ডেন | সারা বছর | রোদ উজ্জ্বল দিনে প্রজাপতি বেশি দেখা যায় |
ভ্রমণ টিপস
পাখিদের অভয়াশ্রম এলাকায় উচ্চস্বরে কথা বলা বা হইহুল্লোড় করবেন না, এতে পাখির বিচরণ ব্যাহত হয়।
transport tip: জ্যাম এড়াতে চাইলে সকাল সকাল রওনা হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। nature tip: লেকের পাড়ে বসে পাখির কলতান উপভোগ করার জন্য সাথে একটি বাইনোকুলার রাখতে পারেন। general tip: ক্যাম্পাস এলাকাটি বড় হওয়ায় পায়ে হাঁটার চেয়ে রিকশা ব্যবহার করা আরামদায়ক।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি দেখার সেরা সময় কোনটি?
সুদূর সাইবেরিয়া বা মঙ্গোলিয়া থেকে আসা পাখিরা সাধারণত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে আসে এবং মার্চ মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। তাই এই সময়টাই পাখি দেখার জন্য সবচেয়ে আদর্শ।
কোন লেকগুলোতে সবচেয়ে বেশি পাখি দেখা যায়?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি লেকের মধ্যে জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল, প্রশাসনিক ভবন এবং মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন লেকগুলোতে সবচেয়ে বেশি অতিথি পাখি দেখা যায়।
প্রজাপতি গার্ডেনে কত প্রজাতির প্রজাপতি আছে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি গার্ডেনে প্রায় ১১০ প্রজাতির প্রজাপতির দেখা মেলে এবং সেখানে নতুন নতুন প্রজাপতি প্রজননের কাজও চলে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide

