
সৈয়দ মুজতবা আলী বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “দুনিয়াতে ডাকাত ঢের দেখিছি, কিন্তু ডাকাত আবার দাতা হয়— এ তো আজব কারবার!” ঢাকার একদম পাশেই নবাবগঞ্জে এমন এক অদ্ভুত চরিত্রের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে খেলারাম দাতার বাড়ি। লোকমুখে শোনা যায়, তিনি ছিলেন যেমন দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার, তেমনি দুহাতে বিলিয়ে দেওয়া দানশীল মানুষ।
বিখ্যাত এই বাড়ির নিচ দিয়ে নাকি সরাসরি ইছামতী নদী পর্যন্ত এক গূঢ় সুড়ঙ্গ পথ ছিল। ডাকাতি করে আনা ধন-সম্পদ ওই অন্ধকার পথেই অন্দরমহলে ঢুকত। তবে সাবধান! বর্তমানে সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ, ভেতরে ঢোকাও বারণ। কেবল বাইরে থেকে হাহাকার ভরা অট্টালিকা আর ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস অনুভব করা যায়।
সবচেয়ে রোমহর্ষক হলো বাড়ির পাশের সেই বিশাল দিঘি। বলা হয়, গর্ভধারিণী মাকে বাঁচাতে এই দিঘির জলেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন খেলারাম, ব্যস— আর ফেরেননি তিনি। ইতিহাস আর কিংবদন্তির এই মিশেল দেখতে আপনাকে অন্তত একবার নবাবগঞ্জের এই ডেরায় হাজিরা দিতেই হবে।
কী দেখবেন
খেলারাম দাতার বাড়ি ও মন্দিরটি এর স্থাপত্যশৈলী এবং সংলগ্ন বিশাল পুকুরের জন্য বিখ্যাত। যদিও বর্তমানে সংস্কারের কারণে সুড়ঙ্গে প্রবেশ নিষেধ এবং বাড়ির ভেতরে ঢোকা যায় না, তবুও এর প্রাচীন অবয়ব বাইরে থেকে দেখা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এছাড়া এই বাড়ির খুব কাছেই রয়েছে কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি, বৌদ্ধ মন্দির, শ্রীলোকনাথ সাহা বাড়ি এবং কলাকোপা আনসার ক্যাম্প। চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন উকিল বাড়ি, দাস বাড়ি, আদনান প্যালেস এবং শান্ত ইছামতী নদীর পাড়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বান্দুরাগামী বাসে উঠে পড়ুন।
ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ অথবা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু (৩য় বুড়িগঙ্গা সেতু) হয়ে দোহার রুটে যাতায়াত করা যায়।
নবাবগঞ্জের কলাকোপা এসে বান্দুরার রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই কাঙ্ক্ষিত খেলারাম দাতার বাড়ি পেয়ে যাবেন।
কোথায় থাকবেন
রাজধানী ঢাকার খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই এলাকা ভ্রমণে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। সকালে গিয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বিকেলের মধ্যেই দিনে দিনেই ঢাকা ফিরে আসা সম্ভব।
ভ্রমণ টিপস
খেলারাম দাতার বাড়ির পাশাপাশি কলাকোপার অন্যান্য জমিদার বাড়িগুলো দেখার জন্য হাতে পুরো দিন সময় নিয়ে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
safety tip: সংস্কার ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির ভেতরে সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশের চেষ্টা করবেন না, বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
route tip: যানজট এড়াতে চাইলে খুব সকালে যাত্রা শুরু করুন যাতে নবাবগঞ্জের সবগুলো স্পট কাভার করা যায়।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
খেলারাম দাতার বাড়ির ভেতরে কি প্রবেশ করা যায়?
না, বর্তমানে সংস্কারের কারণে বাড়ির ভেতরে এবং প্রাচীন সুড়ঙ্গ পথে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। পর্যটকরা কেবল বাড়ি ও মন্দিরটি বাইরে থেকে ঘুরে দেখতে পারেন।
ঢাকা থেকে এখানে যাওয়ার সহজ উপায় কী?
ঢাকা থেকে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুলিস্থান থেকে সরাসরি বান্দুরাগামী বাসে চড়া। এছাড়া বাবুবাজার ব্রিজ বা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু হয়ে দোহার ও কলাকোপা হয়েও যাওয়া যায়।
খেলারাম দাতা কে ছিলেন?
স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী খেলারাম দাতা ছিলেন একজন ডাকাত সর্দার, তবে তিনি ভীষণ দানশীল হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি গরিব মানুষকে অকাতরে সাহায্য করতেন বলে তার নামের সাথে ‘দাতা’ শব্দটি জুড়ে যায়।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide