কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া অঞ্চলয় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ইতিহাস-সমৃদ্ধ পাগলা মসজিদ (Pagla Masjid) রয়েছে। ট্রেনে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার ক্ষেত্রে সকালের এগারোসিন্ধুর প্রভাতীতে চড়লে হাতে বহু সময় পাবেন।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ

পাগলা মসজিদ সম্পর্কে
কোথায় খাবেনকিশোরগঞ্জ শহরে গাংচিল, তাজ, ধানসিঁড়ি, দোসাই রেস্তোরাঁ, পানসী ইত্যাদি রেস্তোরাঁে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। বিগত ১৭ অগাষ্ট ২০২৪ তারিখে নগদ ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা, বহু স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদ মুসলিম অমুসলিম সকলের কাছেই একটা বিস্ময়।
অন্য এক জনশ্রুতি থেকে জানা যায় যে প্রাচীন বাংলার ১২ ভুঁইয়ার মধ্যে অন্যতম একজন বীর ঈসাখাঁ এর ৫ম পুরুষ হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হয়বত দাত খান এর দৌহিত্র দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা সাহেব এখানে ধ্যানমগ্ন হতেন ও নামাজ পড়তেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তিনি দেওয়ানবাড়ি থেকে একরশি দূরে নরসুন্দার তীরে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন পাগলা মসজিদ নামে অত্যন্ত সুপরিচিত।
এখন লেকসিটি প্রকল্পের আওতায় পাগলা মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদী খনন, দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ, মসজিদের শোভাবর্ধন এবং রঙিন আলোকসজ্জার জন্য দিনে ও রাতে মসজিদটি দেখতে চমৎকার লাগে। জায়গাীয় আরেকটি জনশ্রুতি অনুযায়ী হয়বতনগর অঞ্চলর জমিদার দেওয়ান হয়বত দাত খানের অধস্তন তৃতীয় পুরুষ জোলকরণ খানের বিবি আয়শা দাত খান এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। এত দান পাবার কারণসকল ধর্মের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এক সার্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র।
এখানে আন্তর্জাতিক মানের ৬ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। শুধু টাকা পয়সা নয়, বহুেই স্বর্ণালঙ্কার, হাঁস মুরগি, গবাদি পশু ও নানা পন্য সামগ্রি দান করে থাকেন। কিছু টাকা জায়গাীয় অসচ্ছল নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়।
ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ: কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার ৩ টি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। পাগলা মসজিদ ভ্রমণকিশোরগঞ্জ জেলা সদরের গুরুদয়াল সরকারী কলেজ এবং আধুনিক সদর হাসপাতালে খুব কাছেই ইতিহাস-সমৃদ্ধ পাগলা মসজিদের অবজায়গা। মহাখালী থেকে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা এবং গোলাপবাগ থেকে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা।
আশেপাশের বহু মসজিদ ও এতিম খানার উন্নয়নে দান করা হয়।
কোথায় থাকবেন
রাতে থাকার ব্যবস্থাের জন্য কিশোরগঞ্জ সদরে হোটেল রিভার ভিউ, হোটেল শেরাটন, হোটেল নিরালা, ক্যাসেল সালাম, উজান ভাটি, কিশোরগঞ্জ রিসোর্ট, হোটেল শ্রাবণী, হোটেল আল-মোবারক, হোটেল রয়্যাল প্যালেস, হোটেল আঞ্জুমান, হোটেল নিরিবিলি সহ ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে পাগলা মসজিদ আসতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা খরচ হবে। পাগলা মসজিদের ইতিহাসপ্রচলিত আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীর বুকে মাদুরে ভেসে মসজিদের জায়গাে এসে অবজায়গা নেন।
মসজিদের গঠন ও স্থাপত্যআধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই পাগলা মসজিদের বর্তমান জমির পরিমাণ ৩ একর ৮৮ শতাংশ। প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে কিশোরগঞ্জ: ঢাকার মহাখালী থেকে অনন্যা পরিবহণ, অনন্যা ক্লাসিক এবং গোলাপবাগ (সায়েদাবাদ) থেকে যাতায়াত, অনন্যা সুপার ইত্যাদি বাস ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করে।
এমন বিশ্বাসের কারণে মানুষজন পাগলা মসজিদে প্রচুর দান-খয়রত করেন। বহু মানুষ মনের বাসনা, রোগ মুক্তি, উচ্চশিক্ষা, সন্তান লাভ, ইত্যাদি নানা নিয়তে এই মসজিদে মানত করে থাকেন। মানুষজন বিশ্বাস করেন, যদি যেকেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে কোন কিছু দান করে তাহলে তার মনের বাসনা পূর্ণ হয়।
আশেপাশের দর্শনীয় জায়গাকিশোরগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ জায়গাের মধ্যে আছে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির, গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, কিশোরগঞ্জ লেক পার্ক, উল্লাস ডিসি পার্ক, ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দূর্গ, বালিখলা, মিঠামইন হাওর ও নিকলী হাওর ইত্যাদি। আর মিষ্টি পাগল হলে একরামপুরের লক্ষী নারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার কিংবা মদন গোপালে ঢু মারতে পারেন। তাছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন।
কয়েক মাসেই দান খয়রাতের সিন্দুক গুলো টাকা দিয়ে ভরে যায়। বাসের ভাড়া ২৭০-৩৫০ টাকা। পরবর্তিতে তার নামানুসারে এই মসজিদ কে পাগলা মসজিদ নামকরণ করা হয়।
তিনি ছিলেন নিঃসন্তান এবং প্রজারা তাকে ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকতেন। কিশোরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে ৩০-৪০ টাকা রিকশা ভাড়ায় সরাসরি পাগলা মসজিদ যেতে পারবেন। তাছাড়া দানের টাকা হতে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ব্যায় করা হয়।
এখন পাগলা মসজিদ এর আধুনিকায়নে ১৫০ কোটি টাকার একটা মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। মূলত বিপুল পরিমানের টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা রুপা দান হিসেবে পাবার জন্যে এই মসজিদ সর্বাধিক আলোচিত। প্রায়ই প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর পর সিন্দুক গুলো খোলা হয়।
এসি/নন-এসি সুবিধা সহ এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ৪০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। দানের টাকা দিয়ে কি করা হয়?পাগলা মসজিদের দানের টাকার একটা অংশ মসজিদ এর ইমাম, মুয়াজ্জিন, এবং খাদেমদের বেতন ও মসজিদ রক্ষনাবেক্ষনে খরচ করা হয়। ট্রেন ভাড়া শ্রেণী অনুযায়ী ১৫০-২৭৬ টাকা এবং সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা।
দেখতে পাওয়া যায় প্রতিবারই আগের চেয়ে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের যেকোন জায়গা থেকে রিকশা বা ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে পাগলা মসজিদে যেতে পারবেন। তিন তলা বিশিষ্ট পাগলা মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ এবং ৫ তলা ভবনের সমান একটা মিনার রয়েছে।
আধ্যাত্মিক সাধকের মৃত্যুর পর তাঁর কবরের পাশে একটা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ধীরে ধীরে তাঁকে ঘিরে ভক্তদের সমাগম হতে থাকে। যদিও প্রথম দিকে হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ির ওয়াকফকৃত ১০ শতাংশ জমিই শুধুকেবল মসজিদের নামে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুনবেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদবিবি বেগনী মসজিদশেখ মাহমুদ শাহ মসজিদসুরা মসজিদ
কোথায় থাকবেন?
রাতে থাকার ব্যবস্থাের জন্য কিশোরগঞ্জ সদরে হোটেল রিভার ভিউ, হোটেল শেরাটন, হোটেল নিরালা, ক্যাসেল সালাম, উজান ভাটি, কিশোরগঞ্জ রিসোর্ট, হোটেল শ্রাবণী, হোটেল আল-মোবারক, হোটেল রয়্যাল প্যালেস, হোটেল আঞ্জুমান, হোটেল নিরিবিলি সহ ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসি/নন-এসি সুবিধা সহ এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ৪০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। তাছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন?
কিশোরগঞ্জ শহরে গাংচিল, তাজ, ধানসিঁড়ি, দোসাই রেস্তোরাঁ, পানসী ইত্যাদি রেস্তোরাঁে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। আর মিষ্টি পাগল হলে একরামপুরের লক্ষী নারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার কিংবা মদন গোপালে ঢু মারতে পারেন।
বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?
রাতে থাকার ব্যবস্থাের জন্য কিশোরগঞ্জ সদরে হোটেল রিভার ভিউ, হোটেল শেরাটন, হোটেল নিরালা, ক্যাসেল সালাম, উজান ভাটি, কিশোরগঞ্জ রিসোর্ট, হোটেল শ্রাবণী, হোটেল আল-মোবারক, হোটেল রয়্যাল প্যালেস, হোটেল আঞ্জুমান, হোটেল নিরিবিলি সহ ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসি/নন-এসি সুবিধা সহ এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ৪০০
পাগলা মসজিদ সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া অঞ্চলয় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো ইতিহাস-সমৃদ্ধ পাগলা মসজিদ (Pagla Masjid) রয়েছে। ট্রেনে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার ক্ষেত্রে সকালের এগারোসিন্ধুর প্রভাতীতে চড়লে হাতে বহু সময় পাবেন। কোথায় খাবেনকিশোরগঞ্জ শহরে গাংচিল, তাজ, ধানসিঁড়ি, দোসাই রেস্তোরাঁ, পানসী ইত্যাদি রেস
তথ্য সূত্র: Vromon Guide
