দ্বিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ পেতে চাইলে চলে যান নিকলী হাওরে (Nikli Haor)। কটিয়াদি থেকে ঢাকা যাওয়ার শেষ বাসের সময় সন্ধ্যা ৭টা।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ

নিকলী হাওর সম্পর্কে
যদিও ভরা বর্ষায় পানি বহু বেশি থাকে। নিকলী থেকেই বিচিত্র মানের ইঞ্জিন নৌকা রিসার্ভ কিংবা লোকাল ভাড়াতে মিঠামইন গিয়ে থাকে। যদিও অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।
নিকলী বেড়ি বাঁধ: নিকলী উপজেলা অফিসের সামনে থেকে বেড়িবাঁধ শুরু তাই হেটে – হেটে দেখা যাবে তার সৌন্দর্য। যদি ট্রেনে আসেন তাহলে সর্বাধিক ভাল হবে কিশোরগঞ্জ সদরে পোঁছার আগের ষ্টেশন মানিকখালী অথবা গচিহাটা ষ্টেশনে নেমে গেলে। যদি নৌকায় বা ক্যাম্পিং করে রাত পার করতে চান যদিও নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।
এই জন্যে নিকলী উপজেলা মোড়ে এসে সিএনজি ঠিক করে চলে যান কটিয়াদিতে। যে ভাবেই আসেন সারাদিন ঘুরে ফেরার জন্যে আপনাকে বাসেই রওনা দিতে হবে। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে এই দুইভাবেই নিকলী হাওরে যেতে পারবেন।
ভৈরব থেকে অটোরিকশায় নিকলী যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মত। সড়ক পথেই নিকলী যাওয়া যায়। তাই গোসল করতে চাইলে সাথে করে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সেক্ষেত্রে জায়গাীয় কারও সাহায্য নিতে পারেন। আর একসাথে আপনারা কয়েকজন থাকলে আপনার পছন্দমত নৌকা রিসার্ভ হিসেবে ঠিক করে নিন। লোকালে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা আর রিজার্ভ নিলে ৬০০ টাকা।
কটিয়াদি হতে সিএনএজিতে নিকলি যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা ২০ মিনিট। সেই ক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাহাড় খাঁর মাজার: নিকলী উপজেলা থেকে ট্রলারে করে ও মোটর সাইকেল করে যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়ার উপায়ঢাকা হতে ট্রেনে গিয়ে একদিনে ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে আসতে হবে। বাসের ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। যে বাসেই আসেন কিশোরগঞ্জের আগেই কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ড নেমে যাবেন।
যদিও নৌকায় নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম ভ্রমণ শুধুকেবল বর্ষাকালেই করা সম্ভব। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ডেই সিএনজি পেয়ে যাবেন। দিনে ঘুরে রাতের মধ্যে ফিরতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৭টার আগেই বাসে রওনা দিতে হবে।
ট্রেনে আসলে গচিহাটা বা মানিকখালি স্টেশনে নেমে গেলে এবং বাসে আসলে কটিয়াদি নেমে গেলে কম সময় নিকলী যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে কটিয়াদি আসতে অতিরিক্ত জ্যামের কারণে সময় নষ্ট না হলে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। গুরই প্রাচীনতম আখড়া: কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় গুরই ইউনিয়নে এই আখড়া রয়েছে।
তাই নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই মাস থেকে অক্টোবর মাস। আবাসন সুবিধানিকলীতে এখন কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল তৈরি হয়েছে দর্শনার্থীদের কথা ভেবে। ইজিবাইকে জনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা অথবা রিজার্ভ নিলে ৩০০-৪২০ টাকা ভাড়ায় নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা।
এই হাওর গুলোও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তারপর উন্মুক্ত হাওরে শেষ বিকেলের সূর্য্য দেখতে দেখতে পূনরায় নিকলী বেড়ি বাঁধে এসে বাড়ি ফেরার পথ ধরতে হবে। নিকলী বেড়িবাঁধের কাছেই আলম রিসোর্ট, চেয়ারম্যান গেস্ট হাউজ ছাড়াও আরও কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে।
তাই যাওয়া আসা এবং সেখানে ঘুরে বেড়ানোর সময় আপনার হবে কিনা সেই বিবেচনা করে প্ল্যান করুন। শুকনো মৌসুমে রিকসা, মোটর সাইকেল, সিএনজি দিয়ে যাওয়া যায় কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা ট্রলার যোগে যেতে হয়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার।
লোকাল যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা আর সিএনজি রিজার্ভ নিতে ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়া লাগে। নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময়হাওরের পানির রূপ দেখতে চাইলে আপনাকে বর্ষাকাল বা তার পর পর রওনা দিতে হবে। চেষ্টা করুন অন্তত ৩ ঘন্টা যেন হাতে থাকে নৌকা দিয়ে ঘুরার জন্যে।
সেখান থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের নিকলী যেতে সিএনজি সবচেয়ে ভালো উপায়। নৌকায় করে মোটরবাইক নেবার ও সুযোগ আছে। নিকলী থেকে নৌকায় মিঠামইন যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা।
সিজন ও ছুটির দিন অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। এই সব কিছুর অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে নিকলীর অপরূপ হাওর ভ্রমণ আপনার জীবনে মনে রাখার মত একটা ভ্রমণ হিসেবে গেঁথে থাকবে। সিলেটের রাতারগুলের মত জলাবনের মুগ্ধতা দেখতে দেখতে দু’চোখ জুড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি শীতল জলে গা ঢুবিয়ে শরীর শান্ত করার কাজটা এখানেই সেরে ফেলতে পারেন।
নিকলীর আরও কিছু দর্শনীয় জায়গাগুরই শাহী জামে মসজিদ: রিকশা বা মোটর সাইকেল করে সহজেই পরিদর্শন করতে পারবেন। কিশোরগঞ্জ থেকে নিকলীযদি কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে নিকলী যেতে চান যদিও কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের সংলগ্ন নিকলীগামী সিএনজি ষ্টেশনে চলে আসুন। এছাড়া সুযোগ থাকলে উপজেলা ডাক বাংলো তে থাকতে পারবেন।
অথবা শীতে ভিন্ন এক সবুজ মাঠ ফসলের প্রকৃতি দেখতে পৌঁছাতে পারবেন কিশোরগঞ্জ জেলার রয়েছে নিকলী উপজেলার হাওর অঞ্চলয়। যদি ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে চান তাহলে বিকেল ৪টার আগেই গচিহাটা অথবা মানিকখালী স্টেশনে ফিরতে হবে কিশোরগঞ্জ টু ঢাকার শেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ধরার জন্যে। সেখানে দরদাম করে ঘন্টা প্রতি নৌকা ঠিক করে নিবেন হাওর ঘুরে দেখার জন্যে।
তার মধ্যে হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ উল্লেখযোগ্য। নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম ট্যুর প্লাননিকলী ঘুরে দেখার পাশাপাশি আপনি চাইলে মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওর রোড ও ঘুরে দেখার প্ল্যান করতে পারেন। ঢাকা থেকে একদিনের ট্যুর প্ল্যানআপনি যদি ঢাকা থেকে সকালের ট্রেনে বা সকালের কোন বাসে রওনা দেন তাহলে একদিনেই নিকলী হাওর দেখে আবার রাতের ভিতর ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন।
আপনার হাতে কত সময় আছে সেই হিসেবেই নৌকা ভাড়া করুন। সিএনজি ষ্টেশন থেকে লোকাল বা রিজার্ভ নিয়ে নিকলী যেতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। এক নৌকায় অনায়াসে ১০-৩০ জন পর্যন্ত উঠতে পারবেন।
শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ১৩৫ থেকে ২৪৮ টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে ট্রেনে রওনা দিয়ে আপনি সকাল ১১ টার দিকে মানিকখালী ষ্টেশনে চলে আসতে পারবেন। সেই সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত পড়ুন নিচের লিংক গুলো থেকে।
বাসে আসলে চেষ্টা করতে হবে যত ভোরে রওনা দেওয়া যায়। তা না হলে আপনাকে বাসেই ফিরতে হবে। গচিহাটা, কটিয়াদি বা কিশোরগঞ্জ যেখান থেকেই নিকলী আসেন না কেনো আসার পথের দুইপাশের গ্রাম বাংলার দৃশ্য আপনার ভাল লাগবেই।
মিঠামইন গিয়ে সেখানে রিক্সা, বাইক দিয়ে হাওর রোড ধরে অষ্টগ্রাম যাওয়া যায়। প্রত্যেক দিন ভোর ৫:৩০ থেকে কিছুসময় পর পর বাস ছেড়ে যায়। তখন শুধু নদীতে পানি থাকে।
রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া লাগবে ৬০০ টাকা। হাওরের তাজা মাছের বিচিত্র পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন। তাই সময়ে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
নৌকা দিয়ে হাওরে ভাসতে ভাসতে চারপাশের মোহনীয় রূপ দেখতে প্রথমেই চলে পৌঁছাতে পারবেন ছাতিরচর গ্রামে। ষ্টেশন থেকে ইজিবাইক অথবা সিএনজি দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন ১৪ কিলোমিটার দূরের নিকলী উপজেলা সদরে। যদিও ঐ দিনই ফিরতে চাইলে যাবার পথে আপনাকে বাসে রওনা দিতে হবে।
নিকলী যাবার উপায়ঢাকা বা কিশোরগঞ্জ জেলার আশপাশ থেকে একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন নিকলী হাওর থেকে। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাবার শেষ বাস ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়। ছোট নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং একটু বড় নৌকা ভাড়া করতে ঘন্টা প্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হবে।
লোকাল অটোরিকশায় যেতে ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ১২০ টাকা। পানি বেশি হলে যদিও ডুবে যায় যদিও কম থাকলে আধো ভাসমান এই চরে ঘুরে বেড়াতে পারেন কিছুটা সময়। জলাবনের সৌন্দর্য দেখে তারপর আবার নৌকা নিয়ে চলে যান চর মনপুরায়।
তারপর পানি কমতে শুরু করে, শীতের আগে আগে পানি একেবারে শুকিয়ে যায়। কিশোরগঞ্জের অন্যান্য হাওরকিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ছাড়াও, অষ্টগ্রাম উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা, ইটনা উপজেলার প্রায় পুরোটাই হাওর এলাকা। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলি উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।
কোথায় খাবেন
নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। ভৈরব থেকে নিকলীতাছাড়া ভৈরব থেকেও লোকাল কিংবা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নিকলী পৌঁছানো যায়। সেই ক্ষেত্রে নিকলী থেকে সিএনজি তে করে কটিয়াদি এসে সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার বাস পাবেন।
বছরের যে কোন সময়ই পৌঁছাতে পারবেন হাওরের ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য দেখতে। শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে নৌকা দিয়ে ভ্রমণ কঠিন। যতই নিকলীর কাছাকাছি যেতে থাকবেন ততই চমৎকার লাগবে সবকিছু।
সিএনজি রিজার্ভ নিলে খরচ হবে ৪০০-৪৫০ টাকা আর সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট। এগারো সিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর, নরসিংদী ও ভৈরব ষ্টেশন হয়ে কিশোরগঞ্জ আসে। ঢাকা থেকে বাসে যাওয়ার উপায়ঢাকা থেকে বাসে নিকলী যেতে চাইলে চাইলে ঢাকার গোলাপবাগ, গুলিস্তান থেকে যাতায়াত ও অনন্যা সুপার বাস অথবা মহাখালী থেকে জলসিড়ি অথবা উজানভাটি বাসে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় প্রথমে আসতে হবে।
দুপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতেই কখন যে নিকলী পৌঁছে যাবেন সেটা বুঝতেই পারবেন না। পানিতে দ্বীপের মত ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রাম, স্বচ্ছ জলের খেলা, মাছ ধরতে জেলেদের ব্যস্ততা, রাতারগুলের মত ছোট জলাবন ও খাওয়ার জন্যে হাওরের তরতাজা বিচিত্র মাছ। কীভাবে ঘুরবেনখাওয়া দাওয়া ও প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ইজিবাইকে বেড়ি বাঁধের শেষ প্রান্তে চলে আসুন।
অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণমিঠামইন হাওর ভ্রমণইটনা হাওর ভ্রমণ
কোথায় খাবেন?
নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। তার মধ্যে হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ উল্লেখযোগ্য। হাওরের তাজা মাছের বিচিত্র পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
নিকলী হাওর-এর কাছে কোথায় খাবেন?
নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। তার মধ্যে হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ উল্লেখযোগ্য। হাওরের তাজা মাছের বিচিত্র পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন।
নিকলী হাওর সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?
দ্বিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ পেতে চাইলে চলে যান নিকলী হাওরে (Nikli Haor)। কটিয়াদি থেকে ঢাকা যাওয়ার শেষ বাসের সময় সন্ধ্যা ৭টা। যদিও ভরা বর্ষায় পানি বহু বেশি থাকে।
তথ্য সূত্র: Vromon Guide
