bangladesh · Editorial

দিল্লির আখড়া

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) এর ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড। যাওয়ার উপায়, কি দেখবেন, কোথায় খাবেন, কোথায় থাকবেন এই সব কিছুর বিস্তারিত।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

কিশোরগঞ্জ জেলার ইতিহাস-সমৃদ্ধ দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশত বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) অন্যতম। দিল্লির আখড়ার ইতিহাসহিজল গাছ ও দিল্লির আখড়াকে নিয়ে জায়গাীয় মানুষের মধ্যে গা ছমছম করা ঘটনা প্রচলিত আছে।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ

দিল্লির আখড়া

দিল্লির আখড়া সম্পর্কে

মহাখালী থেকে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা এবং গোলাপবাগ থেকে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা। জানা যায়, দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে আধ্যাত্মিক সাধু নারায়ন গোস্বামী এই আখড়াটি স্থাপন করেন। নৌকার যাত্রীদের একজন সাপের কামড়ে মারা যান।

তেমনি কোন একদিন দিল্লির সম্রাট প্রেরিত একটা কোষা নৌকা এই নদীপথে যাওয়ার সময় মালামালসহ ডুবে যায়। ট্রেনে সকালের এগারোসিন্ধুর প্রভাতীতে আসলে সুবিধা হবে। বাসের ভাড়া ২৭০-৩৫০ টাকা।

এভাবে পরপর ৭ দিন একই ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জের মনোমুগ্ধকর একটা হাওরাঞ্চল মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে দিল্লির আখড়ার অবজায়গা। তখন বিতলঙ্গের সাধক রামকৃষ্ণ এই খবর পান।

উত্তরে সাধক তাদের পরিচয় ও দর্শন চান। এরপর থেকে আখড়াটি দিল্লির আখড়া নামে পরিচিতি লাভ করে। ট্রেন ভাড়া শ্রেণী অনুযায়ী ১৩৫-৩৬৮ টাকা, সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা।

একরামপুর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় চেপে চামটা বন্দর (জায়গাীয় নাম চামড়া ঘাট) চলে আসুন। তিনি তাঁর শিষ্য নারায়ন গোস্বামীকে দুর্ঘটনার জায়গাে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বাসে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ: বাসে আসতে চাইলে মহাখালী থেকে অনন্যা পরিবহণ বা অনন্যা ক্লাসিক এবং গোলাপবাগ (সায়েদাবাদ) থেকে আসতে চাইলে যাতায়াত বা অনন্যা সুপারে সরাসরি কিশোরগঞ্জ আসতে পারেন।

একই ভাবে কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর মোড় থেকে বালিখোলা অথবা মরিচখালি বাজারে এসে ট্রলার বা নৌকা রিজার্ভ নিয়ে দিল্লির আখড়া দেখতে যেতে পারবেন। যেভাবে যাবেনঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ: প্রথমেই আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে চলে আসতে হবে। চামড়া বন্দর থেকে লোকাল ও রিজার্ভ নেয়ার জন্য ট্রলার ও নৌকা পাবেন।

সাধক নারায়ন গোস্বামী ছিলেন পার্শ্ববর্তী বিতলঙ্গের আখড়ার আধ্যাত্মিক সাধক রামকৃষ্ণ গোস্বামীর শিষ্য। সাধক নারায়ন গোস্বামী নির্দেশে দানবেরা হিজল গাছে পরিণত হয়। রহস্যজনক কারণে এই অঞ্চলর নদীপথে গমনকারী নৌকাগুলো ডুবে যেতো অথবা অন্য কোন দুর্ঘটনার শিকার হত।

বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল (১৫টাকা) বা রিজার্ভ ইজিবাইকে (১২০ টাকা) চলে আসুন একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে। মনে রাখা ভাল, শুকনা মৌসুমে হাওর ও নদীতে পানি কম থাকে ফলে হাওরের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হয়। এরপর একদিন দৈব বাণীর মত নারায়ন গোস্বামী কে এই জায়গা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

নারায়ন গোস্বামীর সাধনার জায়গা ‘সাধনবৃ’ এখন পাকা বেষ্টনী করে রাখা হয়েছে। আখড়ার ভেতরে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা, বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর, সাধক নারায়ন গোস্বামী এবং তাঁর অন্যতম শিষ্য গঙ্গারাম গোস্বামীর সমাধি রয়েছে। চামড়া বন্দর, বালিখোলা, মরিচখালি এই তিন জায়গা হতে দিল্লির আখড়া যাওয়ার সুযোগ থাকলেও চামটা বন্দর থেকে দিল্লীর আখড়া যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

দিল্লির আখড়ার ৩৭২ একর জমিতে ছড়িয়ে আছে কয়েক হাজার হিজল গাছ। এছাড়া মিঠামইন বাজার অঞ্চলয় শিকদার হোটেল ও সোহেল গেস্ট হাউজ আবাসন সুবিধা আছে। প্রতি অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার রাতে এখানে ভোগ দেওয়া হয়।

আবাসন সুবিধামিঠামইন উপজেলায় থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা নেই। ট্রেন ষ্টেশন থেকে একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ড ১৫-২০ টাকা রিকসা ভাড়ায় চলে আসলে সুবিধা হবে। প্রতি বছর ৮ চৈত্র এখানে মেলার আয়োজন করা হয়।

এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন। নৌকার আরোহীরা কোষা উদ্ধারে ব্যর্থ হন। যদি থাকতে চান তাহলে উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতে পারবেন।

ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। এই খবর শুনে দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীর নারায়ন গোস্বামীর জন্য একটা আখড়া প্রতিষ্ঠা করে দেন। আর নারায়ন গোস্বামী দানব প্রধানের গাছের রূপের নিচে বসে সাধন শুরু করেন।

সাধক নারায়ন গোস্বামী তাঁর সাধনাবলে তীরে আসতে সক্ষম হন। নদীর তীরে ইতিহাস-সমৃদ্ধ এই আখড়া ও হিজল গাছগুলো মিঠামইন হাওরের সৌন্দর্যে যোগ করেছে বিশেষ বৈচিত্রতা। তৎকালীন সময় চতুর্দিকে নদী পরিবেষ্টিত এই অঞ্চল ঘন ঝোপ-জঙ্গলে পূর্ণ ছিল।

দৈব কন্ঠ নিজেকে এখানকার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে দানব মূর্তি ধারণ করে। সাধক নারায়ন গোস্বামী দানবদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেন তারা যেন মানুষের ক্ষতি না করে বসবাস করে আর মানুষও তাদের ক্ষতি করবে না। গুরুর আদেশ মোতাবেক সাধক নারায়ন গোস্বামী নদীর তীরে বসে তপস্যায় মগ্ন হলে কোন এক অলৌকিক শক্তি তাঁকে হাত-পা বেধে নদীতে ফেলে দেয়।

নারায়ন গোস্বামী দেখতে পেলেন চারপাশে হাজার হাজার বিশালাকার দানব দৃশ্যমান হয়েছে। ভালো কোথাও থাকতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদরে রিভার ভিউ, গাংচিল, নিরালা, উজানভাটি, ক্যাসেল সালাম নামে বেশ কিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছ। পরবর্তীতে সাধক নারায়ন গোস্বামীর অলৌকিক ক্ষমতায় মালামালসহ ডুবে যাওয়া কোষা নৌকা এবং সর্প দংশনে মৃত ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে তুলেন।

নাম দিল্লির আখড়া হলেও বাস্যদিও ভারতে দিল্লির সাথে এই আখড়ার আলাদা কোন সম্পর্ক নেই। দিল্লির আখড়ার দুপাশে দুইটি পুকুর এবং চারদিকের বিশাল অঞ্চলজুড়ে প্রায় তিন হাজার হিজল গাছ শোভা ছড়িয়ে আছে। কি খাবেনবাজারের জায়গাীয় খাবার হোটেলে চেখে দেখতে পারেন হাওরের নানা স্বাদের মাছ।

মিঠামইনের খাবার হোটেলগুলোতে প্রায়ই হাওরের তাজা মাছ রান্না করা হয়।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ: প্রথমেই আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে চলে আসতে হবে।

বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল (১৫টাকা) বা রিজার্ভ ইজিবাইকে (১২০ টাকা) চলে আসুন একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে।

চামড়া বন্দর, বালিখোলা, মরিচখালি এই তিন জায়গা হতে দিল্লির আখড়া যাওয়ার সুযোগ থাকলেও চামটা বন্দর থেকে দিল্লীর আখড়া যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন।

একরামপুর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় চেপে চামটা বন্দর (জায়গাীয় নাম চামড়া ঘাট) চলে আসুন।

ট্রেন ভাড়া শ্রেণী অনুযায়ী ১৩৫-৩৬৮ টাকা, সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা।

কোথায় খাবেন?

বাজারের জায়গাীয় খাবার হোটেলে চেখে দেখতে পারেন হাওরের নানা স্বাদের মাছ। মিঠামইনের খাবার হোটেলগুলোতে প্রায়ই হাওরের তাজা মাছ রান্না করা হয়।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

দিল্লির আখড়া কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ: প্রথমেই আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে চলে আসতে হবে। বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল (১৫টাকা) বা রিজার্ভ ইজিবাইকে (১২০ টাকা) চলে আসুন একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে। চামড়া বন্দর, বালিখোলা, মরিচখালি এই তিন জায়গা হতে দিল্লির আখড়া যাওয়ার সুযোগ থাকলেও চামটা বন্দর থেকে দিল্লীর আখড়া যাওয়া সব

দিল্লির আখড়া-এর কাছে কোথায় খাবেন?

বাজারের জায়গাীয় খাবার হোটেলে চেখে দেখতে পারেন হাওরের নানা স্বাদের মাছ। মিঠামইনের খাবার হোটেলগুলোতে প্রায়ই হাওরের তাজা মাছ রান্না করা হয়।

দিল্লির আখড়া সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

কিশোরগঞ্জ জেলার ইতিহাস-সমৃদ্ধ দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশত বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া (Dhillir Akhra) অন্যতম। দিল্লির আখড়ার ইতিহাসহিজল গাছ ও দিল্লির আখড়াকে নিয়ে জায়গাীয় মানুষের মধ্যে গা ছমছম করা ঘটনা প্রচলিত আছে। মহাখালী থেকে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা এবং গোলাপবাগ থেকে সময় লাগ

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh Dhaka guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.