আহসান মঞ্জিল (Ahsan Manzil) পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্যে ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যে ৫০০ টাকা।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা, ঢাকা বিভাগ
- প্রবেশ মূল্য: সাধারণ ভ্রমণকারীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করতে জনপ্রতি ৪০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। ১২ বছরের নিচে অপ্রাপ্ত শিশুরা জনপ্রতি ২০ টাকায় ভেতরে যেতে পারে। প্রতিবন্ধী ভ্রমণকারীদের জন্য আহসান মঞ্জ

আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে
প্রতিটি কক্ষ আপনাকে সেই নবাবী আমলের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যাবে। Ahsan Manzil Travel Guideআহসান মঞ্জিল জাদুঘরবাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নবাব পরিবারের উত্তরসূরিরা আহসান মঞ্জিল নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। নবাব পরিবারের অসংখ্যল স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাসাদটি এখন জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
বহুবার সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, পরিমার্জনের পর ১৯৯২ সালে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আহসান মঞ্জিল টিকেট মূল্যসাধারণ ভ্রমণকারীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করতে জনপ্রতি ৪০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। আর প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করা যায়।
১২ বছরের নিচে অপ্রাপ্ত শিশুরা জনপ্রতি ২০ টাকায় ভেতরে যেতে পারে। নওয়াবদের ব্যবহৃত বড় বড় আয়না, বৃহদাকার লোহার সিন্দুক, কাঠের আলমারী, ডাইনিং রুম, ড্রয়িং রুম, কাচ ও চিনামাটির থালা-বাসন, হাতির মাথার কঙ্কাল, ঢাল ও তরবারি। আশেপাশের দর্শনীয় জায়গাআহসান মঞ্জিল ঘুরে দেখার পাশাপাশি আপনি চাইলে কাছাকাছি রয়েছে পুরান ঢাকার আরও কিছু সুপরিচিত জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন।
আহসান মঞ্জিলকে ঢাকা (Dhaka) শহরের প্রথম ইট-পাথরের তৈরি স্থাপত্য নিদর্শন হিসাবে মনে করা হয়। তাছাড়া ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে অটোরিকশায় করে সরাসরি চলে আসতে পারবেন আহসান মঞ্জিল। প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে খাবার ঘর, লাইব্রেরি, জলসাঘর, দরবার হল এবং বিলিয়ার্ড খেলার জায়গা।
অথবা গুলিস্তানের নর্থ সাউথ রোড ধরে নয়াবাজার মোড় হয়ে বাবুবাজার ব্রিজের আগে নেমে রিক্সায় আহসান মঞ্জিল যাওয়া যাবে। আহসান মঞ্জিলের স্থাপত্যশৈলী পশ্চিমাদেরও সমানভাবে আকর্ষণ করে, লর্ড কার্জন ঢাকায় আসলে এই ভবনেই থাকতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আরও আছে সমসাময়িককালের সুপরিচিত ব্যাক্তিদের প্রতিকৃতি ও নওয়াবদের নানা সমাজসেবামূলক কাজের নিদর্শন।
জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য আছে আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস, নওয়াবদের পরিচিতি ও বংশতালিকা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত এই প্রাসাদটি বাংলার একটা প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। দোতলা এ ভবনের বারান্দা ও মেঝে তৈরি করা হয়েছে মার্বেল পাথর দিয়ে।
একসময় ঢাকা শহরের সবচে উঁচু গম্বুজ ছিলো আহসান মঞ্জিলের প্রাসাদের ছাদের ওপরের চমৎকার গম্বুজটি। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকার পুরনো স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় আহসান মঞ্জিলকে।
আহসান মঞ্জিল ভ্রমণের সর্বাধিক বড় আকর্ষণ জাদুঘরের সংগ্রহশালা। ১৮৩০ সালে নওয়াব আবদুল গনির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ এটি কিনে নেন। প্রাসাদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একতলার সমান উঁচু করে গাড়ি বারান্দা রয়েছে।
নয়টি কক্ষ সেই নবাবী আমলের মতো করেই সাজানো রয়েছে। আহসান মঞ্জিলের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকার শত বছরের পুরনো ইতিহাস। আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস“আহসান মঞ্জিল” বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও নবাবি ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে টিকে থাকা এক সমৃদ্ধশালা।
আর আগে থেকে আবেদন করলে ছাত্র-ছাত্রীরাও বিনামূল্যে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর দেখতে পারে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জমিদার শেখ ইনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান জায়গাে রংমহল নামে একটা প্রমোদভবন তৈরি করেন। তিনি তার প্রিয় পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘আহসান মঞ্জিল’।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভবনটির রাজনৈতিক ও ইতিহাস-সমৃদ্ধ গুরুত্ব অনুধাবন করে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল করে এখানে জাদুঘর ও পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। নওয়াব আমলের নানা ধরনের অলংকৃত রুপা, ক্রিস্টালের তৈরি চেয়ার-টেবিল, সিংহাসন, নানা ধরনের তৈলচিত্র, ফুলদানি, হিন্দুজায়গাী রুম, রাজকীয় অতিথিদের বেডরুম ও নাচঘর। প্রসাদের ঠিক সামনে রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান ও সবুজ মাঠ।
সেখান থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় আহসান মঞ্জিল যেতে পারবেন। দীর্ঘ ১৩ বছর লেগেছিলো প্রাসাদটি নির্মাণ করতে। আর তৎকালীন নবাবদের হাতে এই ভবনেই প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠে।
আর প্রাসাদের দোতলায় রয়েছে অথিতিদের থাকার কক্ষ, বৈঠকখানা, নাচঘর, গ্রন্থাগার এবং আরো কিছু বসবাসের কক্ষ। প্রতিবন্ধী ভ্রমণকারীদের জন্য আহসান মঞ্জিলে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। প্রতি বৃহস্পতিবার এবং অন্যান্য সরকারী ছুটির দিনে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর সম্পূর্ন বন্ধ থাকে।
অথবা ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত এসে রিকশা অথবা সিএনজি নিয়ে সদরঘাট হয়ে আহসান মঞ্জিল দেখতে পৌঁছাতে পারবেন। মোট ৪ হাজার ৭৭ টি নিদর্শন আহসান মঞ্জিলের ২৩টি কক্ষে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করা আছে। দক্ষিণ দিকে দোতলার বারান্দা থেকে একটা খোলা সিঁড়ি সামনের বাগান পর্যন্ত নেমে গেছে।
পরবর্তীতে তার পুত্র শেখ মতিউল্লাহ রংমহলটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন।
আহসান মঞ্জিল কীভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাটগামী যে কোন বাসে উঠে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির কাছে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে নেমে রওনা দিতে হবে। আহসান মঞ্জিল প্রবেশের অনলাইন টিকেট পাবেন এই ওয়েবসাইট থেকেঃ www.ahsanmanzilticket.gov.bdআহসান মঞ্জিল সময়সূচীশনিবার থেকে বুধবার এই পাঁচ দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আহসান মঞ্জিল ভ্রমণকারীদের জন্য খোলা থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো হলো লালবাগ কেল্লা, তারা মসজিদ, আর্মেনিয়ান চার্চ, হোসেনি দালান, বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টোরিয়া পার্ক) ও সদরঘাট লঞ্চঘাট।
১৮৫৯ সালে নওয়াব আবদুল গনি সেখানে প্রাসাদ নির্মাণ শুরু করেন। আর খাবারের জন্যে পুরান ঢাকার সুপরিচিত খাবার হোটেল গুলোতো আছেই।
প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচি
সাধারণ ভ্রমণকারীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করতে জনপ্রতি ৪০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। ১২ বছরের নিচে অপ্রাপ্ত শিশুরা জনপ্রতি ২০ টাকায় ভেতরে যেতে পারে। প্রতিবন্ধী ভ্রমণকারীদের জন্য আহসান মঞ্জিলে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্যে ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যে ৫০০ টাকা। আর আগে থেকে আবেদন করলে ছাত্র-ছাত্রীরাও বিনামূল্যে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর দেখতে পারে। আহসান মঞ্জিল প্রবেশের অনলাইন টিকেট পাবেন এই ওয়েবসাইট থেকেঃ www.ahsanmanzilticket.gov.bd
কীভাবে যাবেন?
ঢাকার সদরঘাটগামী যে কোন বাসে উঠে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির কাছে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে নেমে রওনা দিতে হবে।
অথবা গুলিস্তানের নর্থ সাউথ রোড ধরে নয়াবাজার মোড় হয়ে বাবুবাজার ব্রিজের আগে নেমে রিক্সায় আহসান মঞ্জিল যাওয়া যাবে।
সেখান থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় আহসান মঞ্জিল যেতে পারবেন।
অথবা ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত এসে রিকশা অথবা সিএনজি নিয়ে সদরঘাট হয়ে আহসান মঞ্জিল দেখতে পৌঁছাতে পারবেন।
তাছাড়া ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে অটোরিকশায় করে সরাসরি চলে আসতে পারবেন আহসান মঞ্জিল।
বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
আহসান মঞ্জিল-এ প্রবেশ মূল্য কত?
সাধারণ ভ্রমণকারীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করতে জনপ্রতি ৪০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। ১২ বছরের নিচে অপ্রাপ্ত শিশুরা জনপ্রতি ২০ টাকায় ভেতরে যেতে পারে। প্রতিবন্ধী ভ্রমণকারীদের জন্য আহসান মঞ্জিলে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্যে ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদে
আহসান মঞ্জিল কীভাবে যাবেন?
ঢাকার সদরঘাটগামী যে কোন বাসে উঠে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির কাছে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে নেমে রওনা দিতে হবে। অথবা গুলিস্তানের নর্থ সাউথ রোড ধরে নয়াবাজার মোড় হয়ে বাবুবাজার ব্রিজের আগে নেমে রিক্সায় আহসান মঞ্জিল যাওয়া যাবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় আহসান মঞ্জিল যেতে পারবেন।
আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?
আহসান মঞ্জিল (Ahsan Manzil) পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্যে ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যে ৫০০ টাকা। প্রতিটি কক্ষ আপনাকে সেই নবাবী আমলের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যাবে।
তথ্য সূত্র: Vromon Guide
