bangladesh · Editorial

চর কুকরি মুকরি

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবজায়গা ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম

Photograph · Collected for Tripzao Journal

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবজায়গা ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। এছাড়া কুকরি মুকরি চরের সমুদ্র সৈকত নিরিবিলি ও পরিছন্ন।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, বরিশাল বিভাগ

চর কুকরি মুকরি

চর কুকরি মুকরি সম্পর্কে

এছাড়া বক, শঙ্খচিল, মথুরা, বন মোরগ, কাঠময়ূর, কোয়েল ইত্যাদি বিচিত্রন প্রজাতির পাখি ও সরিসৃপ রয়েছে। আবার এখানে ক্যাম্পিং করার জন্য শীতকালেই উপযুক্ত সময়। তাই ঝামেলা এড়াতে নির্দৃষ্ট সময়ে চর কচ্ছপিয়া ঘাটে অবজায়গা করুন।

ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রিন্স অফ রাসেল-৪, কর্ণফুলী-৪, নিউ সাব্বির ২ ও ৩ লঞ্চ থেকে সুবিধামত সময় এবং লঞ্চে চড়ে ভোলার ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল নামতে হবে। ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল নেমে লেগুনায় চড়ে ৩০ কিলোমিটার দূরের চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগবে। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে জায়গা পেয়েছে চমৎকারী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত।

চর কুকরি মুকরি রেস্ট হাউজের যোগাযোগ নাম্বার ০১৭৩৯ ৯০৮০১৩। চর কুকরিমুকরি বুক চিঁড়ে বয়ে যাওয়া ভাড়ানি খাল মেঘনা নদী হয়ে আছড়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়।

নদী পথে চর কুকরি মুকরিতে যাওয়ার দুইটি উপায় আছে। এছাড়া ট্রলার রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ করতে হবে। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে জায়গাীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে।

চর কুকরি মুকরি ভ্রমণের জন্য জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে আদর্শ সময়। বর্ষায় চরের সিঙ্ঘভাগই ডুবন্ত থাকে তাই বর্ষাকালে চর কুকরি মুকরি ভ্রমণে না যাওয়াই ভালো। জায়গাীরা এই জায়গাটিকে বালুর ধুম নামে চেনে।

কীভাবে যাওয়া যায়চর কুকরি মুকরিতে যেতে নদী পথ হচ্ছে সর্বাধিক সহজ উপায়। যদিও ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সরাসরি লেগুনায় চর কচ্ছপিয়া যাওয়াই উত্তম। এখানেও কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের আবহ খুঁজে পাবেন।

ঢাকার সদঘাট থেকে ভোলাগামী লঞ্চে চড়ে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল নেমে সরাসরি লেগুনা ভাড়া করে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে পারেন। প্রত্যেক দিন সকাল ৯ টা ১ টি এবং দুপুর ১২ টায় ১ টি লোকাল ট্রলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চর কুকরি মুকরি যাবার সময়শীতকালে চর কুকরি মুকরির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

এছাড়া বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউসে অনুমতি নিয়ে রাত্রি যাপন করার সুযোগ পাবেন। কুকরিমুকরির সাগরপাড় থেকেও সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্থের অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এক নজরে চর কুকরি মুকরি যাবার বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক।

চরের বালিয়াড়ির ধরে ঢাল চর অতিক্রম করে সামনে এগোলেই বঙ্গোপসাগর। এখন কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মনে রাখা জরুরী ঢাকা থেকে সবগুলো লঞ্চ বিকাল ৫ টা থেকে ৬ টার মধ্যে ছেড়ে যায় এবং ঘোষের হাট থেকে ছাড়ে বিকাল ৩ টা থেকে ৪ টার মধ্যে।

এসব লঞ্চের ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ভাড়া ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ভাড়া নিতে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা লাগে। শীতকালের এই চর কুকরি মুকরিতে বিপুল পরিমানে অথিতি পাখির আগমন ঘটে।

কোথায় থাকবেন

চাইলে চর কুকরি মুকরিতে ক্যাম্পিং করার সুযোগ পাবেন। রেস্ট হাউজে থাকতে চাইলে আগেই জানিয়ে যাওয়া ভালো। চর কচ্ছপিয়া থেকে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়ায় ট্রলারে চেপে পৌঁছে যাবেন চর কুকরি-মুকরি।

আর লঞ্চের রুট প্লান প্রায়শই পরিবর্তন করা হয় তাই যাত্রার আগেই কোন পথে লঞ্চ যাত্রা করবে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন। আর অন্য পথে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চরফ্যাশান আইচা হয়ে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে হয়। নদী পথে যাতায়াতে খরচ ও শারীরিক কষ্ট কম হয়।

যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। দক্ষিন আইচা থেকে ১৫ থেকে ৩০ টাকায় টেম্পো বা মোটরসাইকেল ভাড়ায় চর কচ্ছপিয়া যেতে পারবেন। লেগুনার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রিজার্ভ নিলে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

এর বনভূমিতে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি জীবন্ত গাছ রয়েছে। চর কুকরি মুকরির অভয়াশ্রমে প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ, বানর, শিয়াল, উদবিড়াল, বন্য মহিষ-গরু, বন মোরগ, বন-বিড়াল প্রভৃতি। চর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে লোকাল ট্রলারে ৫৫ টাকা ভাড়ায় তেতুলিয়া নদী পার হয়ে চর কুকরি মুকরি বাজারে।

মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা। ঘাট থেকে ১৫০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়া করে কিংবা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় টেম্পোতে চরে চরফ্যাশন সদরে এসে সেখান থেকে ৩০ টাকা বাস ভাড়া অথবা ২০০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়ায় দক্ষিণ আইচা আসুন।

কোথায় খাবেন

বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউস কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এরা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে।

কোথায় থাকবেন?

চাইলে চর কুকরি মুকরিতে ক্যাম্পিং করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউসে অনুমতি নিয়ে রাত্রি যাপন করার সুযোগ পাবেন। রেস্ট হাউজে থাকতে চাইলে আগেই জানিয়ে যাওয়া ভালো। চর কুকরি মুকরি রেস্ট হাউজের যোগাযোগ নাম্বার ০১৭৩৯ ৯০৮০১৩।

কোথায় খাবেন?

বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউস কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এরা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

চাইলে চর কুকরি মুকরিতে ক্যাম্পিং করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউসে অনুমতি নিয়ে রাত্রি যাপন করার সুযোগ পাবেন। রেস্ট হাউজে থাকতে চাইলে আগেই জানিয়ে যাওয়া ভালো। চর কুকরি মুকরি রেস্ট হাউজের যোগাযোগ নাম্বার ০১৭৩৯ ৯০৮০১৩।

চর কুকরি মুকরি সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবজায়গা ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। এছাড়া কুকরি মুকরি চরের সমুদ্র সৈকত নিরিবিলি ও পরিছন্ন। এছাড়া বক, শঙ্খচিল, মথুরা, বন মোরগ, কাঠময়ূর, কোয়েল ইত্যাদি বিচিত্রন প্রজাতির পাখি ও সরিসৃপ রয়েছে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh barisal guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.