bangladesh · Editorial

লাংলোক ঝর্ণা

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ঝর্ণা বান্দরবান জেলার লাংলোক ঝর্ণা (Langlok Waterfall) বা লিলুক ঝর্ণা ভ্রমণের সকল তথ্য। যাওয়ার উপায়, গাইড ও নৌকা ভাড়া, খরচ, টিপস সহ...

Photograph · Collected for Tripzao Journal

প্রকৃতির অপরূপ রূপের লীলাভূমি বান্দরবান। একটা হচ্ছে বান্দরবান সদর থেকে থানচি উপজেলা হয়ে যাবার আরেকটি হচ্ছে বান্দরবানের আলিকদম উপজেলা থেকে থানচি হয়ে যাবার।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

লাংলোক ঝর্ণা

লাংলোক ঝর্ণা সম্পর্কে

ঝর্ণার কাছে যাবার পথে বেশ বড় বোল্ডার/পাথর আছে। ট্রেকিং এর পথ পিচ্ছিল, ভালো গ্রিপের ট্রেকিং স্যান্ডেল নিন। বহুের মতে, এটিই বাংলাদেশের সর্বাধিক উঁচু ঝর্ণা।

এমন কোন আচরণ করবেন না যেন জায়গাীয় মানুষজনের বিরক্তির কারণ হয়।

কোথায় থাকবেন

যদি রাতে থাকার দরকার হয় তাহলে তিন্দু পাড়া কিংবা বাঘেরমুখ পাড়ায় আদিবাসীদের ঘরে থাকতে পারবেন। শুকনো সময়ে পানি একেবারে কমে যায়। চাইলে তিন্দু পাড়া থেকে নৌকা নিয়ে বাঘেরমুখ পাড়ায় যেতে পারবেন।

এছাড়া আছে রেমাক্রি, নাফাখুম, আমিয়াখুম সহ আরও জায়গা। শুধু লাংলোক ঘুরে দেখতে চাইলে থানচি থেকে দিনে দিনে ঘুরে ফিরে আসা যায়। ভালো কিছু খেতে চাইলে থানচি বাজারে ব্রিজের কাছে বেশ কিছু মোটামুটি মানের খাবারের হোটেল আছে।

প্রয়োজনে আগেই কোন পুর্ব পরিচিত গাইডের নাম্বারে কথা বলে ঠিক করে রাখতে পারেন। গাইড পার্মিশন ও নৌকা ভাড়ার জন্যে সাহায্য করবে। ঝর্ণার কাছে ঝিরির পাশে বাদুর গুহা রয়েছে।

নিকটবর্তী খুমী পাড়ার মানুষেরা ঝর্ণার দেয়ালে বসবাসরত ফিঞ্চ প্রজাতির মত পাখির নামানুসারে এই ঝর্নাকে ফি ফি ক্লে বলে অভিহিত করেন। এক দিনের জন্যে গাইড ৮০০-১০০০ টাকা লাগতে পারে। ব্যাগ যত হাল্কা রাখা যায় তত ভালো।

শুষ্ক মৌসুমে সময় কিছু বেশি সময় লাগতে পারে। এছাড়া থানচি বাজারে বেশ কয়েকটি মোটামুটি মানের কটেজ ও বিজিবি রিসোর্ট আছে থাকার জন্যে। চিম্বুক পর্বতশ্রেণী থেকে ঝিরিটি উৎপত্তি হয়ে লাংলোক জলপ্রপাত হয়ে সাঙ্গু নদীতে মিশেছে।

যদিও বৃষ্টি হলে বেশি পানির দেখা মিলে। থানচিতে রবি/এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক পাবেন। লাংলোক যাবার উপযুক্ত সময়লাংলোকে মূলত বর্ষাকালেই পানির প্রবাহ বেশী থাকে।

সাথে পাওয়ার ব্যাংক নিন। অতিরিক্ত গরম থেকে বাচতে সানগ্লাস, ক্যাপ, গামছা ব্যবহার করুন। যে কোন ধরণের ঝুকি নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

সাবধানে হাটবেন। আর এই ঝিরির জলপ্রপাত তথা ঝর্ণার নাম হয়েছে লাংলোক ঝর্ণা। আপনি কতদিনের জন্যে যাবেন, কীভাবে যাবেন এইসব বিবেচনা নিয়ে একটু ট্যুর পরিকল্পনা করে নিলে ভালো হবে।

জায়গাীয় মারমা/খুমি ভাষায় ‘লাংলোক’ মানে বাদুড়। চারিদিক ঘন জঙ্গলে ঘেরা উচুঁ নিচু আঁকা বাঁকা পথ ও পিচ্ছল পাথর পেরিয়ে লাংলোক বা লিলুক ঝর্ণার সামনে গেলে মুগ্ধ হয়ে ভুলে যাবেন দূর্গম পথের সকল ক্লান্তি। সাথে করে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের কয়েকটা কপি নিতে হবে।

এক নৌকায় ৫ জন বসতে পারবেন। গাইডথানচি কিংবা তিন্দু হয়ে যেভাবেই যান আপনাকে গাইড নিতে হবে। লাংলোকের আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে বর্ষা ও তার পরবর্তী সময়ে রওনা দিতে হবে।

পাড়া গুলোতে বিদ্যুত নেই, সোলার এককেবল ভরসা। যদি ভাগ্য ভালো থাকে, আর যদি ঝর্ণায় বহু পানির দেখা পান, যদিও অবশ্যই আজীবন মনে রাখার মত স্মৃতি নিয়ে ফিরবেন আপনি। যেহেতু পাহাড়ি পথে উঠতে হবে তাই কারও জন্যে সময় একটু বেশি লাগতে পারে।

পাহাড়ি এই জেলায় ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝর্ণা, আর প্রতিটি ঝর্ণার সৌন্দর্যই ভিন্নরকম। ঝর্ণার নিচে যাবার সময় সতর্ক ও সাবধান থাকুন। তারপর আগের মত ট্রেকিং করতে হবে।

যে কোন বিষয়ে গাইডের সাথে কথা বলুন। এর মধ্যে অন্যতম লাংলোক ঝর্ণা (Langlok Waterfall), যা জায়গাীয়ভাবে লিলুক ঝর্ণা নামেও পরিচিত। যাওয়া ও আসার জন্যে ভাড়া লাগবে প্রায় ১০০০-১৫০০ টাকা।

তিন্দু হয়ে যেতে চাইলে তিন্দু পাড়া থেকে সাঙ্গু নদীর পাশ দিয়ে হেটেই যাওয়া যাবে বাঘেরমুখ পাড়ায়, যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ঘন্টা। লাংলোক ভ্রমণের সবচেয়ে বেস্ট সময় জুন থেকে অক্টোবর মাস। বহু সময় একেবারে শুকনো থাকে।

এই বাদুড় গুহার কারণে জায়গাীয়রা ঝিরিকে লাংলোক ঝিরি নামে ডাকে। থানচি বাজারেই গাইড পাবেন। বাঘেরমুখ পাড়া থেকে প্রায় ৫০ মিনিট ট্রেকিং করেলেই দেখা মিলবে লাংলোক ঝর্ণার।

তিন্দু হয়ে গেলে পাড়া থেকে জায়গাীয় কাউকে নিয়ে রওনা দিতে হবে। খাবেন কোথায়আদীবাসী পাড়া গুলোতে আগে থেকে বলে রাখলে খাবারে ব্যবস্থা করে রাখবে। থানচি থেকে ছোট ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে রওনা দিতে হবে বাঘেরমুখ পাড়া।

অ্যাডভেঞ্চার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী এর উচ্চতা প্রায় ৩৯৩ ফুট। থানচি থেকে কাছেই আছে তমা তুঙ্গী পর্যটন স্পট ও ডিম পাহাড়। যে কোন ধরণের ময়লা বা প্লাস্টিক পথে বা ঝর্ণার কাছে ফেলবেন না।

বেশি পানি থাকলে নিচে যাবার চেষ্টা করবেন না। আবার বহুেই আলিকদম থেকে থানচি না গিয়ে আলিকদম-থানচি রোডের ২১কিলো দিয়ে তিন্দু হয়ে লাংলোক যায়। ট্যুর প্ল্যানলাংলোক ছাড়াও আশেপাশে বেশ কিছু জায়গা আছে যা ২দিনে ঘুরে দেখা যায়।

যদিও ভিতরে গেলে তাও পাবেন না। যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা। বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নে রয়েছে এই ঝর্ণাটি এখন অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম দর্শনীয় গন্তব্য।

লাংলোক যাওয়ার উপায়লাংলোক যাবার জন্যে দুইটি পথ দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। যাত্রাপথেই তিন্দু, বড় পাথর অঞ্চল, কুমারী ঝর্ণা দেখে নিতে পারেন। এই গুলো বেশ পিচ্ছিল।

যাওয়ার পথে তিন্দু ও রাজা পাথর বড় পাথর অঞ্চল পথে পরবে। ভ্রমণ টিপসবর্ষায় সাঙ্গু উত্তাল থাকে, নৌকা ভাড়ার করার সময় লাইফজ্যাকেট নিয়ে নিন। নৌকা ভাড়া যাওয়া আসা মিলিয়ে ৩০০০-৩৫০০ টাকা লাগবে।

মূলত লাংলোক ঝিরি থেকেই এই জলপ্রপাতের সৃষ্টি। এছাড়া পাড়া গুলোতে ছোট দোকানে চা নাস্তা করার সুযোগ আছে। আরও পড়ুনকুমারী ঝর্ণাথানকোয়াইন ঝর্ণা

কোথায় থাকবেন?

যদি রাতে থাকার দরকার হয় তাহলে তিন্দু পাড়া কিংবা বাঘেরমুখ পাড়ায় আদিবাসীদের ঘরে থাকতে পারবেন। এছাড়া থানচি বাজারে বেশ কয়েকটি মোটামুটি মানের কটেজ ও বিজিবি রিসোর্ট আছে থাকার জন্যে।

কোথায় খাবেন?

আদীবাসী পাড়া গুলোতে আগে থেকে বলে রাখলে খাবারে ব্যবস্থা করে রাখবে। এছাড়া পাড়া গুলোতে ছোট দোকানে চা নাস্তা করার সুযোগ আছে। ভালো কিছু খেতে চাইলে থানচি বাজারে ব্রিজের কাছে বেশ কিছু মোটামুটি মানের খাবারের হোটেল আছে।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

বর্ষায় সাঙ্গু উত্তাল থাকে, নৌকা ভাড়ার করার সময় লাইফজ্যাকেট নিয়ে নিন। সাথে করে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের কয়েকটা কপি নিতে হবে। এই গুলো বেশ পিচ্ছিল। ঝর্ণার কাছে যাবার পথে বেশ বড় বোল্ডার/পাথর আছে। যে কোন বিষয়ে গাইডের সাথে কথা বলুন। ট্রেকিং এর পথ পিচ্ছিল, ভালো গ্রিপের ট্রেকিং স্যান্ডেল নিন। ঝর্ণার নিচে যাবার সময় সতর্ক ও সাবধান থাকুন। বেশি পানি থাকলে নিচে যাবার চেষ্টা করবেন না। এমন কোন আচরণ করবেন না যেন জায়গাীয় মানুষজনের বিরক্তির কারণ হয়। সাবধানে হাটবেন। যে কোন ধরণের ময়লা বা প্লাস্টিক পথে বা ঝর্ণার কাছে ফেলবেন না। সাথে পাওয়ার ব্যাংক নিন। অতিরিক্ত গরম থেকে বাচতে সানগ্লাস, ক্যাপ, গামছা ব্যবহার করুন।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

যদি রাতে থাকার দরকার হয় তাহলে তিন্দু পাড়া কিংবা বাঘেরমুখ পাড়ায় আদিবাসীদের ঘরে থাকতে পারবেন। এছাড়া থানচি বাজারে বেশ কয়েকটি মোটামুটি মানের কটেজ ও বিজিবি রিসোর্ট আছে থাকার জন্যে।

লাংলোক ঝর্ণা সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

প্রকৃতির অপরূপ রূপের লীলাভূমি বান্দরবান। একটা হচ্ছে বান্দরবান সদর থেকে থানচি উপজেলা হয়ে যাবার আরেকটি হচ্ছে বান্দরবানের আলিকদম উপজেলা থেকে থানচি হয়ে যাবার। ঝর্ণার কাছে যাবার পথে বেশ বড় বোল্ডার/পাথর আছে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.