মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে রয়েছে একটা নতুন পর্যটন জায়গা। কাছেই রয়েছে সুখিয়া ভ্যালি, সেখানেও বহু গুলো রিসোর্ট আছে।
দ্রুত তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

মিরিঞ্জা ভ্যালি সম্পর্কে
দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। এখন মিরিঞ্জা ভ্যালি ও মারাইংছা হিল দর্শনার্থীদের কাছে বেশ দর্শনীয় একটা জায়গা। লামা-আলীকদম সড়কে মিরিঞ্জা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ১০ মিনিট হেঁটে গেলেই মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলো দেখার সুযোগ পাবেন।
মিরিঞ্জা যাবার আগেই রিসোর্ট পছন্দ করে যোগাযোগ করে যান। বাস ড্রাইভারকে বললেই আপনাকে মিরিঞ্জা বাজারে নামিয়ে দিবে। এখন বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মিরিঞ্জা দারুন এক আকর্ষণের নাম।
আপনার রিসোর্টের অবজায়গা অনুযায়ী হেঁঁটে যাওয়ার সময় কম বেশি হতে পারে। যদিও শীতের সময় দর্শনার্থীের ভীড় বেশি থাকে। রাতভর শোনা যায় শিশির পতনের শব্দ।
অথবা সবার উচুতে যে সব রিসোর্ট আছে। প্রকৃতি এই অঞ্চলটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। যদিও রিসোর্টে যাওয়া আসার জন্যে সময় লাগবে বেশি।
শুকনো সময়ে হেঁটে যেতে সমস্যা না হলেও বৃষ্টির সময়ে রাস্তায় বহু কাদা থাকে। যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ডিম পাহাড় হয়ে বান্দরবান। বিদুৎ না থাকলে দিনের বেলায় বেশ গরমও লাগতে পারে।
প্রায় সারা বছর এখানে মেঘের আনাগোনা থাকে, যদিও সবচেয়ে বেশি মেঘের দেখা মিলে জুন থেকে নভেম্বর মাসে। সিএনজি ভাড়া ৯০-১০০ টাকা। যদি আলীকদমের বাসে যাবার সুযোগ না থাকে যদিও দেশের যে কোন জায়গা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে করে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে।
যোগাযোগ
ঃ 01886673717লামা হিল স্টেশন (Lama Hill Station) এই রিসোর্টের পড হাউজ ও কটেজে থাকতে খরচ হবে ২,৫০০ টাকা থকে ৪,৫০০ টাকা, জুম ঘরে ২,০০০ টাকা ও তাঁবুতে ৫০০ টাকা। বাস কিংবা জিপের ভাড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
যোগাযোগ
ঃ 01316764051 | Facebook Pageমিরিঞ্জা মেঘ মাচাং রিসোর্টে (Mirinja Megh Machang Resort) পড হাউজ ও কটেজে থাকতে খরচ হবে ৩,৫০০ টাকা থকে ৬,০০০ টাকা, জুমঘরে ২,৫০০ টাকা ও তাঁবুতে তিন বেলা খাবার সহ ১,১০০ টাকা। একটু লাক্সারি পছন্দ হলে প্রিমিয়াম মানের রুম সহ রিসোর্টে থাকতে পারেন। এখানে সর্বাধিক বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা যায়।
সেখান থেকে লামা-আলীকদম পথে জিপ, চান্দের গাড়ি, বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জা ভ্যালি পৌঁছানো যায়। Facebook Pageআরও কিছু জনপ্রিয় রিসোর্টঃডেঞ্জার হিল রিসোর্ট (Danger Hill Resort)আগারং রিসোর্ট (একটু ভিতরে)মেঘকুঞ্জ রিসোর্ট (Meghkunjo Resort)মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসোর্ট (Mirinja Heaven Resort)মিরিঞ্জা হাফং রিসোর্ট (Mirinja Haphong Resort)জঙ্গল বিলাস রিসোর্ট (একটু ভিতরে)মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্ট (Mirinja Eco Resort)জুম ঘর ছাড়াও এখানে তাবুতে আবাসন সুবিধা আছে। খুব আয়েশি কিছু ভাবলে ভুল হবে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির শুরু দিকে কিছু রিসোর্টে বিদ্যুত সংযোগ থাকলেও পিছনের দিকে রিসোর্ট গুলোতে সংযোগ নেই এখনো। চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা বাজার যেতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগবে। মিরিঞ্জা বাজার থেকে পাহাড়ের উপরে যতই যেতে থাকবেন, দুই পাশে বহু রিসোর্টের দেখা পাবেন।
এখানে আপনি প্রকৃতি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন নিজের মতো করে। তাই বুকিং এর আগে জেনে নিন ডিভাইজ চার্জের কি কি সুবিধা আছে। রিসোর্টের অবজায়গা দূরে হলে কিংবা ট্রেকিং এর কষ্ট করতে না চাইলে মোটরসাইকেল ভাড়ায় রিসোর্টে যেতে পারবেন, দূরত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল ভাড়া ১০০-৩০০ টাকা লাগতে পারে।
এই রোদ তো এই বৃষ্টি। ফ্যান ও লাইটের জন্যে সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদুৎ ব্যবস্থা আছে। আশেপাশের দর্শনীয় জায়গামিরিঞ্জা ভ্যালির কাছেই আছে সুখিয়া ভ্যালি, মাতামুহুরী নদী, আলিকদমে রয়েছে মারাইংতং পাহাড় ও আলীর গুহা।
মিরিঞ্জা ভ্যালি প্রবেশ পথের ডান পাশের রিসোর্ট গুলো থেকে ভ্যালি চমৎকার দেখা যায়, তাই মেঘের চমৎকার ভিউ ডান পাশের রিসোর্ট গুলো থেকেই পাবেন।
যোগাযোগ
ঃ 01886-301006 | Facebook Pageচুংদার বক (একটু ভিতরে) রিসোর্টে এ পড হাউজ ও প্রিমিয়াম রুমে থাকতে খরচ হবে ৪,৫০০ থকে ৬,৫০০ টাকা একসাথে থাকা যাবে ৬ জন। সাজেক ভ্যালির মতই দিনে দিনে এর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে। পরিস্কার আকাশে হঠাৎ মেঘের আনাগোনা।
এছাড়া মাতামুহুরী নদীর কূল ঘেঁষে বেশ কিছু ভালো রিসোর্ট তৈরি হয়েছে। ছুটির দিন গুলোতে গেলে আগেই পছন্দের রিসোর্ট বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো হবে।
যোগাযোগ
ঃ 01866-286095মারাইংছা হিল রিসোর্ট (Maraingcha Hill) এ পড-হাউজ অথবা প্রিমিয়াম কটেজে থাকতে খরচ হবে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা ও তাঁবুতে থাকতে খরচ হবে ৯০০ টাকা। আগেই বুকিং করতে চাইলে প্যাকেজ ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলাপ করে নিন। এছাড়া আপনার সুবিধামতো চট্টগ্রাম এসে নতুন ব্রীজ বাস টার্মিনাল থেকে থেকে কক্সবাজার গামী বাসে উঠে চকরিয়া নেমে উপরে উল্লেখিত পথে যেতে পারবেন মিরিঞ্জা ভ্যালি।
আর সাথে করে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে রওনা দিতে হবে, যাত্রাপথে চেক পোস্টে আপনার এই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। ভ্রমণ টিপসকিছু রিসোর্টে বিদ্যুত এর ব্যবস্থা থাকলেও বেশ কম সময় বিদ্যুত পাওয়া যায়, আর ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলোতে বিদ্যুৎ এর সংযোগ নেই সেখানে, তাই সাথে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। কোথায় খাবেনমিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। জুম ঘরে সাধারণ মানের বিছানা বালিশ কাঁঁথা থাকে। এছাড়া মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে কক্সবাজার খুব কাছেই তাই মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সাথে যুক্ত করতে পারেন কক্সবাজার ভ্রমণ।
চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার, চকরিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার। দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করতে অল্প সময় জেনারেটর চালানো হয় বহু রিসোর্টে। মিরিঞ্জা রিসোর্ট বুকিং টিপসমিরিঞ্জা ভ্যালি যাবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সকালের মেঘ।
এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। মিরিঞ্জা ভ্যালির দূরত্ব ঢাকা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। একটু নিরিবিলি আবহ চাইলে ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলো পছন্দ করতে পারেন।
সকাল বেলা পুরো ভ্যালি ভেসে থাকে মেঘেতে। সেইসব মাথায় রাখবেন। তাই মিরিঞ্জা যাওয়ার উপযুক্ত সময় তখনই।
মাতামুহুরী নদীর চমৎকার দৃশ্য দেখা যায় এখান থেকে। প্রায় ১ ঘন্টা হেঁটে গিয়ে শেষ হয়েছে মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট গুলো। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা।
এখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ, আকাশকেও মনে হয় বেশ কাছে। শুধু মিরিঞ্জা ভ্যালি নয়, মিরিঞ্জা ভ্যালির আশেপাশে অন্য পাহাড় গুলোর ভ্যালি নিয়েও এখন বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ২/৩ বেলা খাবারের প্যাকেজ সহ জুম ঘর বা তাবুর ভাড়া প্রায়ই জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা হয়ে থাকে।
মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়ঢাকা থেকে আলীকদম গামী বাসে উঠে আলীকদমের আগেই মিরিঞ্জা বাজারে নেমে তারপর কিছুক্ষণ ট্রেকিং করে বা মোটরসাইকেলে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়া যায়। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলোতে যাওয়া কষ্টকর হতে পারে।
জুমঘরে খরচ হবে ২,৫০০ টাকা, থাকতে পারবেন ৮ জন ও তাঁবুতে জনপ্রতি খরচ হবে ৩০০ টাকা। (Mirinja Hill Resort) এ জুম ঘরে থাকতে খরচ হবে ২,০০০ টাকা, থাকতে পারবেন একসাথে ৬/৭ জন। এছাড়া কমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়।
যোগাযোগ
ঃ 01538-236836 । ভিন্ন স্বাদ নিতে থাকতে পারেন তাবু ঘরেও। আরও পড়ুনসুখিয়া ভ্যালিবার্গি লেক ভ্যালি
কোথায় খাবেন?
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা।
ট্রাভেল টিপস
মিরিঞ্জা ভ্যালি যাবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সকালের মেঘ। যদিও রিসোর্টে যাওয়া আসার জন্যে সময় লাগবে বেশি। খুব আয়েশি কিছু ভাবলে ভুল হবে। মিরিঞ্জা যাবার আগেই রিসোর্ট পছন্দ করে যোগাযোগ করে যান। প্রায় সারা বছর এখানে মেঘের আনাগোনা থাকে, যদিও সবচেয়ে বেশি মেঘের দেখা মিলে জুন থেকে নভেম্বর মাসে। অথবা সবার উচুতে যে সব রিসোর্ট আছে। এছাড়া কমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়। জুম ঘরে সাধারণ মানের বিছানা বালিশ কাঁঁথা থাকে। শুকনো সময়ে হেঁটে যেতে সমস্যা না হলেও বৃষ্টির সময়ে রাস্তায় বহু কাদা থাকে। যদিও শীতের সময় দর্শনার্থীের ভীড় বেশি থাকে। একটু নিরিবিলি আবহ চাইলে ভিতরের দিকে রিসোর্ট গুলো পছন্দ করতে পারেন। ফ্যান ও লাইটের জন্যে
বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মিরিঞ্জা ভ্যালি-এর কাছে কোথায় খাবেন?
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা।
মিরিঞ্জা ভ্যালি সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?
মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে রয়েছে একটা নতুন পর্যটন জায়গা। কাছেই রয়েছে সুখিয়া ভ্যালি, সেখানেও বহু গুলো রিসোর্ট আছে। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ।
তথ্য সূত্র: Vromon Guide
