bangladesh · Editorial

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

অনিন্দ্য চমৎকার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (Madhabkunda Waterfall) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড ইকোপার্ক এ রয়েছে। ১৬২ ফুট উঁচু মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে...

Photograph · Collected for Tripzao Journal

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (Madhabkunda Waterfall) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে। এখন বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়েছে।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, সিলেট বিভাগ

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সম্পর্কে

মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের কাছে পরিকুন্ড জলপ্রপাত নামে আরো একটা ঝর্ণা আছে। নয়তো বড়লেখা গামী কোন লোকাল বাসে উঠে কুলাউড়া পার হয়ে বড়লেখার আগেই কাঁঠালতলী বাজারে নেমে যাবেন। সেখান থেকে রিজার্ভ/লোকাল সিএনজি দিয়ে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক যাওয়া যায়।

কিছু বছর আগেও মাধবকুন্ড ছিল বাংলাদেশের জলপ্রপাত প্রেমী দর্শনার্থীদের কাছে এককেবল আকর্ষন। কত সময়ের জন্যে যাচ্ছেন, কি কি দেখবেন তা হিসেব করেই সে পরিকল্পনা করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

মাধবকুন্ডে থাকার জন্য জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে পারবেন সেখানে। নোটিশ বোর্ডে যা লিখা আছে তা পালন করুন।

আবার কোথাও কোথাও জুম চাষেরও দেখা মিলবে। আপনি আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাতে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ পাবেন। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের উত্তাল রূপ দেখার সময় বর্ষা কালেই।

বর্ষায় বহু পানি থাকে তাই ঝিরিতে বহু স্রোত, সাবধান থাকবেন। হয় আপনি সিএনজি/জীপ/মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে নিতে হবে। সিলেট থেকে মাধবকুন্ডসিলেট থেকে মাধবকুন্ড যেতে চাইলে কদমতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে বড়লেখা হয়ে যে বাস কুলাউড়া যায় সেই বাসে উঠে পৌঁছাতে পারবেন অথবা বড়লেখা চলে আসবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে নানা আন্তঃনগর ট্রেন মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট যায়। ইকোপার্কে আরো আছে শ্রী শ্রী মাধবেশ্বরের তীর্থজায়গা, চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, কমলা, লেবু, সুপারী ও পানের বাগান। আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সেইভাবেই গুছিয়ে নিতে পারেন।

মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল শহরেও বহু মানের খাবার হোটেল আছে। মাধবকুন্ড ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতাকম খরচে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে চাইলে ট্রেন ও লোকাল সিএনজি দিয়ে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন। সিজনে ও ছুটির দিনে গেলে সিএনজি/জিপ ভাড়া একটু বেশি লাগবে।

আপনার পছন্দমত কোন হোটেল থেকে খেয়ে নিতে পারবেন। যাওয়ার সময়ভ্রমণের জন্যে শীতকাল উপযুক্ত সময় হলেও ঝর্ণাতে শীতকালে পানি কম থাকে। আপনি কোন জায়গা থেকে যাবেন তার উপর নির্ভর করে নিচে কয়েকটি পদ্ধতিতে মাধবকুণ্ড যাবার উপায় দেওয়া হলো।

তবু দর্শনার্থীদের কাছে মাধবকুন্ড ঝর্ণার আবেদন একটুও কমেনি। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত কে ঘিরেই সরকারী উদ্যোগে ২৬৭ একর অঞ্চলকে নিয়ে ২০০১ সালে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মাধবকুন্ড ইকোপার্কের মেইন গেইট থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পথ হেটে গেলে মাধবকুন্ড ঝর্ণার দেখা মিলবে।

চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক ঘুরে দেখতে বেশ উপভোগ্য। এইক্ষেত্রে আপনি রিজার্ভ সিএনজি (৪০০-৬০০) নিয়ে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন অথবা কুলাউড়া থেকে লোকাল সিএনজি দিয়ে কাঠালতলী বাজার গিয়ে সেখান থেকে আবার রিজার্ভ সিএনজি (১৫০-১৮০) টাকা বা লোকাল সিএনজি (জনপ্রতি ২০-২৫) টাকা ভাড়া দিয়ে মাধবকুন্ড থেকে পারবেন।

ঝর্ণার আশেপাশের পাথর বহু পিচ্ছিল, হাটা চলায় সাবধান থাকবেন। অথবা বড়লেখা গামী কোন লোকাল বাসে করে বড়লেখার আগে কাঁঠালতলী বাজারে নেমে রওনা দিতে হবে। পারাবত, উপবন ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌলভীবাজার এর কুলাউড়া স্টেশনে নেমে রওনা দিতে হবে আপনার (শ্রেণিভেদে ভাড়া ২৮০-৬৩৯ টাকা, সময় লাগবে ৬-৭ ঘন্টা)।

ঝর্ণার পানিতে গোসল করলে আগেই অতিরিক্ত জামাকাপড় নিয়ে নিন। মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে প্রবেশ টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা। আর সেসব জায়গায় থাকার বহু ব্যবস্থা আছে।

মৌলভীবাজার থেকে মাধবকুন্ড ইকোপার্কযদি মৌলভীবাজার শহর থেকে মাধবকুন্ড যেতে চান তাহলে যাবার উপায় দুইভাবে হতে পারে। জায়গাীয় যাতায়াত এর জন্যে ভাড়া দরদাম করে নিবেন। জলপ্রপাতের নিচে বহু গভীর, ভুলেও সেখানে যাবেন না।

সেখান থেকে রিজার্ভ সিএনজি (১৫০-১৮০) টাকা বা লোকাল সিএনজি (জনপ্রতি ২০-২৫) টাকা ভাড়া দিয়ে মাধবকুন্ড থেকে পারবেন। দিনের পুরোটা সময় ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে এখানে। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক যাবার উপায়মাধবকুন্ড ঝর্ণায় যেতে পারবেন বহু ভাবেই।

আশেপাশে দর্শনীয় জায়গামাধবকুন্ড জলপ্রপাত ছাড়াও মৌলভীবাজারের আরও কিছু দর্শনীয় জায়গাে ভ্রমণ করতে পারেন। বড়লেখা থেকে রিজার্ভ সিএনজি দিয়ে মাধবকুন্ড যেতে পারবেন অথবা বড়লেখা থেকে লোকাল সিএনজি দিয়ে কাঠালতলী বাজার এসে সেখানে থেকে রিজার্ভ/লোকাল সিএনজি তে করে মাধবকুণ্ড যেতে পারবেন। ঝিরি ধরে ১০-১৫ মিনিট হেঁটে গেলেই সেই ঝর্ণার কাছে যাওয়া যায়।

তাই প্রয়োজনে নিজেদের খাবার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে পৌঁছাতে পারবেন কিংবা সিলেট ফিরে জিন্দাবাজার অঞ্চলয় পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্তোরাঁের প্রায় ৩০ রকম ভর্তা চেখে দেখতে পারেন। যদি সেই দিক চিন্তা করেন তাহলে বর্ষা বা তার আশেপাশের সময়ে মাধবকুন্ড ঝর্ণা ভ্রমণ করলে তখন ঝর্ণায় বহু পানি থাকবে। ঢাকা থেকে মাধবকুন্ডঢাকা থেকে বাসে গেলে সবচেয়ে সহজ পথ হবে আপনি বিয়ানীবাজার গামী শ্যামলী পরিবহন অথবা এনা পরিবহনে করে সরাসরি কাঠালতলী বাজার নেমে গেলে।

টূরিস্ট দেখলে অতিরিক্ত টাকা চায়। শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবকুন্ডশ্রীমঙ্গল থেকে মাধবকুন্ড যেতে চাইলে সরাসরি সিএনজি/জীপ রিজার্ভ করে যেতে পারবেন। যদিও সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে রাত্রি যাপন করলে এতে পরদিন যেকোন জায়গায় আপনার যাত্রা সহজ হবে।

খরচ কমাতে দলগত ভাবে ঘুরতে পারেন, টিমে সদস্য সংখ্যা যেন সিএনজি কতজন বসবেন সে অনুযায়ী হয়। সেখান থেকে রিজার্ভ/লোকাল সিএনজি নিয়ে যেতে পারবেন মাধবকুন্ড। অনিন্দ্য চমৎকার এই জলপ্রপাত প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু।

মাধবকুন্ড একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব, আগের রাতে রওনা দিয়ে সারাদিন ঘুরে রাতে আপনার গন্তব্যে ফিরে যেতে যান।

কোথায় খাবেন

মাধবকুণ্ডে মাঝারি মানের রেস্তোরাঁ আছে যদিও সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী। কুলাউড়া স্টেশন থেকে কাঠালতলী বাজার হয়ে মধবকুন্ড রওনা দিতে হবে। মৌলভীবাজার জেলার চমৎকার জায়গা গুলোর মধ্যে লাউয়াছড়া উদ্যান, চা বাগান, হামহাম ঝর্ণা, বাইক্কা বিল, মাধবপুর চা বাগান ও লেক, নবাব বাড়ি, হাকালুকি হাওর, মনিপুরী পল্লী সহ আরও বিচিত্র স্থাপনা ঘুরে দেখতে পারেন।

যে কোন বিষয়ে জায়গাীয় মানুষের সহযোগিতা নিন।

কোথায় থাকবেন?

মাধবকুন্ডে থাকার জন্য জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। যদিও সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে রাত্রি যাপন করলে এতে পরদিন যেকোন জায়গায় আপনার যাত্রা সহজ হবে। আর সেসব জায়গায় থাকার বহু ব্যবস্থা আছে। অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে পারবেন সেখানে। আপনি আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাতে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ পাবেন।

কোথায় খাবেন?

মাধবকুণ্ডে মাঝারি মানের রেস্তোরাঁ আছে যদিও সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী। মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল শহরেও বহু মানের খাবার হোটেল আছে। তাই প্রয়োজনে নিজেদের খাবার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে পৌঁছাতে পারবেন কিংবা সিলেট ফিরে জিন্দাবাজার অঞ্চলয় পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্তোরাঁের প্রায় ৩০ রকম ভর্তা চেখে দেখতে পারেন। আপনার পছন্দমত কোন হোটেল থেকে খেয়ে নিতে পারবেন।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

কম খরচে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে চাইলে ট্রেন ও লোকাল সিএনজি দিয়ে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন। টূরিস্ট দেখলে অতিরিক্ত টাকা চায়। মাধবকুন্ড একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব, আগের রাতে রওনা দিয়ে সারাদিন ঘুরে রাতে আপনার গন্তব্যে ফিরে যেতে যান। নোটিশ বোর্ডে যা লিখা আছে তা পালন করুন। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের উত্তাল রূপ দেখার সময় বর্ষা কালেই। বর্ষায় বহু পানি থাকে তাই ঝিরিতে বহু স্রোত, সাবধান থাকবেন। জলপ্রপাতের নিচে বহু গভীর, ভুলেও সেখানে যাবেন না। খরচ কমাতে দলগত ভাবে ঘুরতে পারেন, টিমে সদস্য সংখ্যা যেন সিএনজি কতজন বসবেন সে অনুযায়ী হয়। জায়গাীয় যাতায়াত এর জন্যে ভাড়া দরদাম করে নিবেন। সিজনে ও ছুটির দিনে গেলে সিএনজি/

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

মাধবকুন্ডে থাকার জন্য জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। যদিও সবচেয়ে ভালো হয় সিলেট, মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে রাত্রি যাপন করলে এতে পরদিন যেকোন জায়গায় আপনার যাত্রা সহজ হবে। আর সেসব জায়গায় থাকার বহু ব্যবস্থা আছে। অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে পারবেন সেখানে। আপনি আপনার পছন্দমত হোটেল বা কটেজে রাত

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (Madhabkunda Waterfall) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে। এখন বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়েছে। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের কাছে পরিকুন্ড জলপ্রপাত নামে আরো একটা ঝর্ণা আছে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh guide Sylhet
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.