bangladesh · Editorial

বিছনাকান্দি

সিলেট জেলার বিছনাকান্দি (Bisnakandi) ভ্রমণ গাইড : কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন, খাবেন কোথায়, খরচ কমানর উপায় সহ সকল তথ্যের জন্য বিছানাকান্দি ভ্রমণ...

Photograph · Collected for Tripzao Journal

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে রয়েছে। শুধু বিছনাকান্দি যাওয়ার জন্য নৌকা ভাড়া লাগবে ৮০০-১৫০০ টাকা।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, সিলেট বিভাগ

বিছনাকান্দি

বিছনাকান্দি সম্পর্কে

বড় ট্রলার ভাড়া করতে কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫০০ পর্যন্ত টাকা লাগতে পারে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুইটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। শীতকালে ও বর্ষার আগে নদীতে পানি কম থাকে সেসময় আপনি চাইলে হাদারপাড় থেকে হেটে বা বাইকে চড়ে বিছনাকান্দি যেতে পারবেন।

কোন সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনে ফোন করতে পারেন – উপজেলা নির্বাহী অফিসার (01730-331036) এবং উপজেলা পরিষদ – (01919-515960)। লাক্সারী হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে আছে নিরভানা ইন, হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ড, রোজ ভিউ হোটেল, নাজিমগর রিসোর্ট, গ্র্যান্ড প্যালেস সহ আরও কিছু হোটেল। জায়গাীয়দের সাথে বিনয়ী থাকুন।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাবার উপায়চট্টগ্রাম থেকে বাসে বা ট্রেনে সিলেট যাওয়া যায়। সেই সাথে মেঘালয় পাহাড়ের খাঁজে থাকা সুউচ্চ ঝর্ণা বিছনাকান্দির প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন কেবলা। সিলেট থেকে বিছনাকান্দিবিছনাকান্দি যেতে সিলেটের আম্বরখানার সিএনজি স্টেশন থেকে জনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় লোকাল অটোরিকশায় চড়ে হাদারপার নামক জায়গায় রওনা দিতে হবে।

আর অবশ্যই দামাদামি করে নৌকা ভাড়া ঠিক করে নিবেন। আর সিজন ও দর্শনার্থী উপস্থিতি বেশি থাকলে ভাড়া কম বেশি হতে পারে। যেকোন ভাড়ার জন্যে ভালো মত দরদাম করে নিন।

আর পান্থুমাই সহ নৌকা ভাড়া লাগবে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। জনপ্রতি মটরবাইক ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এসব হোটেলে নানা প্যাকেজে আনলিমিটেড ভাত ডাল খেতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে।

হাদারপার এসে নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ঠিক করে বিছনাকান্দির মেইন পয়েন্টে যেতে পারবেন। চাইলে একদিনেই রাতারগুল দেখে বিছনাকান্দি ভ্রমণ করতে পারেবেন। বাস ভেদে জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে পারেন। দয়া করে আবহ ও প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। সারাদিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ নিলে প্রায়ই ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকার মত লাগবে।

প্রয়োজনে সাথে কিছু শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি কিনে নিয়ে পৌঁছাতে পারবেন। নন-এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা। এছাড়া সিলেট শহরে নানা মানের রেস্তোরাঁ আছে, আপনার চাহিদামত সবকিছুই পাবেন।

ভাল মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে হোটেল হলি গেইট, হলি ইন, লা ভিস্তা হোটেল, পানসি ইন, হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ব্রিটানিয়া হোটেল ইত্যাদি। হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন। ঢাকা থেকে সিলেট যেতে শ্রেণিভেদে টিকেট মূল্য ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।

বিছনাকান্দি ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতাখরচ কমাতে দলগত ভাবে ভ্রমণ করুন। চারদিকে প্রচুর পানি প্রবাহ থাকার কারণে এ সময় বিছানাকান্দির প্রকৃত সৌন্দর্য্য দেখতে পাওয়া যায়। বিছনাকান্দিতে পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন।

দর্শনার্থীদের কাছে বিছানাকান্দির মূল আকর্ষন হচ্ছে পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ জলধারা আর পাহাড়ে পাহাড়ে শুভ্র মেঘের উড়াউড়ি। বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায়দেশের যেখানেই থাকেন আপনাকে প্রথমে সিলেট জেলা শহরে আসতে হবে বিছনাকান্দি যাবার জন্যে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের খাসিয়া পাহাড়ের বহুগুলো ধাপ দুই পাশ থেকে এসে বিছনাকান্দিতে মিলিত হয়েছে।

ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ও সাচ্ছন্দে যেতে আকাশ পথকে বেছে নিতে পারেন। ঢাকা থেকে সিলেট যাবার উপায়ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা প্লেনে আপনি সিলেট যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

বিছানাকান্দি যাওয়া আসার সময় কম লাগার কারণে থাকার জন্য সিলেট শহরকে বেছে নিতে পারেন। প্রথম দেখায় আপনার মনে হবে এ যেন এক পাথরের বিছানা, আর স্বচ্ছ পানিতে গা এলিয়ে দিতেই যে মানসিক প্রশান্তি পাবেন এই প্রশান্তি আপনাকে বিছানাকান্দি টেনে নিয়ে যাবে বারবার। বিছনাকান্দি মূলত জাফলং ও ভোলাগঞ্জের মতই একটা পাথর কোয়ারী।

সিলেটের জিন্দাবাজার অঞ্চলর পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্তোরাঁের সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশী খাবার খেতে পারেন, এই রেস্তোরাঁ গুলো বহু রকম ভর্তা ভাজি, খিচুড়ি ও মাংসের পদের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। কি খাবেনবিছনাকান্দিতে কিছু অস্থায়ী খাবারের হোটেল রয়েছে।

এছাড়া লালা বাজার অঞ্চলয় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় বহু মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় নানা ধরণের রুম পাবেন। বিছানাকান্দি একটা পাথর কোয়ারী, চারাপাশে পাথর, পানির নিচেও পাথর, তাই হাঁটা চলায় অতিরিক্ত সাবধান থাকুন। নৌকা ও সিএনজি ভাড়া করতে ভালো মত দামাদামি করুন।

ট্রেনে যেতে সময় লাগবে সাড়ে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। বছরে অন্য সময় এখানে পাথর উত্তোলনের কারণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। প্রতি রাতের জন্যে খরচ হবে ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সিলেট যেতে কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশান হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে। বর্ষাকালে অল্প পানির স্রোতের গতিও বহু বেশি থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। তারপর সিলেট থেকে বিছনাকান্দি রওনা দিতে হবে।

এ যেন পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর পাথর মিলিয়ে প্রকৃতির মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে বিছানাকান্দি। যদিও বর্ষাকাল বিছানাকান্দি ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। বিছনাকান্দিতে গোসল করলে পোষাক পরিবর্তনের প্রয়োজনে অর্থের বিনিময়ে ওয়াশরুম ব্যবহার করা যায়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, নভো এয়ার, এয়ার আস্ট্রা এবং ইউএস বাংলা এয়ারের বিমান সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বর্ষাকালে বিছনাকান্দি ভ্রমণে গেলে বিছানাকান্দি ও পান্থুমাইয়ের জন্য একত্রে নৌকা ভাড়া করার সুযোগ পাবেন এবং সেই অনুযায়ী নৌকার মাঝির সাথে কথা বলে নিন। বিছনাকান্দি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়বিছনাকান্দি যে কোন সময় ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত।

ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে গ্রীন লাইন, শ্যামলি, সৌদিয়া, এস আলম ও এনা পরিবহনের এসি বাস যাতায়াত করে। সন্ধ্যার আগেই সিলেট শহরে ফিরে আসুন।

কোথায় থাকবেন?

বিছানাকান্দি যাওয়া আসার সময় কম লাগার কারণে থাকার জন্য সিলেট শহরকে বেছে নিতে পারেন। হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন। লাক্সারী হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে আছে নিরভানা ইন, হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ড, রোজ ভিউ হোটেল, নাজিমগর রিসোর্ট, গ্র্যান্ড প্যালেস সহ আরও কিছু হোটেল। এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া লালা বাজার অঞ্চলয় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় বহু মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় নানা ধরণের রুম পাবেন। ভাল মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে হোটেল হলি গেইট, হলি ইন, লা ভিস্তা হোটেল, পানসি ইন, হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ব্রিটানিয়া হোটেল ইত্যাদি। প্রতি রাতের জন্যে খরচ হবে ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

কোথায় খাবেন?

বিছনাকান্দিতে কিছু অস্থায়ী খাবারের হোটেল রয়েছে। প্রয়োজনে সাথে কিছু শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি কিনে নিয়ে পৌঁছাতে পারবেন। হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে পারেন। এছাড়া সিলেট শহরে নানা মানের রেস্তোরাঁ আছে, আপনার চাহিদামত সবকিছুই পাবেন। এসব হোটেলে নানা প্যাকেজে আনলিমিটেড ভাত ডাল খেতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে। সিলেটের জিন্দাবাজার অঞ্চলর পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্তোরাঁের সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশী খাবার খেতে পারেন, এই রেস্তোরাঁ গুলো বহু রকম ভর্তা ভাজি, খিচুড়ি ও মাংসের পদের জন্য খুবই জনপ্রিয়।

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

খরচ কমাতে দলগত ভাবে ভ্রমণ করুন। চাইলে একদিনেই রাতারগুল দেখে বিছনাকান্দি ভ্রমণ করতে পারেবেন। জায়গাীয়দের সাথে বিনয়ী থাকুন। নৌকা ও সিএনজি ভাড়া করতে ভালো মত দামাদামি করুন। দয়া করে আবহ ও প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। বর্ষাকালে অল্প পানির স্রোতের গতিও বহু বেশি থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বিছানাকান্দি একটা পাথর কোয়ারী, চারাপাশে পাথর, পানির নিচেও পাথর, তাই হাঁটা চলায় অতিরিক্ত সাবধান থাকুন। বিছনাকান্দিতে পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন। সন্ধ্যার আগেই সিলেট শহরে ফিরে আসুন।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

বিছানাকান্দি যাওয়া আসার সময় কম লাগার কারণে থাকার জন্য সিলেট শহরকে বেছে নিতে পারেন। হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন। লাক্সারী হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে আছে নিরভানা ইন, হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ড, রোজ ভিউ হোটেল, নাজিমগর রিসোর্

বিছনাকান্দি সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে রয়েছে। শুধু বিছনাকান্দি যাওয়ার জন্য নৌকা ভাড়া লাগবে ৮০০-১৫০০ টাকা। বড় ট্রলার ভাড়া করতে কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫০০ পর্যন্ত টাকা লাগতে পারে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh guide Sylhet
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.