bangladesh · Editorial

দামতুয়া ঝর্ণা

দামতুয়া ঝর্ণা বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় রয়েছে। দামতুয়া ঝর্ণাটি তুক অ দামতুয়া ঝর্ণা, লামোনই ও ডামতুয়া নামেও পরিচিত। দামতুয়া ভ্রমণ গাইডে পড়ুন বিস্তারিত।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

দামতুয়া ঝর্ণা বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় রয়েছে। এই ঝর্ণায় যাবার রাস্তা মোটেও সহজ নয়।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

দামতুয়া ঝর্ণা

দামতুয়া ঝর্ণা সম্পর্কে

এখানে আসা যায় দুইভাবে। দামতুয়া ঝর্ণাটি আরও বেশ কিছু নামে পরিচিত। অথবা আলীকদম থেকে চকরিয়া ফিরে সেখান থেকে সুবিধামত পরিবহনে ফিরে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে।

ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা দুর্গম হওয়ায় অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় দর্শনার্থীদের কাছে এখন খুবই আকর্ষণীয় এই জায়গা। সেখানে সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও ফোন নাম্বার দিয়ে নাম এন্ট্রি করে সামনে যাবার জন্যে অবশ্যই পার্মিশন নিতে হবে। যদিও চকরিয়া হয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক ও সময় সাশ্রয়ী।

তাই যাঁরা পাহাড়ি আবহে হাঁটতে পারেননা এবং শিশু ও বয়স্কদের সেখানে না যাওয়াই ভালো। যাওয়ার পথে আদুপাড়ায় টং দোকান পাবেন সেখানে হালকা নাস্তার জন্যে কিছু খাবার পাবেন। এক বাইকে ২ জন করে বসা যাবে, জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ২৫০-৩০০ টাকা।

পাহাড়ী পথে বা ঝিরিতে হাঁটার সময় সাবধান থাকবেন। চকরিয়া নেমে সেখানের নতুন বাস টার্মিনাল থেকে আলীকদম যাবার লোকাল বাস পাওয়া যায়। আর দুপুরের খাওয়ার জন্যে আপনাকে সাথে করে শুকনো খাবার নিতে রওনা দিতে হবে।

বান্দরবান জেলার দুর্গম জায়গায় যে কয়টি চমৎকার ঝর্ণা আছে তার মধ্যে আকার আকৃতি ও সৌন্দর্য্যের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের অন্যতম চমৎকার ঝর্ণার মধ্যে একটা। সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন। দলগত ভাবে ভ্রমণ করলে ভ্রমণ খরচ বহুাংশে কমানো সম্ভব।

দয়া করে অপচনশীল দ্রব্য ট্রেইলে বা ঝর্ণায় ফেলবেন না। যাওয়ার উপায়দামতুয়া ঝর্ণায় যেতে হলে আপনাকে প্রথম আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের জায়গায় আসতে হবে। যেহেতু বেশ বড় ট্রেকিং ট্রেইল, তাই আপনার ব্যাকপ্যাকের ওজন যত কম রাখা যায় ততই ভালো।

ভাড়ার বিষয়ে আপনাকে দরদাম করে নিতে হবে। নিজের সাথে শুকনো খাবার, স্যালাইন, পানি ও কিছু প্রাথমিক ঔষুধ সাথে রাখবেন অবশ্যই। ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টে আদুপাড়া নামের একটা গ্রাম আছে সেখানে নেমে আপনাকে ট্রেকিং শুরু করতে হবে।

আলীকদম থেকে যাবার পথে ১০ কিলোমিটার যাবার পর সেখানে আর্মি ক্যাম্প আছে। দ্যা দামতুয়া ইন, আলীকদম উপজেলা রোড,আলীকদম, বান্দরবান। দামতুয়া ঝর্ণার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ঝর্ণা ও ঝিরি আছে, কি কি দেখবেন তা গাইডের সাথে আগেই আলাপ করে নিবেন।

ঢাকা থেকে আলীকদম বাস ভাড়া ৮৫০ টাকা। আর আলীকদম থাকার মত তেমন ভালো কোন হোটেল বা আবাসিক ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে আলীকদম হয়ে অথবা সরাসরি আলীকদম গিয়ে।

এছড়া ট্রেইলে ট্রেকিং এর সময় খাওয়ার জন্যে সাথে বিস্কুট, চকোলেট, কলা এইরকম কিছু খাবার সাথে রাখবেন। ঝর্ণায় যাওয়া আসার জন্যে পাহাড়ী রাস্তায় প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ।

সাথে করে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি নিবেন। ট্রেকিং এর জন্যে ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল/জুতা ব্যবহার করুন। আরেকটি পথ হলো বান্দরবান শহর থেকে আলীকদম যাবার রোড ধরে।

ঢাকা থেকে গেলে সকালে পৌঁছে সারাদিন ঘুরে আলীকদম থেকে সন্ধ্যার ফিরতি বাসে ঢাকা চলে আসতে পারবেন। আপনাকে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আবার ফিরে আসার জন্যে গাইড ফি হিসবে ৫০০-৮০০ টাকা দিতে হবে। জায়গাীয় আদীবাসী মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

তাই সবচেয়ে ভাল সেইদিনই আপনি যদি আলীকদম থেকে ফিরে আসেন। এছাড়া চকরিয়া হয়েও আলীকদম যাওয়া যায়। আলীকদম থেকে দামতুয়া ঝর্ণাআলীকদমে এসে আলীকদমের পানবাজার থেকে আপনাকে বাইক ভাড়া করে রওনা দিতে হবে আলীকদম-থানচি রাস্তার ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের আদুপাড়াতে।

আর দুপুরে খাবারের জন্যে আগে থেকেই সাথে করে শুকনো খাবার নিয়ে নিতে হবে। সেই বিষয়ও আপনার বিবেচনায় থাকতে হবে। ঝর্ণায় যাবার জন্যে আপনার গাইডের প্রয়োজন হবে।

ঢাকা থেকে চকরিয়া বাস ভাড়া শ্রেণিভেদে ৯৫০ থেকে ২২০০ টাকা। যে কোন ভাড়ার জন্যে দরদাম করে নিবেন। আর মনে রাখতে হবে আপনাকে অবশ্যই সেইদিনই ট্রেকিং শেষ করে বিকেল ৫ টার আগে এই ১০ কিলো আর্মি ক্যাম্পে ফিরে এসে রিপোর্ট করতে হবে।

যদিও এইখানেও আপনাকে দরদাম করে নিতে হবে। আপনাকে দামতুয়া ঝর্ণা দেখে সেইদিনই আলীকদম ফিরে আসতে হবে। সতর্কতা ও ভ্রমণ টিপসঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা অতি দুর্গম।

লম্বা মোজা পরে থাকলে জোঁক কম ধরবে। ঢাকা থেকে আলীকদমএখন ঢাকা থেকে শ্যামলি ও হানিফ বাস সরাসরি আলীকদমে চলাচল করে। দামতুয়া যাওয়ার পথেই পাবেন ওয়াংপা ঝর্ণা, তুক অ ঝিরি ঝর্ণা, আরও বেশ কিছু চমৎকার ক্যাসকেড।

তাই এই সময়েই যাওয়া ভালো। যাঁরা পাহাড়ি আবহে হাঁটতে পারেননা তারা সেখানে না গেলেই ভালো।

যোগাযোগ

ঃ ০১৭৪৮-৯১২১২৭খাওয়া দাওয়াআলীকদমে বা আলীকদমের পানবাজারে খাওয়ার জন্যে মোটামুটি মানের বেশ কিছু হোটেল আছে। শিশু, বয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সেখানে না নেওয়াই ভালো। অথবা লোকাল চান্দের গাড়িতে করে কিংবা একসাথে বহুজন থাকলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে আলীকদম যেতে পারবেন।

অথবা আপনারা একসাথে বেশি মানুষ থাকলে আলীকদম থেকে চান্দের গাড়ী/জীপ ভাড়া করে নিতে পারবেন। যদিও ঝর্ণায় বেশি পানি থাকে বর্ষাকালে এবং বর্ষার পরের সময়টুকুতে। কক্সবাজারগামী যে কোন বাসে যাওয়া যাবে চকরিয়া।

আদুপাড়া থেকে আপনি সারাদিনের জন্যে গাইড ঠিক করে নিতে পারবেন। থাকার জায়গাএখন আর্মি ক্যাম্প থেকে দামতুয়া যাবার পথে থাকতে দেয় না। আদুপাড়া থেকে ঘুরে ফিরে আসতে প্রায় ৬ ঘণ্টার মত লাগবে।

তার মধ্যে তুক অ ঝর্ণা, লামোনই ও ডামতুয়া ঝর্ণা নাম উল্লেখযোগ্য। যদিও অতি বৃষ্টি হলে যাবার পথ বহু কঠিন হয়ে যায়। আর একান্তই যদি থাকতে হয় তাহলে জায়গাীয় হোটেল আছে, সেখানে থাকতে পারবেন।

পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন। সেখানে দেশীয় খাবারের ব্যবস্থা আছে, অল্প খরচে খেয়ে নিতে পারবেন। যাবার উপযুক্ত সময়বছরের যে কোন সময় যাওয়া যায়।

যদিও ট্রেকিং শুরু আগে আপনার প্রয়োজনীয় কিছুর দরকার হলে সেখানের ছোট জায়গাীয় দোকান কিনে নিতে পারেন। যাবার সময় বাসের সুপারভাইজারকে চকরিয়া বাজারে নামিয়ে দিতে বললে আপনাকে নামিয়ে দিবে। আরও পড়ুনলাংলোক ঝর্ণাকুমারী ঝর্ণাথানকোয়াইন ঝর্ণা

ট্রাভেল টিপস

⭐ দরকারী টিপ

ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা অতি দুর্গম। পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন। যে কোন ভাড়ার জন্যে দরদাম করে নিবেন। সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন। দয়া করে অপচনশীল দ্রব্য ট্রেইলে বা ঝর্ণায় ফেলবেন না। ট্রেকিং এর জন্যে ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল/জুতা ব্যবহার করুন। যেহেতু বেশ বড় ট্রেকিং ট্রেইল, তাই আপনার ব্যাকপ্যাকের ওজন যত কম রাখা যায় ততই ভালো। শিশু, বয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সেখানে না নেওয়াই ভালো। দলগত ভাবে ভ্রমণ করলে ভ্রমণ খরচ বহুাংশে কমানো সম্ভব। পাহাড়ী পথে বা ঝিরিতে হাঁটার সময় সাবধান থাকবেন। জায়গাীয় আদীবাসী মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। নিজের সাথে শুকনো খাবার, স্যালাইন, পানি ও কিছু প্রাথমিক ঔষুধ সাথে রাখব

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

দামতুয়া ঝর্ণা ভ্রমণে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন?

ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা অতি দুর্গম। পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন। যে কোন ভাড়ার জন্যে দরদাম করে নিবেন। সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন। দয়া করে অপচনশীল দ্রব্য ট্রেইলে বা ঝর্ণায় ফেলবেন না। ট্রেকিং এর জন্যে ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল/জুতা ব্যবহার করুন। যেহেতু বেশ বড় ট্রেকিং ট্রেইল, তাই আপনার ব্যাকপ্যাকের ওজ

দামতুয়া ঝর্ণা সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

দামতুয়া ঝর্ণা বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় রয়েছে। এই ঝর্ণায় যাবার রাস্তা মোটেও সহজ নয়। এখানে আসা যায় দুইভাবে।

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.