bangladesh · Editorial

চন্দ্রিমা উদ্যান ভ্রমণ: ঢাকার হৃদপিণ্ডে এক টুকরো সবুজ আর ইতিহাসের আড্ডা

ঢাকার শেরে বাংলা নগরে ৭৪ একরের চন্দ্রিমা উদ্যান যেন ঐতিহ্যের এক দর্পণ। এর ঝুলন্ত সেতু আর সবুজ ছায়ার খুঁটিনাটি জানতে এখনই পড়ুন।

চন্দ্রিমা উদ্যান ভ্রমণ: ঢাকার হৃদপিণ্ডে এক টুকরো সবুজ আর ইতিহাসের আড্ডা

সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব যদি আজ সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে হাঁটতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বলতেন, “বাপু, এই যে চন্দ্রিমা দেখছ, এ কেবল নাম নয়—এ যেন ক্ষমতার পালাবদলের এক জ্যান্ত ডায়েরি!” ১৯৮১ সালের আগে যেখানে গবাদিপশুর খামার আর চাষবাস চলত, আজ সেখানে ৭৪ একরের এক বিশাল সাম্রাজ্য। কেউ বলেন কোনো এক ‘চন্দ্রিমা’ বিবির বাড়ির নামে এর নাম, আবার কেউ বলেন অর্ধচন্দ্রাকৃতি ক্রিসেন্ট লেকের মায়ায় পড়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এই নামখানা দিয়েছিলেন।

ক্ষমতার হাওয়া বদলের সাথে সাথে এর নাম কখনো জিয়া উদ্যান হয়েছে, আবার কখনো ফিরে এসেছে চন্দ্রিমা উদ্যানে। তবে নাম যা-ই হোক, সাত সকালে প্রাতঃভ্রমণকারী থেকে শুরু করে গোধূলি বেলায় আড্ডাবাজ—সবার কাছেই এই চত্বর সমান জনপ্রিয়। লেকের ওপর সেই বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটা পার হওয়ার সময় মনে হবে, ঢাকার কংক্রিটের জঙ্গল থেকে আপনি বোধহয় কয়েক আলোকবর্ষ দূরে কোনো এক শান্তির দ্বীপে চলে এসেছেন।

এখানে কেবল সবুজ ঘাস আর মায়াবী লেকই নেই, আছে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্স আর মেমোরিয়াল হলের মতো গম্ভীর স্থাপত্য। একসময় যেখানে লাঙ্গল চলত, আজ সেখানে প্রিয়জনের হাত ধরে মানুষ ফোয়ারার নাচ দেখে। ইতিহাসের এই বিচিত্র মোড় আর সবুজের ছোঁয়া পেতে চন্দ্রিমা উদ্যানের খতিয়ানটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

কী দেখবেন

প্রায় ৭৪ একর বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানে দেখার মতো রয়েছে অনেক কিছু। উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হলো মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্স। এছাড়া এখানে রয়েছে মেমোরিয়াল হল, একটি শান্ত মসজিদ এবং ক্ষুধা মেটানোর জন্য ক্যান্টিন। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি টানে ক্রিসেন্ট লেকের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু এবং মায়াবী ফোয়ারা। বিশেষ দিনগুলোতে ফোয়ারার পানির খেলা দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। সবুজে ঘেরা প্রশস্ত হাঁটার পথ আর লেকের স্নিগ্ধ পরিবেশ সব বয়সী মানুষের মনকে প্রশান্তি দেয়।

কীভাবে যাবেন

যাতায়াত মাধ্যম নির্বাচন

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি, বাস, প্রাইভেটকার কিংবা পাঠাও-উবারের মতো মোটরবাইক রাইড সার্ভিস বেছে নিন।

গন্তব্য নির্ধারণ

শেরে বাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর দিকে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানের প্রবেশপথে নামুন।

প্রবেশ

উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত, তাই সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করে লেকের ধারের সৌন্দর্য উপভোগ শুরু করতে পারেন।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

চন্দ্রিমা উদ্যান আর জিয়া উদ্যান কি একই জায়গা?

হ্যাঁ, এটি মূলত চন্দ্রিমা উদ্যান নামেই পরিচিত হলেও রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে বিভিন্ন সময় একে ‘জিয়া উদ্যান’ নামেও ডাকা হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে এটি উভয় নামেই সমানভাবে পরিচিত।

এখানে কি প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট কাটতে হয়?

না, চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশ ফি বা টিকেটের প্রয়োজন নেই। এটি দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত।

উদ্যানের ভেতরে কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?

প্রায় ৭৪ একর জায়গার এই উদ্যানে একটি মসজিদ, মেমোরিয়াল হল এবং ক্ষুধা নিবারণের জন্য একটি ক্যান্টিন রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বসার ও হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.