bangladesh · Editorial

ইতিহাসের সাক্ষী বাহাদুর শাহ পার্ক: পুরান ঢাকার আন্টাঘর ময়দান ভ্রমণ গাইড

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক। সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি আর ছায়াঘেরা পরিবেশের গল্প জানুন। এখনই পড়ুন।

ইতিহাসের সাক্ষী বাহাদুর শাহ পার্ক: পুরান ঢাকার আন্টাঘর ময়দান ভ্রমণ গাইড

পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি গলি আর মশলার ঘ্রাণ পেরিয়ে লক্ষ্মীবাজারে পা রাখলে হুট করে চোখে পড়বে এক টুকরো সবুজ দ্বীপ। স্থানীয়রা একে চেনে বাহাদুর শাহ পার্ক নামে, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এর পরিচয়টা বড়ই বিচিত্র। ১৮ শতকের শেষে এখানে ছিল আর্মেনীয়দের এক বিলিয়ার্ড ক্লাব। পাড়ার লোকজন বিলিয়ার্ড বলকে ডাকত ‘আন্টা’ নামে, আর সেই থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘আন্টাঘর ময়দান’।

তবে এই পার্কের শান্ত পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর বিপ্লবী সিপাহিদের লাশ এই ময়দানের গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখেছিল ইংরেজ শাসকেরা। ভাবা যায়, যে পথে আজ ছাত্রছাত্রীরা হেঁটে যায়, এককালে সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার শাসনভার গ্রহণের ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল?

সাতটি রাস্তার মোহনায় অবস্থিত এই ডিম্বাকৃতির পার্কটি কেবল প্রাতঃভ্রমণকারীদের আড্ডাস্থল নয়, বরং বাংলার স্বাধীনতার এক নীরব সাক্ষী। ইতিহাসের সেই ধুলোবালি আর ছায়াঘেরা গাছের সতেজতা নিতে আপনাকে আসতেই হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক সামনের এই চত্বরে।

কী দেখবেন

বাহাদুর শাহ পার্কের ডিম্বাকৃতির নকশা আর একে ঘিরে থাকা সাতটি রাস্তার মিলনস্থল দেখার মতো একটি দৃশ্য। পার্কের ভেতর পা রাখলেই দেখতে পাবেন গাছপালার ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশ। এখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে নবাবজাদা খাজা হাফিজুল্লাহ স্মরণে তৈরি স্মৃতিস্তম্ভ, যা ১৮৮৫ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়াও রয়েছে সিটি কর্পোরেশন নির্মিত একটি সুন্দর ফোয়ারা। ১৯৫৭ সালে নির্মিত সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী স্মৃতিসৌধটি এই পার্কের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে। পার্কটি ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক—আন্টাঘর ময়দান থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক এবং পরিশেষে বাহাদুর শাহ পার্ক হওয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়।

কীভাবে যাবেন

যাতায়াত মাধ্যম

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা গণপরিবহনে চড়ে পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসতে হবে।

গন্তব্যস্থল

বিশ্ববিদ্যালয় গেটের ঠিক সামনেই ডিম্বাকৃতির এই ঐতিহাসিক পার্কটি অবস্থিত।

প্রবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে পৌঁছালেই পার্কের প্রবেশপথটি অনায়াসেই চোখে পড়বে।

প্রবেশ ফি ও সময়সূচি

বাহাদুর শাহ পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না। এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বারসময়সূচিপ্রবেশ ফি
সপ্তাহের ৭ দিনভোর ৫:০০ – রাত ১০:৩০বিনামূল্যে

ভ্রমণ টিপস

⭐ দরকারী টিপ

ইতিহাসের আসল স্বাদ পেতে এবং ভিড় এড়াতে খুব সকালে পার্কে ঘুরতে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।

আশেপাশের স্পট: হাতে সময় থাকলে পার্কের পাশেই সদরঘাট, আহসান মঞ্জিল, বিউটি বোর্ডিং, লালবাগ কেল্লা এবং রোজ প্যালেস গার্ডেন ঘুরে দেখতে পারেন। ইতিহাস সচেতনতা: পার্কের স্মৃতিস্তম্ভগুলো দেখার সময় এর পেছনের সিপাহি বিদ্রোহের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিলে ভ্রমণটি আরও অর্থবহ হবে।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

বাহাদুর শাহ পার্কের আগের নাম কী ছিল?

এই পার্কটি আগে আর্মেনীয়দের বিলিয়ার্ড ক্লাবের কারণে ‘আন্টাঘর ময়দান’ এবং পরবর্তীতে রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’ নামে পরিচিত ছিল।

পার্কটি কখন খোলা থাকে?

এটি সপ্তাহের প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে।

পার্কে প্রবেশের জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?

না, বাহাদুর শাহ পার্কে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট কাটার প্রয়োজন হয় না; এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.