
বিংশ শতকের গোড়ার কথা। সাহা বংশের তিন ভাই—লালমোহন, ভজহরি আর গৌর নিতাই। ব্যবসায় এমন রমরমা উন্নতি করলেন যে নিজেদের ‘বণিক’ উপাধি বিসর্জন দিয়ে বনে গেলেন ‘শঙ্খনিধি’ বা শঙ্খের বাহক। এই আভিজাত্যের ছাপ রাখতে ১৯২১ সালে লালমোহন সাহা টিপু সুলতান রোডে গড়ে তুললেন এক অসামান্য অট্টালিকা, নাম তার শঙ্খনিধি হাউস।
ভাবুন তো, আজ থেকে একশ বছর আগে গোথিক-ইন্ডিয়ান আর ইন্দো-সারাসিন রীতির মিশেলে তৈরি এক ভবন, যার মেঝে মাটি থেকে ৫ ফুট উঁচুতে আর বারান্দায় ওঠার জন্য ছিল ২০ ফুট চওড়া সিঁড়ি! যদিও কালের বিবর্তনে আর মানুষের অবহেলায় এর জৌলুশ আজ অনেকটাই ফিকে, তবুও এর দেয়ালগুলো এখনো শোনায় সেই হারানো দিনের আভিজাত্যের গল্প।
আপনি যদি প্রত্নতত্ত্ব প্রেমী হন এবং ঢাকার ৯৩টি ঐতিহাসিক নান্দনিক ভবনের অন্যতম এই স্থাপনাটি নিজ চোখে দেখতে চান, তবে টিপু সুলতান রোডের এই ঘিঞ্জি গলিতে আপনাকে আসতেই হবে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কী কী টিকে আছে এই শঙ্খনিধি হাউসে।
কী দেখবেন
শঙ্খনিধি হাউস মূলত একটি দ্বিতল ভবন যেখানে স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায়। এর মূল ভবনের দুপাশে রয়েছে ৩টি করে প্রবেশপথ এবং উত্তর দিকে একটি চমৎকার মন্দির। ভবনের পূর্ব পাশে ছিল প্রায় ৫০ ফুট প্রশস্ত একতলা এক স্থাপনা, যা শঙ্খনিধি নাচঘর নামে পরিচিত। নাচঘরটির কারুকার্যময় ছাদ আর রঙিন টালির দেয়াল দেখলে আপনার মনে হবে কোনো এক প্রাচীন হিন্দু মন্দিরে দাঁড়িয়ে আছেন। বর্তমানে নাচঘরটি না থাকলেও মূল ভবনের ৫টি বড় ঘর এবং এর দক্ষিণমুখী স্থাপত্যের অবশেষ আপনাকে মুগ্ধ করবে। ১৯২১ সালে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি সুরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা রিকশায় চড়ে পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোডের মুখে আসতে হবে।
৩৮ নম্বর টিপু সুলতান রোডে এসে হযরত খোরেদ শাহ (রঃ) এর দরবার শরীফ কোথায় তা জিজ্ঞেস করতে হবে।
দরবার শরীফের ঠিক পাশেই শঙ্খনিধি হাউসটি অবস্থিত। দরবার শরীফের অবস্থান শঙ্খনিধি হাউসের গা ঘেঁষেই।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচি
শঙ্খনিধি হাউস মূলত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা এবং বর্তমানে এর একাংশে স্কুল রয়েছে, তাই এটি দেখার জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রবেশ ফি লাগে না।
| খাত | বিবরণ | মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| প্রবেশ ফি | সাধারণ দর্শনার্থী | বিনামূল্যে |
| সময়সূচি | দিনের বেলা | সকাল থেকে বিকেল |
ভ্রমণ টিপস
শঙ্খনিধি হাউস সহজে খুঁজে পেতে স্থানীয়দের কাছে দরবার শরীফের অবস্থান জিজ্ঞেস করাটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ঐতিহাসিক তথ্য: মনে রাখবেন, এককালের জাঁকজমকপূর্ণ এই নাচঘরের স্থানেই বর্তমানে গ্র্যাজুয়েটস উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। আশেপাশের স্পট: টিপু সুলতান রোডের এই ভবনটি দেখার পাশাপাশি আপনি ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের অন্যান্য পুরনো ভবনগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন।
দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
শঙ্খনিধি হাউসটি কে এবং কবে নির্মাণ করেছিলেন?
শঙ্খনিধি উপাধিধারী তিন ভাইয়ের একজন, লালমোহন সাহা, ১৯২১ সালে এই ঐতিহাসিক ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন।
ভবনটি কোন স্থাপত্য রীতিতে তৈরি?
এই ভবনটি নির্মাণে গোথিক-ইন্ডিয়ান ও ইন্দো-সারাসিন স্থাপত্য রীতির এক চমৎকার সংমিশ্রণ বা প্রভাব দেখা যায়।
শঙ্খনিধি নাচঘরটি এখন কোথায়?
দুঃখজনকভাবে ১৯৯১ সালে শঙ্খনিধি হাউসের একাংশ ও নাচঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে সেই নাচঘরের জায়গায় গ্র্যাজুয়েটস উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: Vromon Guide