bangladesh · Editorial

টেংরাগিরি ইকোপার্ক

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে চমৎকারবনের একাংশের বিশাল বনভূমি নিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক (Tengra

Photograph · Collected for Tripzao Journal

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে চমৎকারবনের একাংশের বিশাল বনভূমি নিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক (Tengra Giri Eco Park) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে ব্রিজের ভাঙ্গা অংশ পার হবার ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, বরিশাল বিভাগ

টেংরাগিরি ইকোপার্ক

টেংরাগিরি ইকোপার্ক সম্পর্কে

তাছাড়া আছে মিঠা পানির পুকুর, অসংখ্য ছোট ছোট খাল, বন বিভাগের রেস্ট হাউজ ও পিকনিক কর্নার। তাছাড়া কুয়াকাটা থেকে লোকাল ট্রলারে বা রিজার্ভ নিয়ে টেংরাগিরি ইকোপার্ক/ফাতরার বনে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। বনের পূর্ব দিকে রয়েছে কুয়াকাটা, পশ্চিমে চমৎকারবন আর হরিণবাড়িয়া, উত্তরে রাখাইন এবং দক্ষিণে উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর।

প্রায় ৪০৪৮ হেক্টর জায়গাজুড়ে পূর্ব পশ্চিমে ৯ কিলোমিটার ও উত্তর দক্ষিণে ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত টেংরাগিরি বনের বিস্তৃতি। বরগুনার দর্শনীয় জায়গাসোনাকাটার কাছে রয়েছে আশার চর ও তালতলী রাখাইন পল্লী পরিদর্শন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঘুরার ক্ষেত্রে একজন গাইডের সাহায্য নিন ও নির্ধারিত ট্রেইল ধরে চলাফেরা করুন। লবনাক্ত ও মিষ্টি মাটির অসাধারণ মিশ্রণের কারণে এই বনে রয়েছে বিলুপ্তি প্রজাতির অসংখ্য সারি সারি গাছ, পশু পাখি ও সরীসৃপ প্রাণী। এরপর বরগুনা থেকে বাসে আমতলী এসে মোটরবাইক অথবা ইজিবাইকে সোনাকাটা যেতে পারবেন।

ঢাকার সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলী থেকে বাসে উঠে বরগুনার তালতলী পৌঁছে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে সোনাকাটা ইকোপার্ক যেতে পারবেন। প্রকৃতিরভাবে সৃষ্ট এই বনটি কেওড়া, গরাণ, সিংরা, হেতাল, গেওয়া, ওড়াসহ নানা শ্বাসমূলীয় গাছ-গাছালিতে সমৃদ্ধ। টেংরাগিরির সবুজ ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়াদের ছুটোছুটি, পাখির কলকাকলি ও শেষ বিকেলের দিগন্ত রেখায় সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেকোনো দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করার মতো।

টেংরাগিরি/ফাতরার বনের গহীন অরণ্যের ভিতর দিয়ে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নিরিবিলি সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত। তাছাড়া নৌপথে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে পটুয়াখালী রুটের লঞ্চে বরগুনা পৌঁছানো যায়। তাছাড়া প্রয়োজনে বরগুনা শহরে রয়েছে হোটেল আলম, হোটেল বে অফ বেঙ্গল, হোটেল তাজবিন, হোটেল বসুন্ধরা, হোটেল মৌমিতা প্রভৃতি আবাসিক হোটেলে যোগাযোগ করতে পারেন।

কোথায় খাবেনআমতলী-তালতলী-সোনাচর রোডে কয়েকটি বাঙালী খাবারের রেস্তোঁরা রয়েছে। আর চাইলে ট্রলারে করে গহীন বনের জীববৈচিত্র্য ও সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। সৈকতে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের চমৎকার দৃশ্য সৌন্দর্যপ্রিয় যেকাউকে মুগ্ধ করবে।

টেংরাগিরি ইকোপার্কের পাশে আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত রয়েছে। এই ইকোপার্কে একটা কুমির প্রজনন কেন্দ্র ছাড়াও হরিণ, শূকুর, চিতা বাঘ, অজগর, বানর, শজারু ও বন বিড়ালের মতো নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দেখা মিলবে। পশুপাখীদের অযথা বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে বরগুনা পৌঁছানো যায়। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গাে ফেলুন। ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণাকৃত এই বনাঞ্চলটি জায়গাীয় বাসিন্দাদের কাছে ফাতরার বন/পাথরঘাটার বন/হরিণঘাটার বন ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও ১৯৬৭ সালে বনাঞ্চলটিকে টেংরাগিরি বন হিসেবে নামকরণ করা হয়।

এখন এই বনকে শকুনের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বন ও আবহ মন্ত্রনালয়ের অধীনে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সখিনা বিটে সোনাকাটা ইকোপার্ক পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিছু শুকনো খাবার, ফাস্ট এইড বক্স ও পানির বোতল সাথে রাখুন।

আর তাই তো নাগরিক কোলাহল এড়িয়ে প্রকৃতির অপরূপ রূপ ও সাগরের বিশালতার মাঝে হারিয়ে যেতে বহুে ভ্রমণ পিপাসুরা দূর দূরান্ত থেকে এখানে ঘুরতে আসে। টেংরাগিরি ইকোপার্ক ভ্রমণ সতর্কতাবন বিভাগের নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলুন। চমৎকারবনের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, যা দিনে দুইবার জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়।

কোথায় থাকবেনবনটিতে প্রবেশ করলে আমতলী ফরেস্ট রেস্টহাউজ চোখে পড়বে। একা একা গহীন অরণ্যের ভিতরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাছাড়া বরগুনাতে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত, হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র ও বিবি চিনি মসজিদের মতো বেশকিছু দর্শনীয় জায়গা রয়েছে।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে বরগুনা পৌঁছানো যায়।

ঢাকার সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলী থেকে বাসে উঠে বরগুনার তালতলী পৌঁছে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে সোনাকাটা ইকোপার্ক যেতে পারবেন।

এরপর বরগুনা থেকে বাসে আমতলী এসে মোটরবাইক অথবা ইজিবাইকে সোনাকাটা যেতে পারবেন।

তাছাড়া নৌপথে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে পটুয়াখালী রুটের লঞ্চে বরগুনা পৌঁছানো যায়।

তাছাড়া কুয়াকাটা থেকে লোকাল ট্রলারে বা রিজার্ভ নিয়ে টেংরাগিরি ইকোপার্ক/ফাতরার বনে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে।

কোথায় থাকবেন?

বনটিতে প্রবেশ করলে আমতলী ফরেস্ট রেস্টহাউজ চোখে পড়বে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া প্রয়োজনে বরগুনা শহরে রয়েছে হোটেল আলম, হোটেল বে অফ বেঙ্গল, হোটেল তাজবিন, হোটেল বসুন্ধরা, হোটেল মৌমিতা প্রভৃতি আবাসিক হোটেলে যোগাযোগ করতে পারেন।

কোথায় খাবেন?

আমতলী-তালতলী-সোনাচর রোডে কয়েকটি বাঙালী খাবারের রেস্তোঁরা রয়েছে।

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

টেংরাগিরি ইকোপার্ক কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে বরগুনা পৌঁছানো যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলী থেকে বাসে উঠে বরগুনার তালতলী পৌঁছে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে সোনাকাটা ইকোপার্ক যেতে পারবেন। এরপর বরগুনা থেকে বাসে আমতলী এসে মোটরবাইক অথবা ইজিবাইকে সোনাকাটা যেতে পারবেন। তাছাড়া নৌপথে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে পটুয়াখালী রুটের লঞ্

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

বনটিতে প্রবেশ করলে আমতলী ফরেস্ট রেস্টহাউজ চোখে পড়বে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া প্রয়োজনে বরগুনা শহরে রয়েছে হোটেল আলম, হোটেল বে অফ বেঙ্গল, হোটেল তাজবিন, হোটেল বসুন্ধরা, হোটেল মৌমিতা প্রভৃতি আবাসিক হোটেলে যোগাযোগ করতে পারেন।

টেংরাগিরি ইকোপার্ক সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে চমৎকারবনের একাংশের বিশাল বনভূমি নিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক (Tengra Giri Eco Park) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে ব্রিজের ভাঙ্গা অংশ পার হবার ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন। তাছাড়া আছে মিঠা পানির পুকুর, অসং

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

Filed under bangladesh barisal guide
A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.