হাওরের বুকে শত শত মানুষ একসাথে জাল ফেলছে, কাদামাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে — এই দৃশ্য দেখলে মনে হবে পুরো গ্রামটা যেন উৎসবে মেতে উঠেছে। হবিগঞ্জের পলো বাইছ উৎসব বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাণবন্ত লোক উৎসবগুলোর একটি।
🗓️ সময়: কার্তিক–অগ্রহায়ণ মাস (অক্টোবর–নভেম্বর)
🎟️ প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে
⏱️ ভ্রমণ সময়: ১ দিন (দিনে গিয়ে দিনে ফেরা সম্ভব)
কেন যাবেন পলো বাইছ উৎসবে?
এটি শুধু মাছ ধরার উৎসব নয় — এটি বাংলার হাওর সংস্কৃতির জীবন্ত উদযাপন। শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যে গ্রামের সব মানুষ একসাথে অংশ নেয়। পলো (বাঁশের তৈরি ফাঁদ) দিয়ে মাছ ধরার এই সম্মিলিত আনন্দ শহুরে জীবনে একদম দুর্লভ।
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে: সায়েদাবাদ বা মহাখালী থেকে হবিগঞ্জগামী বাসে সরাসরি যাওয়া যায় (৪–৫ ঘণ্টা)
- ট্রেনে: ঢাকা থেকে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন, তারপর সিএনজি বা অটোরিকশায় গন্তব্যে
- স্থানীয় যোগাযোগ: হবিগঞ্জ শহর থেকে সিএনজিতে হাওর এলাকায় যেতে ৩০–৬০ মিনিট
উৎসবে কী দেখবেন

হাওরে একসাথে শত শত মানুষের পলো দিয়ে মাছ ধরা, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, হাওরের অপূর্ব সূর্যাস্ত এবং স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা — এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ।
কোথায় থাকবেন
বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যায়। ৫০০–১,৫০০৳ রেঞ্জে ভালো রুম মেলে।
ট্রেন স্টেশনের কাছে কিছু সাধারণ আবাসন আছে, দিনে গিয়ে ফেরার পরিকল্পনা করলে থাকার দরকার নেই।
কোথায় খাবেন
হবিগঞ্জ শহরে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় হাওরের তাজা মাছ দিয়ে ভাত খাওয়ার সুযোগ আছে। উৎসবস্থলের আশেপাশে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানও বসে।
আনুমানিক বাজেট
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের বাস বা ট্রেন টিকেট, হোটেল বুকিং — সব এক জায়গায়। Tripzao.com ভিজিট করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সাধারণত কার্তিক–অগ্রহায়ণ মাসে (অক্টোবর–নভেম্বর) হাওরের পানি কমলে এই উৎসব শুরু হয়।
না, পলো বাইছ উৎসব সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখা যায়।
হ্যাঁ, ভোরে রওনা দিলে দিনে গিয়ে রাতে ফেরা সম্ভব, তবে রাত কাটানো হলে উৎসবের আরও বেশি অংশ উপভোগ করা যায়।