ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ষাইট্টা গ্রামে এমন একটি দৃশ্য আছে যা দেখলে মনে হবে প্রকৃতি নিজেই একটি মন্দির তৈরি করে রেখেছে। প্রায় ৫০০ বছর আগে দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষরা পাশাপাশি একটি পাকুড় গাছ ও একটি বটগাছ লাগিয়েছিলেন। শত শত বছরে দুটি গাছের শিকড় ও ডালপালা এমনভাবে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছে যে এখন দুটো মিলে একটাই বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছদুটিকে দেবতা জ্ঞান করেন এবং নিচে নির্মিত কালী মন্দিরে নিয়মিত পূজা দেন। ঢাকার কাছে এত পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম খুঁজে পাওয়া বিরল।
- অবস্থান: যাদবপুর ইউনিয়ন, ধামরাই, ঢাকা জেলা
- প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে
- বিশেষত্ব: ৫০০ বছরের পুরনো পাকুড়-বট যমজ গাছ ও কালী মন্দির
- ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ৩৫–৪০ কিমি
- সেরা সময়: শীতকাল ও শরৎকাল, সকালের দিকে
ষাইট্টা গ্রামের গাছের ইতিহাস
৫০০ বছর আগে যখন এই দুটি গাছ লাগানো হয়েছিল, কেউ কল্পনাও করেনি যে এরা একদিন একে অপরের সাথে এভাবে মিলে যাবে। পাকুড় ও বট দুটোই বিশাল আকারের গাছ এবং এদের শিকড়ের বিস্তার ব্যাপক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুটো গাছের শিকড় মাটির নিচে ও উপরে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেছে। এখন এই গাছের ছায়ায় দাঁড়ালে মনে হয় এক অদ্ভুত প্রশান্তি ঘিরে ধরে। গাছের নিচে নির্মিত কালী মন্দিরে প্রতিদিন ভোরবেলা পূজা হয় এবং এলাকার মানুষ এখানে নানা মানত পূরণ করতে আসেন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ধামরাইগামী বাসে উঠুন, ভাড়া ৪০–৬০৳।
ধামরাই পৌঁছে যাদবপুর ইউনিয়নের জন্য স্থানীয় সিএনজি বা অটো নিন।
ষাইট্টা গ্রামের ‘যমজ গাছ’ বললেই স্থানীয় সবাই চেনেন, পথ দেখিয়ে দেবেন।
কাছাকাছি কোথায় থাকবেন
ধামরাই
গেস্টহাউস ৫০০–১,২০০৳/রাত, সাধারণ সুবিধা
সাভার
হোটেল ১,৫০০–৩,৫০০৳/রাত, আধুনিক সুবিধা
আশপাশে আর কী দেখবেন
ধামরাই এলাকায় বেশ কিছু পুরনো মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে। ধামরাই রথযাত্রা বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত হিন্দু উৎসব — প্রতি বছর আষাঢ় মাসে এখানে বিশাল রথযাত্রা হয়। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধও কাছে, একদিনে দুটো মিলিয়ে ঘোরা যায়।
ভোরবেলা গেলে কালী মন্দিরে পূজার আয়োজন দেখতে পাবেন এবং গাছের নিচে সকালের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। এই সময়ে ছবিও সবচেয়ে ভালো আসে।
ভ্রমণ টিপস
এটি একটি সক্রিয় ধর্মীয় স্থান, তাই পোশাক সম্মানজনক রাখুন। মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগে জুতো খুলুন। স্থানীয়দের সাথে ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ করুন। সাথে পানি ও নাস্তা নিয়ে যান কারণ এলাকায় খাবারের সুবিধা কম।
ধামরাই যাওয়ার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাক ও দ্রুতগামী যানবাহন চলে। রাস্তা পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
ঢাকা থেকে ঢাকার আশপাশে যাওয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ফ্লাইট খুঁজতে Tripzao-তে সার্চ করুন — multi-city route-এ আরও বেশি সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ষাইট্টা গ্রামের যমজ গাছ কি সত্যিই ৫০০ বছরের পুরনো?
স্থানীয় মুরুব্বি ও দেবীদাস বংশের উত্তরসূরিরা বলেন এই গাছ প্রায় ৫০০ বছর আগে লাগানো হয়েছিল। গাছের বিশাল আকার ও জটিল শিকড়ব্যবস্থা দেখলে এর প্রাচীনতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ থাকে না।
ধামরাই থেকে ষাইট্টা গ্রাম কতটুকু দূরে?
ধামরাই উপজেলা থেকে যাদবপুর ইউনিয়নে ষাইট্টা গ্রাম প্রায় ৫–১০ কিমি দূরে। স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় ১৫–২০ মিনিটে পৌঁছানো যায়।
বছরের কোন সময়ে যাওয়া ভালো?
শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ভালো — আবহাওয়া মনোরম ও পথ পরিষ্কার। ধামরাই রথযাত্রার সময় (আষাঢ় মাস) গেলে উৎসবের আনন্দও পাবেন।
