bangladesh · Editorial

মিয়াওয়াকি বন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের টাইগারপাসে রয়েছে মিয়াওয়াকি বন () এখন দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ। দ্রুত বর্ধনশীল এই জাপানি প্রযুক্তির বনের যাতায়াত ও ভ্রমণের বিস্তারিত জেনে নিন।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

মিয়াওয়াকি বন (Miyawaki Forest) চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় অঞ্চলয় কৃত্রিমভাবে তৈরি এক চিলতে সবুজ অরণ্য। স্টেশনের সামনে থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে কেবল ১০ মিনিটেই আপনি এই বনে পৌঁছে যেতে পারবেন।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

মিয়াওয়াকি বন, চট্টগ্রাম

মিয়াওয়াকি বন, চট্টগ্রাম-এ কী দেখবেন?

মিয়াওয়াকি বনে প্রথাগত বিশাল পর্যটন কেন্দ্রের মতো বহু রাইড বা কৃত্রিম স্থাপনা না থাকলেও, এর শান্ত ও নিবিড় প্রকৃতির আবহই ভ্রমণকারীদের প্রধান আকর্ষণ। ৩. পাখির কলকাকলি ও জীববৈচিত্র্য: শহরের যান্ত্রিক শব্দের ভিড়ে এখানে আপনি পাবেন পাখির গান। মিরসরাইয়ের বনে ১২০ প্রজাতির এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনে ৫০ প্রজাতির দেশীয় গাছ রয়েছে। ৬. রিফ্রেশিং ওয়াকিং ট্রেইল: বনের ভেতর দিয়ে দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য চমৎকার ও সাজানো পথ রয়েছে। ১. ঘন সবুজের সমারোহ: মিয়াওয়াকি পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘনত্ব। ৫. আধুনিক বনায়ন প্রযুক্তি: আপনি যদি উদ্ভিদবিজ্ঞান বা আবহ নিয়ে আগ্রহী হন, যদিও জাপানি ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে তা সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। বনের ভেতর দিয়ে তৈরি করা হাঁটার পথ বা ট্রেইলগুলো পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে। কীভাবে কেবল কয়েক বছরে একটা চারাগাছ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বনে রূপান্তরিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা শিক্ষণীয়। ঘন এই বনটি ইতোমধ্যে ছোট ছোট পাখি, প্রজাপতি এবং নানা পতঙ্গের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে গাছগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি লাগানো হয়, ফলে সাধারণ বনের তুলনায় এটি বহু বেশি নিবিড়। ৪. পাহাড়ী ভূ-প্রকৃতি: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ী ঢালে এই বনটি তৈরি করা হয়েছে। বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় আপনার মনে হবে আপনি শহরের ভেতরে নয়, বরং কোনো গহীন জঙ্গলে আছেন। বহেড়া, আমলকী, অর্জুন, নিম, জারুল, কৃষ্ণচূড়া থেকে শুরু করে ওষধি ও বনজ বৃক্ষ এখানে দৃশ্যমান। যারা পাখি প্রেমিক, তাদের জন্য এটি শহরের ভেতরে একটা ছোট স্বর্গ। এই উঁচু-নিচু পথে হাঁটা এবং পাহাড়ের কোল থেকে শহরের দৃশ্য দেখা অন্যরকম এক অনুভূতি দেয়। ২. দেশীয় প্রজাতির গাছের বৈচিত্র্য: এখানে মূলত বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। অল্প জায়গায় এত ঘন অরণ্য সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না। সকাল বা বিকেলে বুকভরে অক্সিজেন নিতে নিতে সবুজের মাঝে হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ রয়েছে, যা মানসিক প্রশান্তি দেয়।

কীভাবে যাবেন?

চট্টগ্রামের মিয়াওয়াকি বনটি মূলত শহরের টাইগারপাস অঞ্চলয় রয়েছে হওয়ায় এখানে পৌঁছানো বেশ সহজ।

আপনি শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি কিংবা অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি টাইগারপাস পুলিশ বক্সের সামনে এসে নামতে পারেন; সেখান থেকে সামান্য হেঁটে গেলেই বনের প্রবেশদ্বার দেখা যাবে।

স্টেশনের সামনে থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে কেবল ১০ মিনিটেই আপনি এই বনে পৌঁছে যেতে পারবেন।

এছাড়া যারা মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় অঞ্চলয় রয়েছে মিয়াওয়াকি বনটি দেখতে যেতে চান, তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাসে করে মিরসরাই উপজেলার জোড়ারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় অঞ্চলয় সরাসরি পৌঁছাতে পারেন।

যারা ট্রেনে করে চট্টগ্রামে আসবেন, তাদের জন্য এটি আরও সুবিধাজনক, কারণ চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে টাইগারপাসের দূরত্ব কেবল ২ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উপায়

কোথায় থাকবেন?

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, স্টেশন রোড ও জিইসি মোড় মোড়ে হোটেল প্যারামাউন্ট, হোটেল স্টার পার্ক, হোটেল হিল টন সিটি, হোটেল ডায়মন্ড পার্ক, হোটেল সাফিনা, এশিয়ান এসআর হোটেল এবং হোটেল মিসকা ছাড়াও অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন?

খাবারের জন্য টাইগারপাস, লালখান বাজার ও জিইসি মোড় অঞ্চলটি বেশ সমৃদ্ধ। যদিও খেয়াল রাখবেন আপনার মাধ্যমে যেন বনের ভেতরে কোনো প্লাস্টিক বা ময়লা জমে আবহ নষ্ট না হয়। ভ্রমণ পরামর্শ: এখানে কোনো টিকিট মূল্য নেই। বনের আশেপাশে হালকা নাস্তার জন্য ছোট ছোট দোকান ও টি-স্টলও রয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস খেতে চাইলে মেজবান হাইলে আইয়ুন বা জামান হোটেল-এ পৌঁছাতে পারবেন। তাছাড়া জিইসি মোড়ে নানা ক্যাফে ও রেস্তোরাঁে সব ধরণের খাবার পাওয়ার সুযোগ আছে। বনের স্নিগ্ধতা ও চমৎকার আলো উপভোগ করতে বিকেলের দিকে যাওয়াই সর্বাধিক ভালো। আরও পড়ুনডিসি পার্ক চট্টগ্রামগানার্স ট্রেনিং এরিয়া – চট্টগ্রাম

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

মিয়াওয়াকি বন, চট্টগ্রাম কীভাবে যাবেন?

চট্টগ্রামের মিয়াওয়াকি বনটি মূলত শহরের টাইগারপাস অঞ্চলয় রয়েছে হওয়ায় এখানে পৌঁছানো বেশ সহজ। আপনি শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি কিংবা অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি টাইগারপাস পুলিশ বক্সের সামনে এসে নামতে পারেন; সেখান থেকে সামান্য হেঁটে গেলেই বনের প্রবেশদ্বার দেখা যাবে। স্টেশন

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, স্টেশন রোড ও জিইসি মোড় মোড়ে হোটেল প্যারামাউন্ট, হোটেল স্টার পার্ক, হোটেল হিল টন সিটি, হোটেল ডায়মন্ড পার্ক, হোটেল সাফিনা, এশিয়ান এসআর হোটেল এবং হোটেল মিসকা ছাড়াও অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

মিয়াওয়াকি বন, চট্টগ্রাম সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

মিয়াওয়াকি বন (Miyawaki Forest) চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় অঞ্চলয় কৃত্রিমভাবে তৈরি এক চিলতে সবুজ অরণ্য। স্টেশনের সামনে থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে কেবল ১০ মিনিটেই আপনি এই বনে পৌঁছে যেতে পারবেন। ২. দেশীয় প্রজাতির গাছের বৈচিত্র্য: এখানে মূলত বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় দে

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.