bangladesh · Editorial

ঢাকার বুক চিরে মাথা তোলা ইতিহাস: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ গাইড

সদরঘাটের ব্যস্ততায় ১১.১১ একরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যেন ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। এর বিবর্তন আর স্থাপত্য দেখতে আজই ঘুরে আসুন। এখনই পড়ুন।

ঢাকার বুক চিরে মাথা তোলা ইতিহাস: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ গাইড

সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব যদি আজ সদরঘাটের ভিড় ঠেলে চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে এসে দাঁড়াতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বলতেন, “বাপু, স্কুল থেকে কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়—বিবর্তন তো ডারউইনের থিওরিকেও হার মানায়!” ঠিক তাই, ১৮৫৮ সালে যে ‘ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা-ই রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে গর্বিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইটে ইতিহাসের ঘ্রাণ। ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী যখন বাবার নামে এর নাম দিলেন ‘জগন্নাথ স্কুল’, তখন থেকেই শুরু এর রাজকীয় বিবর্তন। ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজ হওয়ার গৌরব পেরিয়ে ২০০৫ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ পায়। মাত্র ১১.১১ একর জমি নিয়ে এমন ঠাসা ইতিহাস খুব কম জায়গায়ই মিলবে।

এখানে কেবল ইট-পাথরের দালান নেই, আছে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণচাঞ্চল্য আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমাখা স্মারক ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসের ১০টি ভবনের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে দেখা মিলবে একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির সেই আবেগঘন চিত্র। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মিশেল দেখতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জমানো গল্পগুলো একবার শুনে আসাই যায়।

কী দেখবেন

১১.১১ একর আয়তনের এই ক্যাম্পাসে দেখার মতো রয়েছে বেশ কিছু স্থাপত্য ও স্মারক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভবন সংখ্যা ১০টি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে সবার আগে চোখে পড়বে এর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। তবে এখানকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হলো ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’। এছাড়া বালিয়াটির জমিদারের স্মৃতিবিজড়িত পুরনো ভবনগুলোর স্থাপত্যশৈলী আপনাকে একশ বছর আগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ২৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখর এই ক্যাম্পাসে ইতিহাসের সাথে বর্তমানের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন চোখে পড়ে।

কীভাবে যাবেন

সদরঘাট যাত্রা

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত (যেমন: গুলিস্থান, শাহবাগ বা মিরপুর) থেকে সদরঘাটগামী বাস বা সিএনজিতে উঠে ভিক্টোরিয়া পার্ক বা সদরঘাট এলাকায় নামুন।

রিকশা বা পদব্রজ

সদরঘাট টার্মিনাল বা ভিক্টোরিয়া পার্ক মোড় থেকে রিকশায় বা পায়ে হেঁটে কয়েক মিনিটেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পৌঁছানো যাবে।

✈️ Tripzao টিপ

দেশের ভেতরে কম খরচে ফ্লাইট ও হোটেল বুক করতে Tripzao ব্যবহার করুন — সব এক জায়গায়, ঝামেলা ছাড়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আগে কী নামে পরিচিত ছিল?

১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল ‘ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল’। পরবর্তীতে ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদারের বাবার নামে এর নামকরণ করা হয় ‘জগন্নাথ স্কুল’ এবং পরে এটি কলেজে রূপান্তরিত হয়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন কত এবং এখানে কতজন শিক্ষার্থী আছে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ১১.১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন এবং মোট ভবন সংখ্যা ১০টি।

ক্যাম্পাসের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন আছে কি?

হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি শহীদ মিনার এবং ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’ নামে একটি অনন্য স্মারক ভাস্কর্য রয়েছে যা দর্শকদের বিশেষভাবে টানে।

তথ্যসূত্র: Vromon Guide

About the Author

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.