শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্বপ্ন ছিল বাংলার লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখা। সেই স্বপ্ন থেকেই ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ গড়ে উঠেছিল সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। ১৬ হেক্টরের বিশাল প্রাঙ্গণে পুরনো জমিদারবাড়ি, সর্দারবাড়ি আর শত শত লোকশিল্পের নমুনা নিয়ে এই জাদুঘর আজও বাংলার সংস্কৃতির এক জীবন্ত আর্কাইভ।
- প্রবেশ ফি: ৫০৳ (স্থানীয়), ৩০৳ (ছাত্র), ১০০৳ (বিদেশি); সর্দারবাড়ি ১০০৳
- বন্ধ: বৃহস্পতিবার
- সময়: সকাল ১০টা – বিকেল ৬টা
- প্রতিষ্ঠা: ১২ মার্চ ১৯৭৫
- ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ২৮ কিমি, মোগড়াপাড়া
কেন যাবেন এই জাদুঘরে
বাংলার হাতের কাজ, মাটির পাত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশের ঝুড়ি — এসবের ইতিহাস জানতে চাইলে এই জাদুঘরের বিকল্প নেই। সর্দারবাড়ির পুরনো কারুকাজ, সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এটি একটি সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে মসলিনের ইতিহাস জানার জন্য এখানে আসাটা আলাদাভাবে শিক্ষামূলক।
কীভাবে যাবেন
সোনারগাঁও-সায়েদাবাদ রুটের বাসে মোগড়াপাড়া মোড়। ভাড়া ৬০–৮০ টাকা।
অটো বা রিকশায় সরাসরি জাদুঘর গেট। ১০–১৫ মিনিট, ২০–৩০ টাকা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে মেঘনা টোল পার হয়ে সোনারগাঁও মোড়।
কী দেখবেন জাদুঘরে
মূল জাদুঘর ভবনে লোকশিল্পের বিশাল সংগ্রহ, পাশে সর্দারবাড়ি যেখানে আলাদা টিকিটে ঢুকতে হয়। প্রাঙ্গণে হাঁটলে পুরনো আমলের গাছপালা, পুকুর আর শান্ত পরিবেশ পাবেন। মাঝে মাঝে লোকশিল্পের বিশেষ মেলা ও প্রদর্শনীও হয়।
বাজেট পরিকল্পনা
বৃহস্পতিবার বন্ধ। শুক্র-শনিবার ভিড় বেশি। সপ্তাহের অন্য দিনে গেলে শান্তিতে ঘুরে দেখতে পারবেন। একই দিনে পানাম নগরও কভার করুন — মাত্র ১ কিমি দূরে।
ঢাকা থেকে সোনারগাঁও ট্রিপ প্ল্যান করতে Tripzao-তে সার্চ করুন — সেরা রুট ও প্যাকেজ এক জায়গায় পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সোনারগাঁও জাদুঘর কি প্রতিদিন খোলা থাকে?
না, বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। বাকি দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা।
সর্দারবাড়ির আলাদা টিকিট কত?
সর্দারবাড়িতে প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে ১০০ টাকা টিকিট কাটতে হয়। মূল জাদুঘরের টিকিট স্থানীয়দের জন্য ৫০ টাকা।
এখানে কি বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া যাবে?
অবশ্যই। বিশাল সবুজ প্রাঙ্গণ, পুকুর আর লোকশিল্পের নমুনা দেখে বাচ্চারাও বেশ আনন্দ পায়। শিক্ষামূলক পরিবেশ হওয়ায় স্কুলের ট্রিপের জন্যও আদর্শ।