শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য মুঘল স্থাপত্য — সোনাকান্দা দুর্গ। ১৬৬০ সালে মীর জুমলার নির্দেশে নির্মিত এই জলদুর্গটি একসময় ঢাকাকে নদীপথে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত। আজও এর ইটের প্রাচীর, বুরুজ আর কামানের গর্তগুলো সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
- প্রবেশ ফি: বিনামূল্যে
- নির্মাণকাল: ~১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ
- নির্মাতা: মীর জুমলা (মুঘল সুবাদার)
- অবস্থান: বন্দর উপজেলা, শীতলক্ষ্যার পূর্ব তীর, নারায়ণগঞ্জ
- ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ২০–২৫ কিমি
কেন সোনাকান্দা দুর্গ দেখবেন
মুঘল স্থাপত্যের প্রেমীদের জন্য এটি একটি বিশেষ গন্তব্য। তিন দিকে মাটির বাঁধ আর একদিকে শীতলক্ষ্যা নদী — এভাবেই দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুর্গের ভেতরে এখনও দেখা যায় সেই আমলের ইটের কাজ, বড় বড় বুরুজ এবং পানির কুয়া। ইতিহাস জানার পাশাপাশি নদীর দৃশ্য উপভোগ করাও এখানে একটা আলাদা অভিজ্ঞতা।
কীভাবে যাবেন সোনাকান্দা দুর্গ
ঢাকার সায়েদাবাদ বা গুলিস্তান থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জ। ভাড়া ৩০–৫০ টাকা।
শীতলক্ষ্যা পার হয়ে বন্দর যান। নৌকা ভাড়া ১০–২০ টাকা।
বন্দর ঘাট থেকে রিকশায় সোনাকান্দা দুর্গ — ১০–১৫ মিনিটের পথ।
কোথায় খাবেন ও থাকবেন
সোনাকান্দা দুর্গের আশেপাশে খাওয়ার বড় ব্যবস্থা নেই। নারায়ণগঞ্জ শহরে ফিরে হোটেলে খেতে পারবেন। দিনে গিয়ে দিনেই ফেরার পরিকল্পনা করাই ভালো।
নারায়ণগঞ্জ শহর
বিভিন্ন মানের হোটেল ৮০০–২,৫০০৳/রাত
ঢাকা থেকে দিনে ট্রিপ
সকাল গেলে বিকেলেই ফেরা সম্ভব
বাজেট ও খরচ
দুর্গের ভেতরে কিছু জায়গা জরাজীর্ণ — সাবধানে হাঁটুন। শীতলক্ষ্যায় নৌকায় পার হওয়ার সময় লাইফজ্যাকেট নিন। সন্ধ্যার পর থাকা ঠিক নয়।
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ট্রিপ প্ল্যান করতে Tripzao-তে সার্চ করুন — সেরা রুট ও প্যাকেজ এক জায়গায় পাবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সোনাকান্দা দুর্গ কে নির্মাণ করেছিলেন?
মুঘল সুবাদার মীর জুমলার নির্দেশে ১৬৬০ সালে সোনাকান্দা দুর্গ নির্মিত হয়। এটি মূলত ঢাকাকে নৌপথে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
সোনাকান্দা দুর্গ কি সারা বছর খোলা থাকে?
হ্যাঁ, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সাধারণত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খোলা থাকে। যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে একবার নিশ্চিত হয়ে নিন।
ঢাকা থেকে কতক্ষণে পৌঁছানো যায়?
বাস ও নৌকা মিলিয়ে প্রায় ১.৫–২ ঘণ্টা। সকালে রওনা দিলে বিকেলের মধ্যে ফিরে আসা সম্ভব।