সোনারগাঁওয়ের একটি গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সামনে পড়বে একটা সুউচ্চ গম্বুজ — লতায় ঢাকা, পাথরের গায়ে সময়ের দাগ। এই সমাধিতে শুয়ে আছেন বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ, যিনি চীনের মিং সম্রাটের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রেখেছিলেন, হাফিজের কবিতার সংশোধন করেছিলেন।
- অবস্থান: সাচিলপুর গ্রাম, মোগড়াপাড়া থেকে ৪ কিমি, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ
- প্রবেশমূল্য: বিনামূল্যে
- ঐতিহাসিক কাল: ১৫শ শতাব্দী (মৃত্যু আনু. ১৪১০)
- পাশের আকর্ষণ: পানাম নগর, সোনারগাঁও জাদুঘর
- সেরা সময়: শীতকাল, সকালের দিকে
সমাধির ইতিহাস
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান ছিলেন (আনু. ১৩৮৯–১৪১০)। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার সাথে চীন, পারস্য ও আরবের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। কথিত আছে, তিনি ফার্সি কবি হাফিজের একটি কবিতায় অসমাপ্ত লাইন পাঠান, আর হাফিজ নিজে সেটা পূর্ণ করেছিলেন। এই অনন্য ইতিহাসের অধিকারী সুলতানের সমাধি এখনো সোনারগাঁওয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে।
কীভাবে যাবেন
সোনারগাঁওগামী বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নামুন।
সিএনজি বা রিকশায় সাচিলপুর গ্রাম — দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার।
থাকা ও খাওয়া
ঢাকার কাছে হওয়ায় দিনে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা যায়। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় ও সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরের কাছে বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। রাত থাকতে চাইলে সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট বা নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেলে থাকুন।
সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম নগরের সাথে এই সমাধি একই দিনে দেখে নিন — সব কটিই পাশাপাশি।
সস্তায় ঢাকা যাওয়ার ফ্লাইট খুঁজতে Tripzao-তে সার্চ করুন — multi-city route-এ আরও বেশি সাশ্রয় হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কে ছিলেন?
বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান, যিনি ১৫শ শতাব্দীর শুরুতে রাজত্ব করেন। চীনের মিং সম্রাটের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পার্সি কবি হাফিজের সাথে যোগাযোগের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত।
সমাধিটি কি সংরক্ষিত?
সমাধিটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত।
পানাম নগর থেকে কতটা দূরে?
মোগড়াপাড়া থেকে সিএনজিতে যাওয়া যায়। পানাম নগর ও সোনারগাঁও জাদুঘরও কাছেই।
