ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে, ইছামতি নদীর শান্ত তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক রাজকীয় স্থাপনা — কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি। এখানে এলে সময় যেন একটু থমকে যায়।
- জেলা: ঢাকা
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ
- অবস্থান: কলাকোপা, নবাবগঞ্জ, ঢাকা
- প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে
- সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
- ধরন: Historical
কেন যাবেন কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের কলাকোপায় ইছামতি নদীর তীরে ১৮০০ শতকে জমিদার ব্রজেন রায় (সুদর্শন রায়) চার একর জমিতে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। নান্দনিক বাগানে ঘেরা ইটের দেয়াল, সরু বারান্দা ও স্থাপত্যশৈলীতে সেই আমলের জমিদারি ঐশ্বর্যের ছাপ স্পষ্ট। ইতিহাসপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্থান থেকে বান্দুরাগামী বাসে সরাসরি কলাকোপায় নামা যায়। ভাড়া ৫০–৮০৳, সময় ১.৫–২ ঘণ্টা।
বাবুবাজার ব্রিজ বা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু (৩য় বুড়িগঙ্গা সেতু) দিয়ে দোহার হয়ে নবাবগঞ্জের কলাকোপায় আসুন। দূরত্ব ৪০ কি.মি.।
কলাকোপা বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা অটোতে জমিদার বাড়ি। ভাড়া ২০–৪০৳।
কী দেখবেন
জমিদার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে পুরনো ইটের কারুকাজ, প্রশস্ত দালান ও সরু বারান্দা। বাড়িটি এখন অনেকটাই জরাজীর্ণ, কিন্তু সেই ভগ্নদশাও এক অদ্ভুত সৌন্দর্য তৈরি করে। ইছামতি নদীর তীরঘেঁষা পরিবেশে সূর্যাস্তের সময়টা বিশেষভাবে মনোরম। পাশে নদীতে নৌকায় কিছুটা সময় কাটানো যায়।
কোথায় থাকবেন
ঢাকার এত কাছে হওয়ায় দিনেই ঘুরে আসা যায়। তবে রাতে থাকতে চাইলে নবাবগঞ্জ বা দোহার শহরে সাধারণ আবাসিক হোটেল পাবেন।
নবাবগঞ্জ / দোহার শহর
৳৩০০–৳৮০০/রাত
ঢাকা শহরে ফিরে থাকুন
৳৫০০–৳২,০০০/রাত
কোথায় খাবেন
কলাকোপা বাজারে সাধারণ দেশীয় খাবারের দোকান আছে। ভাত, ডাল ও মাছের তরকারি পাওয়া যায় মাত্র ৮০–১৫০৳-এ। নদীর তাজা মাছ খেতে চাইলে নবাবগঞ্জের স্থানীয় হোটেলে চলে আসুন।
আনুমানিক বাজেট
সকাল সকাল রওনা দিন — বাবুবাজার ব্রিজে সকালে যানজট কম থাকে। সাথে কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ির পাশেই খেলারাম দাতার বাড়ি দেখে নিতে পারেন।
জমিদার বাড়িটি পুরনো ও জরাজীর্ণ — পুরনো দেয়াল বা ছাদে হেলান দেবেন না। ভ্রমণের আগে যোগাযোগ করে জেনে নিন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত কিনা।
ঢাকা ভ্রমণের জন্য সাশ্রয়ী যাতায়াত খুঁজতে Tripzao এ দেখুন — বাস, ট্রেন ও প্যাকেজ একসাথে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি যেতে কত খরচ হয়?
বাসে আসা-যাওয়া ১৫০–২০০৳, খাওয়া ২০০৳ মিলিয়ে মোট ৩৫০–৫০০৳ মাথাপিছু যথেষ্ট। প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি যাওয়ার সেরা সময় কোনটা?
শীতকালে (অক্টোবর–মার্চ) ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক। ভোরে বা সন্ধ্যার আগে ইছামতি নদীর পাশে অসাধারণ পরিবেশ থাকে।
কোকিল পেয়ারী জমিদার বাড়ি কি day trip এ যাওয়া যায়?
অবশ্যই — ঢাকা থেকে ৪০ কি.মি., সকালে রওনা হলে সহজেই দিনেই ফিরে আসা যায়।