bangladesh · Editorial

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক, রাঙ্গামাটি

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত একটা চমৎকার সড়ক।

Photograph · Collected for Tripzao Journal

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত একটা চমৎকার সড়ক। দুই পাশে কাটা পাহাড় আর গভীর খাদ নিয়ে এই রাস্তাটি যেমন চমৎকার, তেমনি রোমাঞ্চকর।


দ্রুত তথ্য
  • অবস্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক, রাঙ্গামাটি

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক, রাঙ্গামাটি সম্পর্কে

বহু সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধও থাকতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা এই নতুন রাস্তাটি এখনো বহুটাই অফবিট, রহস্যময় এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য একদম পারফেক্ট। বাংলাদেশে বসেই যদি আপনি লাদাখের মতো রোমাঞ্চকর বাইকিং অনুভূতি পেতে চান তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রাজস্থলী–ফারুয়া (Rajasthali-Farua Border Road) সীমান্ত সড়ক।

এখান থেকে পাহাড়ের সারির এক অসাধারণ প্যানোরামিক ভিউ পাওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে প্রথমে ঢাকা থেকে বাসে করে বান্দরবান শহরে পৌঁছাতে হবে।

কোথায় থাকবেন

রাজস্থলী বা ফারুয়া এলাকাে থাকার মতো উন্নত মানের হোটেল বা রিসোর্ট এখনো গড়ে ওঠেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজস্থলী থেকে ফারুয়ার দিকে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়। ভ্রমণ টিপস:পাহাড়ের এই রাস্তাটি বেশ খাড়া এবং বহু জায়গায় বালু থাকে, বৃষ্টিতে কাদা থাকে, তাই বাইক চালানোর সময় খুব সাবধান অবলম্বন করতে হবে।

আর পাহাড়ি অঞ্চলর একদম শেষ প্রান্তে রয়েছে ফারুয়া বাজারে ছোট ভাতের হোটেল থাকলেও রাজস্থলী পার হওয়ার পর খাবারের দোকান পাওয়া যাবে না। সড়কটি রাঙ্গামাটি জেলায় পরলেও বান্দরবান হয়ে যাতায়াত করা সহজ। এরপর বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বাঙ্গাল হালিয়া বাজারে রওনা দিতে হবে, যা মূলত রাজস্থলী যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, গভীর খাদ, সবুজে মোড়া উপত্যকা আর নিস্তব্ধতা সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম চমৎকার রোড ট্রিপ রুট। এছাড়া শহরের ভেতর নানা মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী রুম পেয়ে যাবেন। সায়চল ভিউ পয়েন্ট: ছবি তুলার জন্য চমৎকার জায়গা।

এই পথের বিশেষ আকর্ষণ হলো এর জিগজ্যাগ রোড বা জেড (Z) ক্যাটাগরির রাস্তা, যা প্রায়ই হিমালয়ের দুর্গম গিরিপথগুলোতে দেখতে পাওয়া যায়। যারা যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে নির্জন পাহাড় আর মেঘের মিতালি দেখতে চান, তাদের জন্য এই রুটটি হতে পারে সেরা গন্তব্য। অনুমতি ছাড়া ভ্রমণের চেষ্টা করবেন না, নিজের নিরাপত্তার জন্যে অনুমতি নিয়ে তারপর যাবেন।

তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে যাবেন। অফরোডের জন্য ভালো গ্রিপের টায়ার নিশ্চিত করুন। পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি ও গোপনীয়তাকে সম্মান করুন।

যদিও চাইলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টও ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তা ইস্যু আছে। রাজস্থলী থেকে সাইচল ভিউ পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, আর এই অংশটাই পুরো ট্রিপের সর্বাধিক রোমাঞ্চকর ও চমৎকার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

বান্দরবান শহরে ও আশেপাশে বেশ সব মানের হোটেল ও রিসোর্ট আছে। আরাছড়া ও গবাছড়া: দেখার সুযোগ পাবেন সড়কের পাশের ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ ও ঝরনাধারা। বসন্তের শুষ্ক সময়েও পাহাড়ের এই রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবে, আর বর্ষায় এর সজীবতা যেন অন্য কেবলা পায়।

রাজস্থলী-ফারুয়া সড়কের দর্শনীয় জায়গাসমূহজিগজ্যাগ রোড: লাদাখের পাসের মতো আঁকাবাঁকা এই রাস্তাটি সড়কের সর্বাধিক দর্শনীয় অংশ। এরপর রাজস্থলী বাজার পার হওয়ার পর ফারুয়া ও সাইচল ভিউ পয়েন্টের দিকে যেতে হলে আর্মি চেকপোস্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। আঁকাবাঁকা এই রাস্তাটি পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো নিচে নেমে গেছে, আবার কোথাও খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে গেছে আকাশের পানে।

নিজের সেইফটি গিয়ার নিশ্চিত করুন। জনশূন্য পাহাড়ি রাস্তায় একা একা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকাই ভালো। সীমান্ত অঞ্চলয় মোবাইল নেটওয়ার্ক বহু সময় কাজ করে না, তাই আগে থেকেই মোবাইলে ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন বা প্রয়োজনে জায়গাীয়দের সাহায্য নিন।

এই পথ যেতে প্রায়ই প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে এবং রাস্তার আঁকাবাঁকা অংশগুলো বাইক রাইডিং বা কর্নারিংয়ের জন্য বেশ উপভোগ্য।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রাজস্থলী–ফারুয়া রোডের সৌন্দর্য উপভোগের জন্যে সর্বাধিক ভালো মাধ্যম হলো নিজস্ব বাইক বা গাড়ি। বাঙ্গাল হালিয়া বাজার থেকে ডানদিকে মোড় নিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোলে ২০–২৫ মিনিটের মধ্যেই রাজস্থলী পৌঁছানো যায়। বান্দরবানের সকল হোটেল ও রিসোর্ট সম্পর্কে জানতে পড়ুন আমাদের বান্দরবানের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট ব্লগ।

তাই সবচেয়ে ভালো অপশন হলো বান্দরবান শহরে থাকা।

কোথায় খাবেন

বান্দরবান শহর খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা কারণ এখানে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সাধারণ প্রায় সব ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। প্রিমিয়াম অভিজ্ঞাতা পেতে চাইলে নীলগিরি বা নীলাচল রোডে রয়েছে রিসোর্টগুলোতে থাকতে পারেন। তাই এই রুটে ভ্রমণের সময় সাথে শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি রাখুন।

ফারুয়া বাজার: জায়গাীয় পাহাড়ি জীবন ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতে এই বাজারটি সবার পছন্দ। যাত্রা পথে বাঙ্গাল হালিয়া বাজার একটা ভালো অপশন। সীমান্ত পয়েন্ট: সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।

অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তুলবেন না। আপনি চাইলে এখানে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন। আরও পড়ুনচন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট, রাঙ্গামাটিঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার উপায়, ভাড়া ও অন্যান্য তথ্যক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর, রাঙ্গামাটিগাংচিল আইল্যান্ড, রাঙ্গামাটি

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে রাজস্থলী–ফারুয়া রোডের সৌন্দর্য উপভোগের জন্যে সর্বাধিক ভালো মাধ্যম হলো নিজস্ব বাইক বা গাড়ি।

রাজস্থলী থেকে সাইচল ভিউ পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, আর এই অংশটাই পুরো ট্রিপের সর্বাধিক রোমাঞ্চকর ও চমৎকার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

এই পথ যেতে প্রায়ই প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে এবং রাস্তার আঁকাবাঁকা অংশগুলো বাইক রাইডিং বা কর্নারিংয়ের জন্য বেশ উপভোগ্য।

বহু সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধও থাকতে পারে।

এরপর রাজস্থলী বাজার পার হওয়ার পর ফারুয়া ও সাইচল ভিউ পয়েন্টের দিকে যেতে হলে আর্মি চেকপোস্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়।

যদিও চাইলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টও ব্যবহার করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

রাজস্থলী বা ফারুয়া এলাকাে থাকার মতো উন্নত মানের হোটেল বা রিসোর্ট এখনো গড়ে ওঠেনি। প্রিমিয়াম অভিজ্ঞাতা পেতে চাইলে নীলগিরি বা নীলাচল রোডে রয়েছে রিসোর্টগুলোতে থাকতে পারেন। বান্দরবান শহরে ও আশেপাশে বেশ সব মানের হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এছাড়া শহরের ভেতর নানা মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী রুম পেয়ে যাবেন। তাই সবচেয়ে ভালো অপশন হলো বান্দরবান শহরে থাকা। বান্দরবানের সকল হোটেল ও রিসোর্ট সম্পর্কে জানতে পড়ুন আমাদের বান্দরবানের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট ব্লগ।

কোথায় খাবেন?

বান্দরবান শহর খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা কারণ এখানে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সাধারণ প্রায় সব ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। সীমান্ত অঞ্চলয় মোবাইল নেটওয়ার্ক বহু সময় কাজ করে না, তাই আগে থেকেই মোবাইলে ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন বা প্রয়োজনে জায়গাীয়দের সাহায্য নিন। অনুমতি ছাড়া ভ্রমণের চেষ্টা করবেন না, নিজের নিরাপত্তার জন্যে অনুমতি নিয়ে তারপর যাবেন। জনশূন্য পাহাড়ি রাস্তায় একা একা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকাই ভালো। পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি ও গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। যাত্রা পথে বাঙ্গাল হালিয়া বাজার একটা ভালো অপশন। আর পাহাড়ি অঞ্চলর একদম শেষ প্রান্তে রয়েছে ফারুয়া বাজারে ছোট ভাতের হোটেল থাকলেও রাজস্থলী পার হওয়ার পর খাবারের দোকান পাওয়া যাবে না। আপনি চাইলে এখানে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন। তাই এই রুটে ভ্রমণের সময় সাথে শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি রাখুন। নিজের সেইফটি গিয়ার নিশ্চিত করুন। নিরাপত্তা ইস্যু আছে। অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তুলবেন না। ভ্রমণ টিপস: পাহাড়ের এই রাস্তাটি বেশ খাড়া এবং বহু জায়গায় বালু থাকে, বৃষ্টিতে কাদা থাকে, তাই বাইক চালানোর সময় খুব সাবধান অবলম্বন করতে হবে। অফরোডের জন্য ভালো গ্রিপের টায়ার নিশ্চিত করুন। আরও পড়ুনচন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট, রাঙ্গামাটিঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার উপায়, ভাড়া ও অন্যান্য তথ্যক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাদুঘর, রাঙ্গামাটিগাংচিল আইল্যান্ড, রাঙ্গামাটি

✈️ Tripzao টিপ

বাংলাদেশ ভ্রমণে ফ্লাইট বুক করতে Tripzao তে সার্চ করুন — সেরা দামে দেশের যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার ticket পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক, রাঙ্গামাটি কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে রাজস্থলী–ফারুয়া রোডের সৌন্দর্য উপভোগের জন্যে সর্বাধিক ভালো মাধ্যম হলো নিজস্ব বাইক বা গাড়ি। রাজস্থলী থেকে সাইচল ভিউ পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, আর এই অংশটাই পুরো ট্রিপের সর্বাধিক রোমাঞ্চকর ও চমৎকার অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই পথ যেতে প্রায়ই প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে এবং রাস্তার আঁকাব

ঢাকা এলাকায় কোথায় থাকবেন?

রাজস্থলী বা ফারুয়া এলাকাে থাকার মতো উন্নত মানের হোটেল বা রিসোর্ট এখনো গড়ে ওঠেনি। প্রিমিয়াম অভিজ্ঞাতা পেতে চাইলে নীলগিরি বা নীলাচল রোডে রয়েছে রিসোর্টগুলোতে থাকতে পারেন। বান্দরবান শহরে ও আশেপাশে বেশ সব মানের হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এছাড়া শহরের ভেতর নানা মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে আপনার বাজেট ও

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক, রাঙ্গামাটি সম্পর্কে সংক্ষেপে কী জানা দরকার?

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত একটা চমৎকার সড়ক। দুই পাশে কাটা পাহাড় আর গভীর খাদ নিয়ে এই রাস্তাটি যেমন চমৎকার, তেমনি রোমাঞ্চকর। বহু সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধও থাকতে পারে

তথ্য সূত্র: Vromon Guide

A
About the Author
Ahsan_Hisham

Tripzao Journal writer — travel journalist covering Asia, Europe and beyond.